হবিগঞ্জে নিবন্ধনবিহীন ৩১ প্রাইভেট হাসপাতাল
jugantor
হবিগঞ্জে নিবন্ধনবিহীন ৩১ প্রাইভেট হাসপাতাল

  সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, হবিগঞ্জ  

২৬ জুলাই ২০২০, ২২:১৯:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনার আছড় পড়েছে হবিগঞ্জেও। জেলায় ৩১টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিবন্ধন না নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। তাদের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই কিন্তু তারা দিব্যি চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতারিতও হচ্ছেন অনেক রোগী।

মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে অপচিকিৎসার শিকারও হন রোগীরা। এদের বিরুদ্ধে অভিযানের উদ্যোগ নিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কোনো অদৃশ্য কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের শেষ নেই।

এদিকে এসব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে শীঘ্রই অভিযানে নামার পরিকল্পনা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিভিল সার্জন ডা. একেএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিবন্ধন নেই ঠিক। কিন্তু এদের মধ্যে অনেকেই আবেদন করেছেন। এগুলো প্রক্রিয়াধীন আছে। তবে যারা আবেদনই করেনি তাদের বন্ধ করে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে অভিযান কিছুটা পিছিয়েছে। ঈদের আগে কিছু পরিদর্শন করা হবে। বাকিগুলো ঈদের পর করব। অবৈধগুলোর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, জেলায় বিগত কয়েক বছর ধরে প্রাইভেট হাসপাতাল মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৫ বছরেই মূলত এসব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠে। কেউ কাগজ করেন, কেউ করেননি। কেউ আবার আবেদনই করার প্রয়োজন মনে করেননি। অথচ চিকিৎসাসেবার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ তারা দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে।

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগীরা অপচিকিৎসার শিকার হন। অনেককেই অপচিকিৎসার শিকার হয়ে প্রাণও দিতে হয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের অন্ত নেই। খোদ জেলা শহরেই এমন নিবন্ধনবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ১০টি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধেও কোনো অদৃশ্য কারণে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাইভেট হাসপাতালের চরম প্রতারণার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে থাকলে নড়েচড়ে বসে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে তারা বৈধ ও অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৯৭টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে জেলা সদরে সবচেয়ে বেশি ৪৪টি। এরপরই মাধবপুর উপজেলা। এখানে ১৭টি। চুনারুঘাটে ৭টি, নবীগঞ্জে ৯টি, বাহুবলে ৪টি, আজমিরীগঞ্জে ২টি, বানিয়াচংয়ে ৬টি, লাখাইয়ে ৩টি ও শায়েস্তাগঞ্জে ৫টি রয়েছে।

এগুলোর মাঝে নিবন্ধনবিহীন রয়েছে ৩১টি। সদরে ১০টি, শায়েস্তাগঞ্জে ২টি, লাখাইয়ে ১টি, বানিয়াচংয়ে ৪টি, আজমিরীগঞ্জে ১টি, বাহুবলে ৪টি, নবীগঞ্জে ৩টি, চুনারুঘাটে ১টি ও মাধবপুরে ৭টি।

হবিগঞ্জে নিবন্ধনবিহীন ৩১ প্রাইভেট হাসপাতাল

 সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, হবিগঞ্জ 
২৬ জুলাই ২০২০, ১০:১৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনার আছড় পড়েছে হবিগঞ্জেও। জেলায় ৩১টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিবন্ধন না নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। তাদের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই কিন্তু তারা দিব্যি চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতারিতও হচ্ছেন অনেক রোগী।

মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে অপচিকিৎসার শিকারও হন রোগীরা। এদের বিরুদ্ধে অভিযানের উদ্যোগ নিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কোনো অদৃশ্য কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের শেষ নেই।

এদিকে এসব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে শীঘ্রই অভিযানে নামার পরিকল্পনা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিভিল সার্জন ডা. একেএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিবন্ধন নেই ঠিক। কিন্তু এদের মধ্যে অনেকেই আবেদন করেছেন। এগুলো প্রক্রিয়াধীন আছে। তবে যারা আবেদনই করেনি তাদের বন্ধ করে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে অভিযান কিছুটা পিছিয়েছে। ঈদের আগে কিছু পরিদর্শন করা হবে। বাকিগুলো ঈদের পর করব। অবৈধগুলোর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, জেলায় বিগত কয়েক বছর ধরে প্রাইভেট হাসপাতাল মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৫ বছরেই মূলত এসব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠে। কেউ কাগজ করেন, কেউ করেননি। কেউ আবার আবেদনই করার প্রয়োজন মনে করেননি। অথচ চিকিৎসাসেবার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ তারা দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে।

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগীরা অপচিকিৎসার শিকার হন। অনেককেই অপচিকিৎসার শিকার হয়ে প্রাণও দিতে হয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের অন্ত নেই। খোদ জেলা শহরেই এমন নিবন্ধনবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ১০টি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধেও কোনো অদৃশ্য কারণে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাইভেট হাসপাতালের চরম প্রতারণার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে থাকলে নড়েচড়ে বসে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে তারা বৈধ ও অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৯৭টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে জেলা সদরে সবচেয়ে বেশি ৪৪টি। এরপরই মাধবপুর উপজেলা। এখানে ১৭টি। চুনারুঘাটে ৭টি, নবীগঞ্জে ৯টি, বাহুবলে ৪টি, আজমিরীগঞ্জে ২টি, বানিয়াচংয়ে ৬টি, লাখাইয়ে ৩টি ও শায়েস্তাগঞ্জে ৫টি রয়েছে।

এগুলোর মাঝে নিবন্ধনবিহীন রয়েছে ৩১টি। সদরে ১০টি, শায়েস্তাগঞ্জে ২টি, লাখাইয়ে ১টি, বানিয়াচংয়ে ৪টি, আজমিরীগঞ্জে ১টি, বাহুবলে ৪টি, নবীগঞ্জে ৩টি, চুনারুঘাটে ১টি ও মাধবপুরে ৭টি।