বাংলাদেশকে ‘হীরক রাজার’ দেশ বললেন ডা. জিয়া
jugantor
বাংলাদেশকে ‘হীরক রাজার’ দেশ বললেন ডা. জিয়া

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৫১:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে সরকারিভাবে দেয়া করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব ব্যাংকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা বিষয়ক কর্মকর্তা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

তিনি বলেন, এটা স্পষ্ট যে সরকারিভাবে প্রাপ্ত মৃত্যুর সংখ্যাটা ভুল এবং বিভ্রান্তিকর। কোভিড নিয়ন্ত্রণে বা মৃত্যুর তালিকা ছোট করতে এই সংখ্যাটা কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না।

কম্বোডিয়া থেকে শুক্রবার এক লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জিয়া বলেন, প্রায় সব দেশেই কোনো ঘরে কোভিড-১৯ এর লক্ষণসহ কোনো ব্যক্তির সন্ধান পেলে সরকারি সংস্থার লোকজন এসে স্যাম্পল (নমুনা) নিয়ে যায়। এবং টেস্টের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত বাড়িঘর লকডাউন করে দিয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশের চেহারা ভিন্ন। এখানে আক্রান্ত মানুষকে টেস্ট করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়, টাকার বিনিময়ে স্যাম্পল দিতে হয়, আর রেজাল্টের (ফলাফল) জন্য তিন-চার দিন অপেক্ষা করতে হয়। সবচেয়ে ভয়ানক হল কোভিড পজিটিভ-নেগেটিভ সবাইকে এক লাইনেই দাঁড়াতে হয়, যা কোভিড-১৯ এর দ্রুত সংক্রমণের জন্য খুবই সহায়ক। আর এটা সম্ভব শুধু হীরক রাজার দেশেই।

তিনি বলেন, এই অচল অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের প্রতিটা আনাচে-কানাচে প্রতিদিন যত মানুষ মারা যাচ্ছে ইউনিয়ন এবং মিউনিসিপালিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে তাদের তথ্য জরুরি ভিত্তিতে সংগ্রহ করতে হবে। ভার্বাল অটোপ্সির মাধ্যমে মৃতের প্রাথমিক কারণ শনাক্ত না করে কোনো লাশের সৎকার করা যাবে না। এই তথ্য জেলার সিভিল সার্জনের মাধ্যমে প্রতিদিন বিকাল নাগাদ স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোভিড সংক্রান্ত বিশেষ সেলে বিশ্লেষণের জন্য পাঠাতে হবে। শুধু এই বিশ্লেষণের মাধ্যমেই জানা যাবে কোভিড-১৯ এর সাইন সিম্পটম (উপসর্গ) নিয়ে কতজন মারা গেছে। আরটি-পিসিআর টেস্ট করলে ভালো, কিন্তু না করলেও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। যা কোভিড-১৯সহ অন্যান্য রোগ সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর হারকে কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

বিশ্ব ব্যাংকের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, করোনায় মৃত্যু কমাতে এই মুহূর্তে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণসহ স্বাস্থ্য তথ্য প্রবাহের গুণগত মান বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন, আর্থিক বরাদ্দ এবং বিভিন্ন স্তরে স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ।

বাংলাদেশকে ‘হীরক রাজার’ দেশ বললেন ডা. জিয়া

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৫১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে সরকারিভাবে দেয়া করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব ব্যাংকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা বিষয়ক কর্মকর্তা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

তিনি বলেন, এটা স্পষ্ট যে সরকারিভাবে প্রাপ্ত মৃত্যুর সংখ্যাটা ভুল এবং বিভ্রান্তিকর। কোভিড নিয়ন্ত্রণে বা মৃত্যুর তালিকা ছোট করতে এই সংখ্যাটা কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না।  

কম্বোডিয়া থেকে শুক্রবার এক লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জিয়া বলেন, প্রায় সব দেশেই কোনো ঘরে কোভিড-১৯ এর লক্ষণসহ কোনো ব্যক্তির সন্ধান পেলে সরকারি সংস্থার লোকজন এসে স্যাম্পল (নমুনা) নিয়ে যায়। এবং টেস্টের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত বাড়িঘর লকডাউন করে দিয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশের চেহারা ভিন্ন। এখানে আক্রান্ত মানুষকে টেস্ট করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়, টাকার বিনিময়ে স্যাম্পল দিতে হয়, আর রেজাল্টের (ফলাফল) জন্য তিন-চার দিন অপেক্ষা করতে  হয়। সবচেয়ে ভয়ানক হল কোভিড পজিটিভ-নেগেটিভ সবাইকে এক লাইনেই দাঁড়াতে হয়, যা কোভিড-১৯ এর দ্রুত সংক্রমণের জন্য খুবই সহায়ক। আর এটা সম্ভব শুধু হীরক রাজার দেশেই।

তিনি বলেন, এই অচল অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের প্রতিটা আনাচে-কানাচে প্রতিদিন যত মানুষ মারা যাচ্ছে ইউনিয়ন এবং মিউনিসিপালিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে তাদের তথ্য জরুরি ভিত্তিতে সংগ্রহ করতে হবে। ভার্বাল অটোপ্সির মাধ্যমে মৃতের প্রাথমিক কারণ শনাক্ত না করে কোনো লাশের সৎকার করা যাবে না। এই তথ্য জেলার সিভিল সার্জনের মাধ্যমে প্রতিদিন বিকাল নাগাদ স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোভিড সংক্রান্ত বিশেষ সেলে বিশ্লেষণের জন্য পাঠাতে হবে। শুধু এই বিশ্লেষণের মাধ্যমেই জানা যাবে কোভিড-১৯ এর সাইন সিম্পটম (উপসর্গ) নিয়ে কতজন মারা গেছে। আরটি-পিসিআর টেস্ট করলে ভালো, কিন্তু না করলেও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। যা কোভিড-১৯সহ অন্যান্য রোগ সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর হারকে কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

বিশ্ব ব্যাংকের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, করোনায় মৃত্যু কমাতে এই মুহূর্তে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণসহ স্বাস্থ্য তথ্য প্রবাহের গুণগত মান বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন, আর্থিক বরাদ্দ এবং বিভিন্ন স্তরে স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ। 

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস