বাবার সঙ্গে আর কথা বলা হল না শুকপার
jugantor
বাবার সঙ্গে আর কথা বলা হল না শুকপার

  বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি  

১৪ আগস্ট ২০২০, ২০:১৯:৫০  |  অনলাইন সংস্করণ

বাবাকে দেখার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিল শিশু শুকপা সুলতানা (৫)। অন্তত ফোনে কথা বলিয়ে দিতেও কান্নাকাটি করেছে অনেকবার। মেয়ের এমন আকুতি মেটাতে না পেরে মা রাবেয়া সুলতানার চোখও ছলছল করেছে। কিন্তু তা লুকিয়ে তার বাবা জরুরি কাজ শেষে ঢাকা থেকে খুব শিগগিরই ফিরে আসবেন বলে সান্ত্বনা দিয়েছেন তাকে।

শুকপার বাবা শুক্রবার ফিরে এসেছেন ঠিকই, তবে কাফনে মোড়ানো লাশ হয়ে। শুকপার আর কোনদিনই বাবার গলা জড়িয়ে ধরে গল্প শোনা হবে না, কথা বলা হবে না বাবার সঙ্গে।

কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত অবস্থায় ছয় দিন লাইফ সাপোর্টে থেকে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন আলী (৩৮) মারা গেছেন। ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে তিনি মারা যান।

সুমন আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, জুলাই মাসের শেষের দিকে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সুমন বড়াইগ্রাম হাসপাতালে নমুনা দেন। কিন্তু ফলাফল নেগেটিভ এলেও শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। পরে ২ আগস্ট তাকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এলেও ৫ আগস্ট সিটিস্ক্যান রিপোর্টে তার ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুসে করোনা উপসর্গ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

তিনি জানান, ৬ আগস্ট তাকে আইসিইউতে এবং ৮ আগস্ট থেকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানে ছয় দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৩৭ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ইন্সপেক্টর সুমন আলীর স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা জানান, শুকপার খেলার সঙ্গী ছিল তার বাবা। বরাবরই মেয়েটি বাবার জন্য পাগল। সুমনকে ঢাকায় নেয়ার পর থেকেই সে বাবাকে দেখার জন্য চাপাচাপি করেছে, শেষে ফোনে কথা বলতে চেয়েছে। কিন্তু আইসিইউতে থাকায় দেখা বা কথা বলা কোনোটাই সম্ভব হয়নি।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস বলেন, বড়াইগ্রাম থানার মোট ১৩ জন পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে সাতজন সুস্থ হয়েছেন, পাঁচজন আইসোলেশনে আছেন। এই প্রথম নাটোর জেলায় কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। ঈদুল আজহার আগে গরুভর্তি একটি ট্রাক লুটের মামলার তদন্তে তিনি নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়েছিলেন। এরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন পরিদর্শক সুমন।

বাবার সঙ্গে আর কথা বলা হল না শুকপার

 বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি 
১৪ আগস্ট ২০২০, ০৮:১৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাবাকে দেখার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিল শিশু শুকপা সুলতানা (৫)। অন্তত ফোনে কথা বলিয়ে দিতেও কান্নাকাটি করেছে অনেকবার। মেয়ের এমন আকুতি মেটাতে না পেরে মা রাবেয়া সুলতানার চোখও ছলছল করেছে। কিন্তু তা লুকিয়ে তার বাবা জরুরি কাজ শেষে ঢাকা থেকে খুব শিগগিরই ফিরে আসবেন বলে সান্ত্বনা দিয়েছেন তাকে।

শুকপার বাবা শুক্রবার ফিরে এসেছেন ঠিকই, তবে কাফনে মোড়ানো লাশ হয়ে। শুকপার আর কোনদিনই বাবার গলা জড়িয়ে ধরে গল্প শোনা হবে না, কথা বলা হবে না বাবার সঙ্গে।

কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত অবস্থায় ছয় দিন লাইফ সাপোর্টে থেকে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন আলী (৩৮) মারা গেছেন। ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে তিনি মারা যান।

সুমন আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, জুলাই মাসের শেষের দিকে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সুমন বড়াইগ্রাম হাসপাতালে নমুনা দেন। কিন্তু ফলাফল নেগেটিভ এলেও শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। পরে ২ আগস্ট তাকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এলেও ৫ আগস্ট সিটিস্ক্যান রিপোর্টে তার ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুসে করোনা উপসর্গ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

তিনি জানান, ৬ আগস্ট তাকে আইসিইউতে এবং ৮ আগস্ট থেকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানে ছয় দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৩৭ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ইন্সপেক্টর সুমন আলীর স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা জানান, শুকপার খেলার সঙ্গী ছিল তার বাবা। বরাবরই মেয়েটি বাবার জন্য পাগল। সুমনকে ঢাকায় নেয়ার পর থেকেই সে বাবাকে দেখার জন্য চাপাচাপি করেছে, শেষে ফোনে কথা বলতে চেয়েছে। কিন্তু আইসিইউতে থাকায় দেখা বা কথা বলা কোনোটাই সম্ভব হয়নি।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস বলেন, বড়াইগ্রাম থানার মোট ১৩ জন পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে সাতজন সুস্থ হয়েছেন, পাঁচজন আইসোলেশনে আছেন। এই প্রথম নাটোর জেলায় কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। ঈদুল আজহার আগে গরুভর্তি একটি ট্রাক লুটের মামলার তদন্তে তিনি নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়েছিলেন। এরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন পরিদর্শক সুমন।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস