মধ্যপাড়া পাথর খনিতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য
jugantor
মধ্যপাড়া পাথর খনিতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

  দিনাজপুর প্রতিনিধি  

১৪ আগস্ট ২০২০, ২২:২৯:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

বৈশ্বিক করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘ সাড়ে ৪ মাস বন্ধ থাকার পর আবার উৎপাদন শুরু করেছে দেশের একমাত্র পাথর খনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল)। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার উৎপাদন শুরু হওয়ায় খনিতে ফিরে এসে প্রাণচাঞ্চল্য।

প্রথম দিনেই বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এক শিফটে ভূ-অভ্যন্তর থেকে ২৬১ টন পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। তবে তিন শিফটে পুরোদমে উৎপাদনে যেতে আরও প্রায় এক মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।

দেশের একমাত্র পাথর খনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে ২০০৭ সালে। প্রথম অবস্থায় খনি থেকে দৈনিক ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টন পাথর উত্তোলন হলেও পরে তা নেমে আসে মাত্র ৫০০ টনে। এ অবস্থায় উৎপাদন বাড়াতে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৯২ লাখ টন পাথর উত্তোলনের বিপরীতে ১৭১.৮৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয় বেলারুশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামকে (জিটিসি)। চুক্তি অনুযায়ী ১২টি নতুন স্টোভ (পাথর উত্তোলন ক্ষেত্র) নির্মাণের কথা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এবং বিভিন্ন সময়ে খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে একাধিকবার পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখে। এর ফলে ৯২ লাখ টন পাথরের স্থলে পাথর উত্তোলন করতে পারে মাত্র ৩০.৭৬ লাখ টন এবং ১২টি স্টোভের স্থলে নির্মাণ করেছে মাত্র ৬টি স্টোভ। এরই মধ্যে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারি জিটিসির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। জিটিসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির চুক্তির মেয়াদ। এ পরিস্থিতিতে পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলেও বৈশ্বিক করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় মধ্যপাড়া পাথর খনির পাথর উত্তোলন কার্যক্রম।

২৬ মার্চ থেকে খনি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়ে খনির প্রায় ৮০০ শ্রমিক। তারা বিভিন্ন সময়ে খনিতে উত্তোলন শুরু ও বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করে। এ সময় তারা মূল বেতনের ৫ শতাংশ বৃদ্ধি, ছুটিকালীন বেতন-ভাতা প্রদান, অনতিবিলম্বে খনি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু, শ্রমিকদের ঝুঁকিভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবি জানান।

এসব বিষয় নিয়ে খনি কর্তৃপক্ষ এমজিএমসিএল, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি পেট্রোবাংলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা থেকে আবার মধ্যপাড়া পাথর খনির পাথর উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়।

মধ্যপাড়া পাথর খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম কামরুজ্জামান শুক্রবার যুগান্তরকে জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এক শিফটে মোট ২৬১ টন পাথর উত্তোলন করা হয়।

তিনি জানান, করোনা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম দিনে ১৬৫ জন শ্রমিককে কাজে লাগানো হয়। এছাড়াও ১৫০ জন শ্রমিকের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার রাতের মধ্যে তাদের পরীক্ষার ফল পাওয়ার কথা। শুক্রবার আরও ২০০ জন শ্রমিকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ক্রমান্বয়ে সব শ্রমিকের করোনা পরীক্ষা করে খনিতে পাথর উত্তোলনের কাজে লাগানো হবে।

এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সব শ্রমিককে কাজে লাগিয়ে তিন শিফটে পুরোদমে উৎপাদন শুরু করতে আরও প্রায় এক মাস সময় লাগবে। অনেক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে দীর্ঘ সাড়ে ৪ মাস পর খনির উৎপাদন শুরু করতে পারায় তিনি পেট্রোবাংলা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার উৎপাদন শুরু হওয়ায় খনিতে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

এদিকে মধ্যপাড়া পাথর খনির ইয়ার্ডে বর্তমানে ৪০ থেকে ৬০ মিলিমিটার সাইজের এক লাখ টন পাথর মজুদ রয়েছে।

মধ্যপাড়া পাথর খনিতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

 দিনাজপুর প্রতিনিধি 
১৪ আগস্ট ২০২০, ১০:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বৈশ্বিক করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘ সাড়ে ৪ মাস বন্ধ থাকার পর আবার উৎপাদন শুরু করেছে দেশের একমাত্র পাথর খনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল)। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার উৎপাদন শুরু হওয়ায় খনিতে ফিরে এসে প্রাণচাঞ্চল্য।

প্রথম দিনেই বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এক শিফটে ভূ-অভ্যন্তর থেকে ২৬১ টন পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। তবে তিন শিফটে পুরোদমে উৎপাদনে যেতে আরও প্রায় এক মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।

দেশের একমাত্র পাথর খনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে ২০০৭ সালে। প্রথম অবস্থায় খনি থেকে দৈনিক ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টন পাথর উত্তোলন হলেও পরে তা নেমে আসে মাত্র ৫০০ টনে। এ অবস্থায় উৎপাদন বাড়াতে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৯২ লাখ টন পাথর উত্তোলনের বিপরীতে ১৭১.৮৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয় বেলারুশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামকে (জিটিসি)। চুক্তি অনুযায়ী ১২টি নতুন স্টোভ (পাথর উত্তোলন ক্ষেত্র) নির্মাণের কথা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এবং বিভিন্ন সময়ে খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে একাধিকবার পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখে। এর ফলে ৯২ লাখ টন পাথরের স্থলে পাথর উত্তোলন করতে পারে মাত্র ৩০.৭৬ লাখ টন এবং ১২টি স্টোভের স্থলে নির্মাণ করেছে মাত্র ৬টি স্টোভ। এরই মধ্যে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারি জিটিসির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। জিটিসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির চুক্তির মেয়াদ। এ পরিস্থিতিতে পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলেও বৈশ্বিক করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় মধ্যপাড়া পাথর খনির পাথর উত্তোলন কার্যক্রম।

২৬ মার্চ থেকে খনি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়ে খনির প্রায় ৮০০ শ্রমিক। তারা বিভিন্ন সময়ে খনিতে উত্তোলন শুরু ও বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করে। এ সময় তারা মূল বেতনের ৫ শতাংশ বৃদ্ধি, ছুটিকালীন বেতন-ভাতা প্রদান, অনতিবিলম্বে খনি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু, শ্রমিকদের ঝুঁকিভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবি জানান।

এসব বিষয় নিয়ে খনি কর্তৃপক্ষ এমজিএমসিএল, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি পেট্রোবাংলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা থেকে আবার মধ্যপাড়া পাথর খনির পাথর উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়।

মধ্যপাড়া পাথর খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম কামরুজ্জামান শুক্রবার যুগান্তরকে জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এক শিফটে মোট ২৬১ টন পাথর উত্তোলন করা হয়।

তিনি জানান, করোনা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম দিনে ১৬৫ জন শ্রমিককে কাজে লাগানো হয়। এছাড়াও ১৫০ জন শ্রমিকের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার রাতের মধ্যে তাদের পরীক্ষার ফল পাওয়ার কথা। শুক্রবার আরও ২০০ জন শ্রমিকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ক্রমান্বয়ে সব শ্রমিকের করোনা পরীক্ষা করে খনিতে পাথর উত্তোলনের কাজে লাগানো হবে।

এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সব শ্রমিককে কাজে লাগিয়ে তিন শিফটে পুরোদমে উৎপাদন শুরু করতে আরও প্রায় এক মাস সময় লাগবে। অনেক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে দীর্ঘ সাড়ে ৪ মাস পর খনির উৎপাদন শুরু করতে পারায় তিনি পেট্রোবাংলা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার উৎপাদন শুরু হওয়ায় খনিতে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

এদিকে মধ্যপাড়া পাথর খনির ইয়ার্ডে বর্তমানে ৪০ থেকে ৬০ মিলিমিটার সাইজের এক লাখ টন পাথর মজুদ রয়েছে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস