সিলেটে মুজিববর্ষে বৃক্ষরোপণ করা জায়গায় পশুর হাট!
jugantor
সিলেটে মুজিববর্ষে বৃক্ষরোপণ করা জায়গায় পশুর হাট!

  সিলেট ব্যুরো  

২৬ জুলাই ২০২০, ২২:৪৩:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

সিলেট বিদ্যালয়, চা-বাগান কর্তৃপক্ষ এবং পরিবেশবাদীদের আপত্তি আমলে না নিয়েই লাক্কাতুরা এলাকার সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। যে স্কুল মাঠে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসন সেই স্কুল মাঠের চারপাশে মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর ১ কোটি গাছ লাগানোর জাতীয় কর্মসূচির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

গবাদিপশু যাতে চারাগুলো নষ্ট করতে না পারে তাই জাল দিয়ে চারপাশ ঘিরে রাখা হয়েছে। অথচ এই চারাগুলোর পাশে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা।
জানা গেছে, গত শুক্রবার থেকে এ সব স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এই মাঠে বসবে কোরবানির পশুর হাট। তারই প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, পশুর হাট বসালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে রোপণ করা চারাগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। এই মাঠের পাশেই সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও লাক্কাতুরা চা-বাগান। কোরবানি পশুর হাট বসলে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক লাগোয়া মহানগরের দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকস্থ কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল এবং টিলাগড় এলাকায় অবৈধ পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শনিবার এ দুটি মাঠে বাঁশ পোঁতাসহ প্যান্ডেল লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে।

তবে ট্রাক মালিক ও শ্রমিকরা টার্মিনাল এলাকায় ট্রাক পার্কিংয়ের স্থানে পশুর হাট বসানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, যে কোনো মূল্যে অবৈধ পশুর হাট বসানোর পাঁয়তারা রুখে দেয়া হবে। কিন্তু টিলাগড় এলাকায় আওয়ামী লীগের টিলাগড় গ্রুপের নেতারা অবৈধ পশুর হাট বসানোর জোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

এ দিকে সিলেট নগরীর এমসি কলেজ মাঠ ও আলিয়া মাদ্রাসা মাঠেও কোরবানির পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিল সিটি কর্পোরেশন। পরে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের আপত্তিতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সিসিক। কিন্তু আপত্তি সত্ত্বেও লাক্কাতুরার স্কুল মাঠে চলছে হাট বসানোর প্রস্তুতি।

এ বিষয়ে লাক্কাতুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইচএম জহির বলেন, এখানে পশুর হাট বসানোর ব্যাপারে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা আপত্তি জানিয়েছি। কিন্তু কেউ তা শোনেননি।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে গাছগুলোর জন্য। গত ১৮ জুলাই এগুলো মুজিববর্ষ উপলক্ষে লাগিয়েছিলাম আমরা। প্রধানমন্ত্রীর ১ কোটি গাছ লাগানোর জাতীয় কর্মসূচির এই গাছগুলোর সুরক্ষা নিয়ে চিন্তায় আছি। পাশাপাশি ফটকের ভেতরে পশুর হাট হলে বিদ্যালয় ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পশুর হাট বসালে ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) পরিচালিত লাক্কাতুরা চা-বাগানের চা-গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল টি কোম্পানির চা-বাগান কর্তৃপক্ষ। হাট বসানোর ব্যাপারে তারাও আপত্তি জানিয়েছে। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষের আপত্তিও আমলে নেয়া হয়নি।

লাক্কাতুরা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক আশরাফুল মতিন চৌধুরী বলেন, এখানে পশুর হাট বসালে বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ বিষয়টি ২২ জুলাই লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এরপরও পশুর হাট বসানোয় এনটিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ২১ লাখ টাকায় এ জায়গা ইজারা দেয়া হয় সৈয়দ আতিকুল রব চৌধুরী নামের এক ব্যক্তিকে।

এ ব্যাপারে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহুয়া মমতাজ সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা পরিষদ নিয়মিত সভা করে অস্থায়ী পশুর হাটের স্থান নির্ধারণ করে। এবার ওই স্থান বেছে নিয়ে পরিষদের সভায় চূড়ান্ত হয়। এরপর ইজারা প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের সভায় আপত্তিগুলো গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।

স্কুলের মাঠে পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। স্কুল মাঠে পশুর হাট বন্ধের দাবিতে গতকাল রোববার মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিম বলেন, সিটি কর্পোরেশন এমসি কলেজের কাছে পশুর হাট দিয়ে আবার বাতিল করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিবেচনায়। একই বিবেচনায় লাক্কাতুরা চা-বাগানের ভেতরে বিদ্যালয়ের মাঠ থেকেও পশুর হাট সরানো উচিত। এ ছাড়া এই মাঠে সম্প্রতি মুজিববর্ষ উপলক্ষে অনেক গাছ লাগানো হয়েছে। এগুলোর স্বার্থেও এখানে হাট বসানো উচিত হবে না। আমরা এমন হঠকারী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সিলেটে মুজিববর্ষে বৃক্ষরোপণ করা জায়গায় পশুর হাট!

 সিলেট ব্যুরো 
২৬ জুলাই ২০২০, ১০:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সিলেট বিদ্যালয়, চা-বাগান কর্তৃপক্ষ এবং পরিবেশবাদীদের আপত্তি আমলে না নিয়েই লাক্কাতুরা এলাকার সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। যে স্কুল মাঠে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসন সেই স্কুল মাঠের চারপাশে মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর ১ কোটি গাছ লাগানোর জাতীয় কর্মসূচির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

গবাদিপশু যাতে চারাগুলো নষ্ট করতে না পারে তাই জাল দিয়ে চারপাশ ঘিরে রাখা হয়েছে। অথচ এই চারাগুলোর পাশে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা। 
জানা গেছে, গত শুক্রবার থেকে এ সব স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এই মাঠে বসবে কোরবানির পশুর হাট। তারই প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, পশুর হাট বসালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে রোপণ করা চারাগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। এই মাঠের পাশেই সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও লাক্কাতুরা চা-বাগান। কোরবানি পশুর হাট বসলে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক লাগোয়া মহানগরের দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকস্থ কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল এবং টিলাগড় এলাকায় অবৈধ পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শনিবার এ দুটি মাঠে বাঁশ পোঁতাসহ প্যান্ডেল লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে।

তবে ট্রাক মালিক ও শ্রমিকরা টার্মিনাল এলাকায় ট্রাক পার্কিংয়ের স্থানে পশুর হাট বসানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, যে কোনো মূল্যে অবৈধ পশুর হাট বসানোর পাঁয়তারা রুখে দেয়া হবে। কিন্তু টিলাগড় এলাকায় আওয়ামী লীগের টিলাগড় গ্রুপের নেতারা অবৈধ পশুর হাট বসানোর জোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

এ দিকে সিলেট নগরীর এমসি কলেজ মাঠ ও আলিয়া মাদ্রাসা মাঠেও কোরবানির পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিল সিটি কর্পোরেশন। পরে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের আপত্তিতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সিসিক। কিন্তু আপত্তি সত্ত্বেও লাক্কাতুরার স্কুল মাঠে চলছে হাট বসানোর প্রস্তুতি।

এ বিষয়ে লাক্কাতুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইচএম জহির বলেন, এখানে পশুর হাট বসানোর ব্যাপারে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা আপত্তি জানিয়েছি। কিন্তু কেউ তা শোনেননি।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে গাছগুলোর জন্য। গত ১৮ জুলাই এগুলো মুজিববর্ষ উপলক্ষে লাগিয়েছিলাম আমরা। প্রধানমন্ত্রীর ১ কোটি গাছ লাগানোর জাতীয় কর্মসূচির এই গাছগুলোর সুরক্ষা নিয়ে চিন্তায় আছি। পাশাপাশি ফটকের ভেতরে পশুর হাট হলে বিদ্যালয় ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পশুর হাট বসালে ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) পরিচালিত লাক্কাতুরা চা-বাগানের চা-গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল টি কোম্পানির চা-বাগান কর্তৃপক্ষ। হাট বসানোর ব্যাপারে তারাও আপত্তি জানিয়েছে। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষের আপত্তিও আমলে নেয়া হয়নি।

লাক্কাতুরা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক আশরাফুল মতিন চৌধুরী বলেন, এখানে পশুর হাট বসালে বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ বিষয়টি ২২ জুলাই লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এরপরও পশুর হাট বসানোয় এনটিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ২১ লাখ টাকায় এ জায়গা ইজারা দেয়া হয় সৈয়দ আতিকুল রব চৌধুরী নামের এক ব্যক্তিকে।

এ ব্যাপারে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহুয়া মমতাজ সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা পরিষদ নিয়মিত সভা করে অস্থায়ী পশুর হাটের স্থান নির্ধারণ করে। এবার ওই স্থান বেছে নিয়ে পরিষদের সভায় চূড়ান্ত হয়। এরপর ইজারা প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের সভায় আপত্তিগুলো গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।

স্কুলের মাঠে পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। স্কুল মাঠে পশুর হাট বন্ধের দাবিতে গতকাল রোববার মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিম বলেন, সিটি কর্পোরেশন এমসি কলেজের কাছে পশুর হাট দিয়ে আবার বাতিল করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিবেচনায়। একই বিবেচনায় লাক্কাতুরা চা-বাগানের ভেতরে বিদ্যালয়ের মাঠ থেকেও পশুর হাট সরানো উচিত। এ ছাড়া এই মাঠে সম্প্রতি মুজিববর্ষ উপলক্ষে অনেক গাছ লাগানো হয়েছে। এগুলোর স্বার্থেও এখানে হাট বসানো উচিত হবে না। আমরা এমন হঠকারী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।