নমুনা সংগ্রহের এক মাসেও মেলেনি রিপোর্ট

  মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ০৭ জুলাই ২০২০, ২২:৩৮:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

যশোরের মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা সন্দেহে নমুনা দেয়ার মাস পার হলেও পরীক্ষার রিপোর্ট মেলেনি। স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো কর্মকর্তা এর সদুত্তর দিতে পারেননি।

ভুক্তভোগীদের কয়েকজন নমুনা দেয়ার কয়েকদিন পর থেকে দফায় দফায় খোঁজ নিয়ে রিপোর্ট না পেয়ে হতাশ হয়ে আরও দুই জায়গায় নমুনা দিয়েছেন। এতে রিপোর্ট পাওয়া গেলেও আজও এ হাসপাতাল থেকে রিপোর্ট মেলেনি।

এ ছাড়া ধারাবাহিকভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে নমুনা নেয়া হলেও তাদের কেউ রিপোর্ট হাতে পাননি। এতে একদিকে করোনা সন্দেহে নমুনা প্রদানকারীসহ স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অপরদিকে কেউ পজিটিভ হলে তাদের অবাধ চলাচলে আশপাশে করোনা সংক্রমণের আশংকা করছেন অনেকেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২ এপ্রিল থেকে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সন্দেহভাজন করেনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৩২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮০ জনের রিপোর্টে ৪০ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন। ২২ জন সুস্থ হয়ে উঠলেও ১৮ জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত ১০ জুন করোনা সন্দেহে পৌর এলাকার হাকোবা গ্রামের তপন জ্যোতি কুণ্ডুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু আজ অবধি তিনি রিপোর্ট পাননি।

ক্ষোভের সঙ্গে তিনি জানান, নমুনা দেয়ার ৩ দিন পর থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খবর নেন। কিন্তু প্রতিবারই তাকে বলা হয় আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। এভাবে সপ্তাহ পার হলে তিনি হতাশ হয়ে ১৫ জুন যশোরে নমুনা দেন, সেখানেও দেরি হলে তিনি ১৭ জুন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা প্রদানের ২ দিন পর হাতে পাওয়া রিপোর্টে জানতে পারেন তিনি করোনা নেগেটিভ।

একই মাসের ২০ তারিখে এ হাসপাতালে পৌর এলাকার হাসানুর রহমানসহ আরও ৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু তাদের কেউ রিপোর্ট পাননি।

হাসানুর রহমান বলেন, তিনি দুবাই থেকে ফিরে করোনা সন্দেহে নমুনা দেন। কিন্তু এখনও তিনি রিপোর্ট পাননি। তার মতো বাকিরা করোনা উপসর্গ নিয়ে নমুনা দিলেও তারাও পাননি বলে তিনি জানান।

১ জুলাই আলী হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা এসএম আবদুর রহিমসহ ১০ জন, ২ জুলাই নদ হোসেন, কবির হোসেন, আলী হোসেনসহ ৯ জন নমুনা প্রদান করেন। কিন্তু এদের কেউ আজও রিপোর্ট পাননি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শুভ্রারানী দেবনাথ বলেন, খুলনা বিভাগের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ আরটি-পিসিআর (রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন পলিমার্জ চেইন রিয়াকশন) ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু যশোর ও কুষ্টিয়ায় আপাতত বন্ধ থাকায় রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে।

গত ১০ জুন ও ২০ জুন তারিখের রিপোর্ট কেন পাওয়া যায়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা সিভিল সার্জন অফিসে পাঠান, কেন হচ্ছে না তারাই ভালো বলতে পারবেন।

গত ১০ জুন ও ২০ জুন তারিখের রিপোর্ট কেন পাওয়া যায়নি এমন প্রশ্ন করা হলে জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ল্যাবই ভালো বলতে পারবে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ল্যাবের কথা উল্লেখ করেননি।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত