রিকশাচালকের ছুরিকাঘাতে ছেলের পর প্রাণ গেল স্ত্রীর

  ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ০৮ জুলাই ২০২০, ২৩:২৩:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পারিবারিক কলহের জের ধরে হারেজ মিয়া নামে এক রিকশাচালকের ছুরিকাঘাতে তার ছেলে সোহাগের পর স্ত্রী মনোয়ারা বেগমও মারা গেছেন। বুধবার বিকাল ৫টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মনোয়ারা বেগম (৪০) মারা যান।

এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টায় নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে মারা যায় সোহাগ (১৫)।

মঙ্গলবার রাত ২টায় ফতুল্লার পশ্চিম ভোলাইল গেদ্দার বাজার এলাকায় শাহ আলমের ভাড়াটিয়া বাড়িতে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। মা ও ছেলেকে ছুরিকাঘাতের পর হারেজ মিয়া নিজেও পেটে ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তিনি ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, রিকশাচালক হারেজ মিয়া (৫৫) তার স্ত্রী হোসিয়ারি শ্রমিক মনোয়ারা বেগম (৪০) তাদের পুত্র গার্মেন্ট শ্রমিক সোহাগ (১৫) মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী বিথি আক্তার (১৩) গেদ্দার বাজারের পাশে শাহ আলমের টিনশেড বাড়িতে এক রুমে ভাড়া থাকেন। তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় সময় পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো।

মঙ্গলবার রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এ সময় হারেজ তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করলে ছেলে সোহাগ এসে তার মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। তখন হারেজ তার ছেলেকেও ছুরিকাঘাত করেন। এরপর নিজের পেটে নিজেই ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ওই সময় বিথি ঘুমিয়ে ছিল।

তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সোহাগকে মৃত ঘোষণা করেন এবং স্বামী-স্ত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

ওসি জানান, তারা দু'জন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মনোয়ারা বেগম বুধবার বিকাল ৫টায় মারা গেছেন। হারেজ মিয়ার অবস্থাও আশঙ্কাজনক সে নিজেই ছুরি দিয়ে তার পেটে আঘাত করলে ভুঁড়ি বেরিয়ে যায়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।

তিনি জানান, সোহাগের লাশ ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। তাদের আত্মীয়-স্বজন কেউ আসলে ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার দুটি লাশ হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও জানান, তাদের পরিবারে বেঁচে থাকা একমাত্র মেয়ে বিথিকে তাদের এক আত্মীয়র বাসায় রাখা হয়েছে। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় হলেও থানা ও গ্রামের নাম এখনও জানা যায়নি।

এলাকাবাসী জানান, হারেজ মিয়া তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গেদ্দার বাজার এলাকায় অনেক বছর যাবত বিভিন্ন বাসায় ভাড়ায় বসবাস করেছেন। তাদের বড় ছেলের নাম মনির হোসেন। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার কারণে চার বছর পূর্বে মনির হোসেন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। হারেজ মিয়া তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে অন্য পুরুষের সঙ্গে পরকীয়া সন্দেহ করেন। এ নিয়েই তাদের মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া হয়।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত