জয়পুরহাটে দুইদিনের ব্যবধানে একজনের করোনার রিপোর্ট দুই রকম!
jugantor
জয়পুরহাটে দুইদিনের ব্যবধানে একজনের করোনার রিপোর্ট দুই রকম!

  জয়পুরহাট  প্রতিনিধি  

০৭ জুলাই ২০২০, ২১:২৫:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

জয়পুরহাটে দুইদিনের ব্যবধানে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় ওমপ্রকাশ আগরওয়ালা (৬৪) নামে এক সংবাদকর্মীর দুই ধরনের রিপোর্ট এসেছে। সোমবারের নমুনা পরীক্ষায় রিপোর্টে ‘পজিটিভ’ আসলেও বুধবারের রিপোর্ট এসেছে ‘নেগেটিভ’।

‘এর মধ্যে কোন্ রিপোর্টটি সঠিক?’ এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টের যথার্থতা নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা শহরে বসবাসকারী স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংবাদকর্মী ওমপ্রকাশ আগরওয়ালা গত ২৯ জুন সস্ত্রীক আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য তার নমুনা জমা দেন। এর পর ১ জুলাই তিনি জয়পুরহাট প্রেস ক্লাব ভবনে উপস্থিত হয়ে সিভিল সার্জন অফিসের ব্যবস্থাপনায় অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে পুনরায় তার নমুনা জমা দেন।

সোমবার রাত ৯টায় ঢাকার ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেন্স সেন্টার থেকে ২৯ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত জয়পুরহাট জেলা থেকে পাঠানো ৩৯২টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের রিপোর্ট আসে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে।

ওই ফলাফল পাওয়ার পর সোমবার রাত ৯টার পর আক্কেলপুর হাসপাতাল থেকে একজন স্বাস্থ্যকর্মী ওমপ্রকাশ আগরওয়ালা দম্পতির করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অপরদিকে জয়পুরহাট প্রেস ক্লাব থেকে পাঠানো ১২ জন সংবাদকর্মীর রিপোর্টে সবার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল ‘নেগেটিভ’ পাওয়া যায়।

এ খবর তাকে জানানো হলে তিনি বলেন, আগের রিপোর্টে তো পজিটিভ এসেছে। দুইদিনের ব্যবধানে একই ব্যক্তির পজিটিভ ও নেগেটিভ ফলাফল পেয়ে বিস্মিত জয়পুরহাটের সংবাদকর্মীরা।

এ ব্যাপারে প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খ ম আবদুর রহমান রনি বলেন, ‘এমনিতেই ১০ থেকে ১৫ দিন পর নমুনার ফলাফল আসা নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছে। সেখানে এমন ফলাফল মানুষের মনে শঙ্কা আরও বাড়াবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জয়পুরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. সেলিম মিঞা জানান, ‘স্বাস্থ্য বিভাগের মতে করোনা টেস্ট কিটের রিপোর্টের ফলাফলে ৩০ ভাগ রিপোর্ট কম-বেশি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যদি কারো নেগেটিভ ও পজিটিভ ২ ধরনের রিপোর্ট আসে তাহলে আমরা পজিটিভটাকে গ্রহণ করব। এ ছাড়া যখন করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয় তখন যে স্বাস্থ্যকর্মী এটা সংগ্রহ করবে তার সংগ্রহ কৌশলের ওপরও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং প্রশিক্ষণবিহীন স্বাস্থ্যকর্মীর নমুনা সংগ্রহ কৌশলের কারণেও এমনটি ঘটার সম্ভাবনা থাকে।’

ওমপ্রকাশ আগরওয়ালা বলেন, ‘সোমবার পজিটিভ আর বুধবার নেগেটিভ ফলাফল পেয়ে কিছু বুঝতে পারছি না। তবে ৭ দিন হোম আইসোলেশন-এ থাকার পর বগুড়ার টিএমএসএস বেসরকারি হাসপাতালে আরও একবার নমুনা পরীক্ষা করাব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

উল্লেখ্য, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. সেলিম মিঞার দেয়া তথ্যানুযায়ী মঙ্গলবার পর্যন্ত জয়পুরহাট জেলায় মোট ৫১১ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২২৮ জন। এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৮ হাজার ১৯টি। এর মধ্যে ৭ হাজার ৭২২ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত জয়পুরহাট জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনেরও মৃত্যু হয়নি।

জয়পুরহাটে দুইদিনের ব্যবধানে একজনের করোনার রিপোর্ট দুই রকম!

 জয়পুরহাট  প্রতিনিধি 
০৭ জুলাই ২০২০, ০৯:২৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জয়পুরহাটে দুইদিনের ব্যবধানে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় ওমপ্রকাশ আগরওয়ালা (৬৪) নামে এক সংবাদকর্মীর দুই ধরনের রিপোর্ট এসেছে। সোমবারের নমুনা পরীক্ষায় রিপোর্টে ‘পজিটিভ’ আসলেও বুধবারের রিপোর্ট এসেছে ‘নেগেটিভ’।

‘এর মধ্যে কোন্ রিপোর্টটি সঠিক?’ এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টের যথার্থতা নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা শহরে বসবাসকারী স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংবাদকর্মী ওমপ্রকাশ আগরওয়ালা গত ২৯ জুন সস্ত্রীক আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য তার নমুনা জমা দেন। এর পর ১ জুলাই তিনি জয়পুরহাট প্রেস ক্লাব ভবনে উপস্থিত হয়ে সিভিল সার্জন অফিসের ব্যবস্থাপনায় অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে পুনরায় তার নমুনা জমা দেন।

সোমবার রাত ৯টায় ঢাকার ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেন্স সেন্টার থেকে ২৯ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত জয়পুরহাট জেলা থেকে পাঠানো ৩৯২টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের রিপোর্ট আসে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে।

ওই ফলাফল পাওয়ার পর সোমবার রাত ৯টার পর আক্কেলপুর হাসপাতাল থেকে একজন স্বাস্থ্যকর্মী ওমপ্রকাশ আগরওয়ালা দম্পতির করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অপরদিকে জয়পুরহাট প্রেস ক্লাব থেকে পাঠানো ১২ জন সংবাদকর্মীর রিপোর্টে সবার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল ‘নেগেটিভ’ পাওয়া যায়।

এ খবর তাকে জানানো হলে তিনি বলেন, আগের রিপোর্টে তো পজিটিভ এসেছে। দুইদিনের ব্যবধানে একই ব্যক্তির পজিটিভ ও নেগেটিভ ফলাফল পেয়ে বিস্মিত জয়পুরহাটের সংবাদকর্মীরা।

এ ব্যাপারে প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খ ম আবদুর রহমান রনি বলেন, ‘এমনিতেই ১০ থেকে ১৫ দিন পর নমুনার ফলাফল আসা নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছে। সেখানে এমন ফলাফল মানুষের মনে শঙ্কা আরও বাড়াবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জয়পুরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. সেলিম মিঞা  জানান, ‘স্বাস্থ্য বিভাগের মতে করোনা টেস্ট কিটের রিপোর্টের ফলাফলে ৩০ ভাগ রিপোর্ট কম-বেশি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যদি কারো নেগেটিভ ও পজিটিভ ২ ধরনের রিপোর্ট আসে তাহলে আমরা পজিটিভটাকে গ্রহণ করব। এ ছাড়া যখন করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয় তখন যে স্বাস্থ্যকর্মী এটা সংগ্রহ করবে তার সংগ্রহ কৌশলের ওপরও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং প্রশিক্ষণবিহীন স্বাস্থ্যকর্মীর নমুনা সংগ্রহ কৌশলের কারণেও এমনটি ঘটার সম্ভাবনা থাকে।’ 

ওমপ্রকাশ আগরওয়ালা বলেন, ‘সোমবার পজিটিভ আর বুধবার নেগেটিভ ফলাফল পেয়ে কিছু বুঝতে পারছি না। তবে ৭ দিন হোম আইসোলেশন-এ থাকার পর বগুড়ার টিএমএসএস বেসরকারি হাসপাতালে আরও একবার নমুনা পরীক্ষা করাব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

উল্লেখ্য, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. সেলিম মিঞার দেয়া তথ্যানুযায়ী মঙ্গলবার পর্যন্ত জয়পুরহাট জেলায় মোট ৫১১ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২২৮ জন। এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৮ হাজার ১৯টি। এর মধ্যে ৭ হাজার ৭২২ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত জয়পুরহাট জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনেরও মৃত্যু হয়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস