পাবনায় ১০ দিন ধরে করোনা পরীক্ষায় অচলাবস্থা
jugantor
পাবনায় ১০ দিন ধরে করোনা পরীক্ষায় অচলাবস্থা

  পাবনা প্রতিনিধি  

০৭ জুলাই ২০২০, ২২:১৭:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

পাবনায় মেডিকেল কলেজ থাকলেও করোনা নমুনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব নেই। রাজশাহী ল্যাবে পাবনা থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষা হতো। কিন্তু গত ১০ দিন ধরে রাজশাহী ল্যাবে পাবনার সংগৃহীত নমুনা নেয়া বন্ধ রয়েছে।

এতে করোনা নমুনা পরীক্ষায় অচলাবস্থার পাশাপাশি করোনার উপসর্গে থাকা এবং করোনা রোগী ও রোগীর স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কিট সংকটসহ ধারণ সক্ষমতা না থাকায় রাজশাহী ল্যাব পাবনার নমুনা নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন খুব অল্পসংখ্যক নমুনা বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। পাবনায় করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প ২টি এবং স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে ১টি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হবে। তবে তা অন্তত এক মাসের মধ্যে সম্ভব নয় বলে জানান জেলা প্রশাসন।

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল বলেন, রাজশাহীতে ৪টি পিসিআর ল্যাব রয়েছে। প্রতি ল্যাবে এক শিফটে ৯৪টি নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু নমুনার এতই চাপ যে ডাবল শিফটে পরীক্ষা করেও তারা শেষ করতে পারছেন না। এ জন্যই মূলত এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে জেলার নমুনা সংগ্রহ বন্ধ নেই। নমুনা বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে।

এ দিকে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাবনা থেকে আগে রাজশাহীতে প্রতিদিন যেখানে ৪০০/৫০০ নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতো, এখন এক সপ্তাহে ৪০০ থেকে ৫০০ নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

নমুনা পরীক্ষার এই অচলাবস্থা কাটাতে দ্রুত পাবনায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন জরুরি বলে জানান সিভিল সার্জন। তিনি জানান, এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের তরফ থেকে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট মহলে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসক ও জেলা কোভিড-১৯ বিষয়ক কমিটির সভাপতি কবীর মাহমুদ জানান, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে পাবনা মেডিকেল কলেজে ২টি এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১টি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কথা রয়েছে। কিন্তু তা এক মাসের মধ্যেও সম্ভব নয় বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এ দিকে পাবনায় মেডিকেল কলেজ থাকলেও নেই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালই সব চিকিৎসার একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেখানেও কোভিড আক্রান্তদের সুচিকিৎসা তো দূরের কথা নন-কোভিড অন্য রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাও নামমাত্র চলছে।

৬ জুলাই পর্যন্ত পাবনায় পুলিশ, চিকিৎসক, ব্যাংকার, সাংবাদিক ও স্বাস্থ্য কর্মীসহ মোট ৫৯৮ জন করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। এ পর্যন্ত করোনায় ১১ জন এবং করোনা উপসর্গে ১২ জন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, ২৮ জুন পর্যন্ত ৫ হাজার ৬৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় এবং রিপোর্ট আসে ৪ হাজার ৩৫২ জনের। ৬ জলাই পর্যন্ত মোট নমুনা পাঠানো হয় ৬ হাজার ৫৩০ জনের এবং একই দিন পর্যন্ত প্রাপ্ত রিপোর্ট পাওয়া যায় ৬ হাজার ৪১৭ জনের।

পাবনায় ১০ দিন ধরে করোনা পরীক্ষায় অচলাবস্থা

 পাবনা প্রতিনিধি 
০৭ জুলাই ২০২০, ১০:১৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পাবনায় মেডিকেল কলেজ থাকলেও করোনা নমুনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব নেই। রাজশাহী ল্যাবে পাবনা থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষা হতো। কিন্তু গত ১০ দিন ধরে রাজশাহী ল্যাবে পাবনার সংগৃহীত নমুনা নেয়া বন্ধ রয়েছে।

এতে করোনা নমুনা পরীক্ষায় অচলাবস্থার পাশাপাশি করোনার উপসর্গে থাকা এবং করোনা রোগী ও রোগীর স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কিট সংকটসহ ধারণ সক্ষমতা না থাকায় রাজশাহী ল্যাব পাবনার নমুনা নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন খুব অল্পসংখ্যক নমুনা বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। পাবনায় করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প ২টি এবং স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে ১টি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হবে। তবে তা অন্তত এক মাসের মধ্যে সম্ভব নয় বলে জানান জেলা প্রশাসন।

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল বলেন, রাজশাহীতে ৪টি পিসিআর ল্যাব রয়েছে। প্রতি ল্যাবে এক শিফটে ৯৪টি নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু নমুনার এতই চাপ যে ডাবল শিফটে পরীক্ষা করেও তারা শেষ করতে পারছেন না। এ জন্যই মূলত এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে জেলার নমুনা সংগ্রহ বন্ধ নেই। নমুনা বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে।

এ দিকে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাবনা থেকে আগে রাজশাহীতে প্রতিদিন যেখানে ৪০০/৫০০ নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতো, এখন এক সপ্তাহে ৪০০ থেকে ৫০০ নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

নমুনা পরীক্ষার এই অচলাবস্থা কাটাতে দ্রুত পাবনায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন জরুরি বলে জানান সিভিল সার্জন। তিনি জানান, এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের তরফ থেকে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট মহলে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসক ও জেলা কোভিড-১৯ বিষয়ক কমিটির সভাপতি কবীর মাহমুদ জানান, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে পাবনা মেডিকেল কলেজে ২টি এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১টি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কথা রয়েছে। কিন্তু তা এক মাসের মধ্যেও সম্ভব নয় বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এ দিকে পাবনায় মেডিকেল কলেজ থাকলেও নেই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালই সব চিকিৎসার একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেখানেও কোভিড আক্রান্তদের সুচিকিৎসা তো দূরের কথা নন-কোভিড অন্য রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাও নামমাত্র চলছে।

৬ জুলাই পর্যন্ত পাবনায় পুলিশ, চিকিৎসক, ব্যাংকার, সাংবাদিক ও স্বাস্থ্য কর্মীসহ মোট ৫৯৮ জন করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। এ পর্যন্ত করোনায় ১১ জন এবং করোনা উপসর্গে ১২ জন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, ২৮ জুন পর্যন্ত ৫ হাজার ৬৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় এবং রিপোর্ট আসে ৪ হাজার ৩৫২ জনের। ৬ জলাই পর্যন্ত মোট নমুনা পাঠানো হয় ৬ হাজার ৫৩০ জনের এবং একই দিন পর্যন্ত প্রাপ্ত রিপোর্ট পাওয়া যায় ৬ হাজার ৪১৭ জনের।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

৩০ নভেম্বর, ২০২০