গরুর খামারে করোনার থাবা
jugantor
গরুর খামারে করোনার থাবা

  ভুঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি  

১৯ জুলাই ২০২০, ১৫:১১:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

গরুর খামারে করোনার থাবা
ছবি: যুগান্তর

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পরম যত্নে পশু লালন-পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভুঞাপুরের খামারিরা।

গত বছর পশুর ভালো দাম পেলেও করোনার কারণে এবার সঠিক মূল্য না পাওয়া নিয়ে চিন্তায় প্রহর কাটছে খামারিদের। আশঙ্কা রয়েছে লোকসানের।       

গত বছর এই সময়টাতে উপজেলার হাটবাজারগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও এবার তাদের দেখা না পাওয়ায় বিরাট লোকসানের শঙ্কায় আছেন তারা। ন্যায্য দাম না পেলে পথে বসতে হবে তাদের।

উপজেলার সর্ববৃহৎ গরুর খামারি ভুঞাপুরের গোবিন্দাসীর দুলাল হোসেন চকদারের খামারে থাকা শতাধিক বড় আকারের গরু নিয়েও পড়েছেন বিপাকে। এখন পর্যন্ত ক্রেতার দেখা না পাওয়ায় বিশাল অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

ভুঞাপুরের যমুনাবেষ্টিত চরাঞ্চলের গরিব কৃষকরা ঈদ সামনে রেখে প্রতি বছর দুই-একটি করে গরু প্রায় প্রতিটি পরিবারেই লালন-পালন করে থাকেন। এ বছরেও গাবসারা, গোবিন্দাসী ও অর্জুনা ইউনিয়নের হাজারখানেক গরু মোটাতাজা করে কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য পালন করছে।

গাবসারা ইউনিয়নের পুংলিপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল লতিফ জানান, প্রতি বছরের ন্যায় চরাঞ্চলের অনেক কৃষক লাভের আশায় গরু লালন-পালন করে থাকেন। ঈদের আগে বিক্রি করে বউ-বাচ্চাদের নিয়ে খেয়েপরে বেঁচে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, এবার দুটি গরু নিয়ে গুয়াদাইর হাটে  (গোবিন্দাসী) গিয়েছিলাম, কোনো ক্রেতা না পেয়ে আবার ফেরত নিয়ে আসি। লাভ তো দূরের কথা যে খরচ হইছে সে দামও কেউ কয় নাই।

খামারের শ্রমিকরা জানান, ঈদ কেন্দ্র করে গরু মোটাতাজা করতে তারা নির্ঘুম রাত পার করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো পাইকারের দেখা মিলছে না। খামার মালিক যদি গরুর ন্যায্য দাম না পায়, তা হলে তাদের শ্রম ও মজুরি পাওয়া নিয়ে সমস্যা হবে। খামারে কাজ করে তাদের সন্তানদের লেখাপড়া ও সংসার চলে বলে জানান তারা।

ভুঞাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শরীফ বাছেদ জানান, চরাঞ্চলসহ ভুঞাপুরের প্রতিটি গ্রামেই কৃষকরা গরু লালন-পালন করে থাকেন। এ রকম ছোট-বড় খামারি ও এর বাইরে অসংখ্য মানুষের ভবিষ্যতে হানা দিয়েছে করোনার থাবা।

তারা জানিয়েছেন পাইকার না এলে তাদের পথে বসতে হবে।

তিনি বলেন, ভারত থেকে গরু না এলে দেশের খামারিরা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে।

গরুর খামারে করোনার থাবা

 ভুঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি 
১৯ জুলাই ২০২০, ০৩:১১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গরুর খামারে করোনার থাবা
ছবি: যুগান্তর

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পরম যত্নে পশু লালন-পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভুঞাপুরের খামারিরা।

গত বছর পশুর ভালো দাম পেলেও করোনার কারণে এবার সঠিক মূল্য না পাওয়া নিয়ে চিন্তায় প্রহর কাটছে খামারিদের। আশঙ্কা রয়েছে লোকসানের।

গত বছর এই সময়টাতে উপজেলার হাটবাজারগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও এবার তাদের দেখা না পাওয়ায় বিরাট লোকসানের শঙ্কায় আছেন তারা। ন্যায্য দাম না পেলে পথে বসতে হবে তাদের।

উপজেলার সর্ববৃহৎ গরুর খামারি ভুঞাপুরের গোবিন্দাসীর দুলাল হোসেন চকদারের খামারে থাকা শতাধিক বড় আকারের গরু নিয়েও পড়েছেন বিপাকে। এখন পর্যন্ত ক্রেতার দেখা না পাওয়ায় বিশাল অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

ভুঞাপুরের যমুনাবেষ্টিত চরাঞ্চলের গরিব কৃষকরা ঈদ সামনে রেখে প্রতি বছর দুই-একটি করে গরু প্রায় প্রতিটি পরিবারেই লালন-পালন করে থাকেন। এ বছরেও গাবসারা, গোবিন্দাসী ও অর্জুনা ইউনিয়নের হাজারখানেক গরু মোটাতাজা করে কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য পালন করছে।

গাবসারা ইউনিয়নের পুংলিপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল লতিফ জানান, প্রতি বছরের ন্যায় চরাঞ্চলের অনেক কৃষক লাভের আশায় গরু লালন-পালন করে থাকেন। ঈদের আগে বিক্রি করে বউ-বাচ্চাদের নিয়ে খেয়েপরে বেঁচে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, এবার দুটি গরু নিয়ে গুয়াদাইর হাটে (গোবিন্দাসী) গিয়েছিলাম, কোনো ক্রেতা না পেয়ে আবার ফেরত নিয়ে আসি। লাভ তো দূরের কথা যে খরচ হইছে সে দামও কেউ কয় নাই।

খামারের শ্রমিকরা জানান, ঈদ কেন্দ্র করে গরু মোটাতাজা করতে তারা নির্ঘুম রাত পার করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো পাইকারের দেখা মিলছে না। খামার মালিক যদি গরুর ন্যায্য দাম না পায়, তা হলে তাদের শ্রম ও মজুরি পাওয়া নিয়ে সমস্যা হবে। খামারে কাজ করে তাদের সন্তানদের লেখাপড়া ও সংসার চলে বলে জানান তারা।

ভুঞাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শরীফ বাছেদ জানান, চরাঞ্চলসহ ভুঞাপুরের প্রতিটি গ্রামেই কৃষকরা গরু লালন-পালন করে থাকেন। এ রকম ছোট-বড় খামারি ও এর বাইরে অসংখ্য মানুষের ভবিষ্যতে হানা দিয়েছে করোনার থাবা।

তারা জানিয়েছেন পাইকার না এলে তাদের পথে বসতে হবে।

তিনি বলেন, ভারত থেকে গরু না এলে দেশের খামারিরা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস