১৫ হাজার কোরবানির গরু নিয়ে বিপাকে সিংগাইরের খামারিরা

  সিংগাইর প্রতিনিধি ২৯ জুলাই ২০২০, ১৮:৫৩:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এ বছরও কোরবানির জন্য ১৫ হাজার গরু প্রস্তুত থাকলেও শেষ সময়ে বিপাকে পড়েছেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার খামারি ও সাধারণ কৃষকরা। যুগান্তর

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এ বছরও কোরবানির জন্য ১৫ হাজার গরু প্রস্তুত থাকলেও শেষ সময়ে বিপাকে পড়েছেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার খামারি ও সাধারণ কৃষকরা।

এ উপজেলার ছোট বড় প্রায় এক হাজার গরুর খামার ও প্রান্তিক কৃষকসহ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রায় ১৫-২০ হাজার গরু-ছাগল কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন।

হাট-বাজারে গরুর ভালো দাম না পাওয়ায় ওই সব গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। গরু যেন তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের আয়ের পথ বন্ধ থাকায় এবার কোরবানি আগের তুলনায় অনেক কম হবে বলে এলাকার খামারি, প্রান্তিক কৃষক ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ধারণা।

তাই ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে খামারিদের চিন্তা ততটাই বেড়েছে। হাট-বাজারে গরু-ছাগল উঠরেও ক্রেতার অভাবে বিক্রি হচ্ছে না।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিংগাইর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ২৪৬টি গ্রামে ৯০ শতাংশ দেশি ষাঁড় গরু ও ১০ শতাংশ শংকর জাতের গরু লালন-পালন করে থাকে। এর মধ্যে ১ হাজার খামারে ৫ হাজার ষাঁড় গরু, বলদ ২০২, গাভী ১১৪, ছাগল ৮৪৪, ভেড়া ৫২টি।
এছাড়া প্রায় বাড়িতে ১/২টি গরু ছাগল মোটাতাজাকরণ হয়ে থাকে।

বিশেষ করে কোরবানির ঈদে গরু-ছাগল পালন করে একটু বাড়তি লাভের আশায়। তাছাড়া এলাকার খামারিরা, প্রান্তিক কৃষক, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গরু মোটাতাজা করে থাকেন প্রাকৃতিক ও দানাদার খাবার দিয়ে। যার দরুন এ এলাকার গরু চাহিদা অনেক বেশি।

এই এলাকার গরু দিয়ে স্থানীয়দের কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে দেশের বৃহত্তর ঢাকার গাবতলী হাটের চাহিদা মিটিয়ে থাকেন।

এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেক গ্রামে ছোট বড় গরুর খামার রয়েছে। বাড়তি লাভের আশায় অনেক যত্নসহকারে গরু-ছাগল লালন-পালন করছেন খামারিরা।

উপজেলার বায়রা, সিংগাইর, জয়মন্টপ, সিরাজপুর সেরুমিয়ার হাটসহ বড় ৪টি গরুর হাটের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খামারিরা গরু বিক্রির জন্য গেলেও ক্রেতার সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকজন। ফলে ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে খামারি, প্রান্তিক কৃষক, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের চিন্তার যেন শেষ নেই।

কথা হয় পৌর এলাকার ঘোনাপাড়া মহল্লার চিকন আলীর সাথে। তিনি জানান, বড় আকৃতির গরু পালন করে বিপাকে আছি। কোন ক্রেতা সাহস করে দাম বলছেন না।

এ ব্যাপারে নুরান হায়দার ফার্মের মালিক হায়দার আলী বলেন, আমি এ বছর নতুন হিসেবে ৩০টি ষাঁড় গরু দিয়ে খামার করেছি। একটু বাড়তি লাভের আশায়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে দেশের যে অবস্থা তাতে কোরবানি যদি কমে যায়, তবে গরুর চাহিদা কমে যাবে। তাতে লোকসান গুনতে হবে। তাই অনেক চিন্তায় আছি। তাছাড়া খামার থেকে লোকসান হলে আমাদের আগ্রহ হারিয়ে যাবে।

প্রান্তিক কৃষক পৌর এলাকার মো. ফরিদ হোসেন বলেন, অনেক যত্নসহকারে ২টি দেশি ষাঁড় গরু লালন-পালন করেছি বিক্রি করার জন্য। বাড়ি থেকে বিক্রি করার চিন্তা করছি। বাজার যদি ভালো না হয় তাহলে আমার অনেক টাকা লোকসান হয়ে যাবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক আহমেদ বলেন, সারা দেশে করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি বিধি মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটে গরু বিক্রি করতে পারবেন। আমরা খামারিদের অনলাইনে গরু বিক্রির পরামর্শ দিয়েছি। করোনা ও বন্যার কারণে কোরবানি কম হতে পারে। এই এলাকার গরু প্রাকৃতিক ও দানাদার খাবার খাওয়ানোর কারণে ঈদে বিক্রি করতে না পারলেও ঈদের পরে বিক্রি করলেও কোনো সমস্যা হবে না। এমনকি দামও পাবে ভালো।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত