চট্টগ্রামে গরু বিক্রি কম, বেড়েছে ছাগলের কদর
jugantor
চট্টগ্রামে গরু বিক্রি কম, বেড়েছে ছাগলের কদর

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৭ জুলাই ২০২০, ২৩:১৪:০৭  |  অনলাইন সংস্করণ

আবুল কাশেম। গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়ার সোনাকানিয়া ইউনিয়নে। জহুর হকার্স মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী। করোনার আগে মোটামুটি ভালো ব্যবসা করতেন। প্রতি বছর কোরবানি করতেন ৬০ হাজার টাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা দামের গরু।

কিন্তু এবার তিনি ছাগল কোরবানি করবেন বলে মনস্থির করেছেন। কেননা বৈশ্বিক মহামারী করোনায় তার ব্যবসা বাণিজ্য নেই বললেই চলে। আগের মতো গরু দিয়ে কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য নেই তার।

শুধু আবুল কাশেম নন, মধ্যবিত্ত আয়ের অনেকেই এবার গরুর আশা ছেড়ে দিয়ে ছাগল কোরবানির দিকে ঝুঁকছেন। ফলে চট্টগ্রামে বেড়েছে ছাগলের কদর। শুধু নগরীতে নয়, উপজেলার পশুর হাটগুলোতেও বেড়েছে ছাগলের কদর। তবে ছাগলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও কিছুটা বেড়েছে। বেশিরভাগ ছাগল ৮ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

আবুল কাশেম যুগান্তরকে বলেন, প্রতি বছর রমজানে লাখ লাখ টাকা ব্যবসা বাণিজ্য হয়। কিন্তু করোনার কারণে এ বছর ২৪ মার্চ দোকান বন্ধ রেখে বাড়িতে চলে যেতে হয়েছে। দোকান খুলেছি মাত্র কিছুদিন হয়েছে। দোকান খুললেও ব্যবসা বাণিজ্য নেই। দোকানে দুইজন কর্মচারী আছেন। তাদের বেতন দিতে হবে। দোকান ভাড়া দিতে হবে। প্রতি বছর গরু দিয়ে কোরবানি দিলেও এ বছর সম্ভব হবে না। কোনরকমে একটি ছাগল দিয়ে কোরবানি আদায় করতে হবে।

নগরীর গরুর বাজার এখনও না জমলেও নগরীর একমাত্র দেওয়ান হাট ছাগলের বাজারে বেচাকেনা জমে উঠেছে। বাজারটিতে ব্যাপারীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত ছাগল নিয়ে এসেছেন। এছাড়া নগরীর গরুর বাজারগুলোতেও প্রচুর ছাগল আনা হয়েছে। গরুর তুলনায় ছাগলের বিকিকিনি এবার আগেভাগেই জমে উঠেছে। প্রতি বছর যে সংখ্যক মানুষ ছাগলে ঝুঁকেন, এবার সেই সংখ্যা অনেক বেশি।

ছাগল ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদের বাকি আর মাত্র ৪ দিন। প্রতি বছর এ সময় নগরীর বাজারগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসে প্রচুর গরু। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। করোনা সংক্রমণের কারণে থমকে যাওয়া সবকিছুর মতো কোরবানির পশুর হাটেও লেগেছে সেই ধাক্কা। ফলে ট্রাকে ট্রাকে গরু নিয়ে বেপারিরা আসছেন ঠিকই, তবে গত বছরের মতো নয়। পশুর বাজারগুলো এখনও জমে উঠেনি। রোববার ও সোমবার গরুর বাজারে তেমন ক্রেতা দেখা যায়নি।

দেওয়ান হাটের ছাগল ব্যবসায়ী শফিক যুগান্তরকে জানান, অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর ছাগল বিক্রি বেশি। শনিবার থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক ছাগল বিক্রি হয়েছে। যা অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি। আমাদের ধারণা হয়তো করোনার কারণে মানুষ গরু কিনতে না পেরে ছাগল দিয়ে কোরবানি দিচ্ছেন।

পশুর স্থায়ী হাটগুলো হচ্ছে সাগরিকা পশুর বাজার, বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার। অস্থায়ী চারটি বাজার হচ্ছে কমল মহাজন হাট পশু বাজার, সল্টগোলা গরুর বাজার ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ড বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টিকে গ্রুপের খালি মাঠ এবং কর্ণফুলী পশুর বাজার।

চট্টগ্রামে গরু বিক্রি কম, বেড়েছে ছাগলের কদর

 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৭ জুলাই ২০২০, ১১:১৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আবুল কাশেম। গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়ার সোনাকানিয়া ইউনিয়নে। জহুর হকার্স মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী। করোনার আগে মোটামুটি ভালো ব্যবসা করতেন। প্রতি বছর কোরবানি করতেন ৬০ হাজার টাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা দামের গরু।

কিন্তু এবার তিনি ছাগল কোরবানি করবেন বলে মনস্থির করেছেন। কেননা বৈশ্বিক মহামারী করোনায় তার ব্যবসা বাণিজ্য নেই বললেই চলে। আগের মতো গরু দিয়ে কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য নেই তার।

শুধু আবুল কাশেম নন, মধ্যবিত্ত আয়ের অনেকেই এবার গরুর আশা ছেড়ে দিয়ে ছাগল কোরবানির দিকে ঝুঁকছেন। ফলে চট্টগ্রামে বেড়েছে ছাগলের কদর। শুধু নগরীতে নয়, উপজেলার পশুর হাটগুলোতেও বেড়েছে ছাগলের কদর। তবে ছাগলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও কিছুটা বেড়েছে। বেশিরভাগ ছাগল ৮ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

আবুল কাশেম যুগান্তরকে বলেন, প্রতি বছর রমজানে লাখ লাখ টাকা ব্যবসা বাণিজ্য হয়। কিন্তু করোনার কারণে এ বছর ২৪ মার্চ দোকান বন্ধ রেখে বাড়িতে চলে যেতে হয়েছে। দোকান খুলেছি মাত্র কিছুদিন হয়েছে। দোকান খুললেও ব্যবসা বাণিজ্য নেই। দোকানে দুইজন কর্মচারী আছেন। তাদের বেতন দিতে হবে। দোকান ভাড়া দিতে হবে। প্রতি বছর গরু দিয়ে কোরবানি দিলেও এ বছর সম্ভব হবে না। কোনরকমে একটি ছাগল দিয়ে কোরবানি আদায় করতে হবে।

নগরীর গরুর বাজার এখনও না জমলেও নগরীর একমাত্র দেওয়ান হাট ছাগলের বাজারে বেচাকেনা জমে উঠেছে। বাজারটিতে ব্যাপারীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত ছাগল নিয়ে এসেছেন। এছাড়া নগরীর গরুর বাজারগুলোতেও প্রচুর ছাগল আনা হয়েছে। গরুর তুলনায় ছাগলের বিকিকিনি এবার আগেভাগেই জমে উঠেছে। প্রতি বছর যে সংখ্যক মানুষ ছাগলে ঝুঁকেন, এবার সেই সংখ্যা অনেক বেশি।

ছাগল ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদের বাকি আর মাত্র ৪ দিন। প্রতি বছর এ সময় নগরীর বাজারগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসে প্রচুর গরু। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। করোনা সংক্রমণের কারণে থমকে যাওয়া সবকিছুর মতো কোরবানির পশুর হাটেও লেগেছে সেই ধাক্কা। ফলে ট্রাকে ট্রাকে গরু নিয়ে বেপারিরা আসছেন ঠিকই, তবে গত বছরের মতো নয়। পশুর বাজারগুলো এখনও জমে উঠেনি। রোববার ও সোমবার গরুর বাজারে তেমন ক্রেতা দেখা যায়নি।

দেওয়ান হাটের ছাগল ব্যবসায়ী শফিক যুগান্তরকে জানান, অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর ছাগল বিক্রি বেশি। শনিবার থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক ছাগল বিক্রি হয়েছে। যা অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি। আমাদের ধারণা হয়তো করোনার কারণে মানুষ গরু কিনতে না পেরে ছাগল দিয়ে কোরবানি দিচ্ছেন।

পশুর স্থায়ী হাটগুলো হচ্ছে সাগরিকা পশুর বাজার, বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার। অস্থায়ী চারটি বাজার হচ্ছে কমল মহাজন হাট পশু বাজার, সল্টগোলা গরুর বাজার ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ড বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টিকে গ্রুপের খালি মাঠ এবং কর্ণফুলী পশুর বাজার।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০