পশ্চিমবঙ্গে একদিনে করোনায় মারা গেলেন তিন চিকিৎসক
jugantor
পশ্চিমবঙ্গে একদিনে করোনায় মারা গেলেন তিন চিকিৎসক

  অনলাইন ডেস্ক  

০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৪৯:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করোনায় এক দিনে মারা গেলেন ৩ চিকিৎসক।

এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ হাসি দাশগুপ্ত।

এছাড়াও করোনায় মৃত্যু হয়েছে জলপাইগুড়ির চিকিৎসক মৃণাল আচার্য এবং কল্যাণীর রমেন হাজরার। একই দিনে তিন চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার থেকে অধ্যক্ষ পদে যোগ দিয়েছিলেন ৫৫ বছরের হাসিদেবী।

মঙ্গলবার সেখানের একটি অনুষ্ঠানেও তিনি যোগ দেন। সেই সময় তার কোনও শারীরিক সমস্যা ছিল না। তবে বুধবার সকালে হাসপাতালে আসার পরে আচমকাই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

পরীক্ষায় দেখা যায় তার অক্সিজেনের মাত্রা ৭৫ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। দ্রুত ওই হাসপাতালেই তাকে অক্সিজেন দেয়া হয়।

সিটি স্ক্যান করে দেখা যায় হাসিদেবীর ফুসফুসের অর্ধেকের বেশি অকেজ। ওই দিন ওই দিন বিকালেই হাসিদেবীর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

চিকিৎসকরা জানান, বেশিমাত্রায় সুগার ও রক্তচাপেরও সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে হাসিদেবীর। দ্রুত অবস্থার অবনতি হতে থাকায় বুধবার রাত ৮টার দিকে তাকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

পাশাপাশি ওই দিনই মেডিক্যালে ভর্তি করা হয় হাসিদেবীর স্বামীকেও। তিনিও করোনা আক্রান্ত। বৃহস্পতিবার সকালে অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে হাসিদেবীর। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ক্রমশ নামতে থাকায় এ দিন তাকে ভেন্টিলেশনে দেয়ার পরিকল্পনা করেন চিকিৎসকেরা। তার আগেই বিকালে মৃত্যু হয় ওই চিকিৎসকের।

মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিনের চিকিৎসক অরুনাংশু তালুকদার বলেন, এটাকে হ্যাপি হাইপক্সিমিয়া বলা যেতে পারে। এত দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে যে কিছু করার সময় পাওয়া যায়নি।

কিছু করোনা আক্রান্তের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শরীরে কোনও সমস্যা নেই, শ্বাসকষ্ট মালুম হচ্ছে না। অথচ অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমছে। যখন ধরা পড়ছে তখন অনেকটাই দেরি হয়ে যাচ্ছে। হাসিদেবীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়ির এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় চিকিৎসক মৃণাল আচার্যের (৫৯)। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওই সাবেক চিকিৎসক জলপাইগুড়ি জেলা সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন নাক-কান-গলার সার্জন ছিলেন।

সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতলে ভর্তি ছিলেন। এক পর্যায়ে তার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় কল্যাণীর বাসিন্দা কার্ডিও থোরাসিক ভাস্কুলার সার্জন রমেন হাজরার (৬৮)।

কয়েক দিন আগে তিনি হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি ফিরলেও বেশ কিছু সমস্যা নিয়ে ফের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরস পশ্চিমবঙ্গের সম্পাদক চিকিৎসক মানস গুমটা বলেন, করোনায় একের পর চিকিৎসকের মৃত্যুতে চিন্তায় পড়েছেন তারা।

পশ্চিমবঙ্গে একদিনে করোনায় মারা গেলেন তিন চিকিৎসক

 অনলাইন ডেস্ক 
০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৪৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করোনায় এক দিনে মারা গেলেন ৩ চিকিৎসক।

এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ হাসি দাশগুপ্ত।

এছাড়াও করোনায় মৃত্যু হয়েছে জলপাইগুড়ির চিকিৎসক মৃণাল আচার্য এবং কল্যাণীর রমেন হাজরার। একই দিনে তিন চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার থেকে অধ্যক্ষ পদে যোগ দিয়েছিলেন ৫৫ বছরের হাসিদেবী।

মঙ্গলবার সেখানের একটি অনুষ্ঠানেও তিনি যোগ দেন। সেই সময় তার কোনও শারীরিক সমস্যা ছিল না। তবে বুধবার সকালে হাসপাতালে আসার পরে আচমকাই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

পরীক্ষায় দেখা যায় তার অক্সিজেনের মাত্রা ৭৫ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। দ্রুত ওই হাসপাতালেই তাকে অক্সিজেন দেয়া হয়।

সিটি স্ক্যান করে দেখা যায় হাসিদেবীর ফুসফুসের অর্ধেকের বেশি অকেজ। ওই দিন ওই দিন বিকালেই হাসিদেবীর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

চিকিৎসকরা জানান, বেশিমাত্রায় সুগার ও রক্তচাপেরও সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে হাসিদেবীর। দ্রুত অবস্থার অবনতি হতে থাকায় বুধবার রাত ৮টার দিকে তাকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

পাশাপাশি ওই দিনই মেডিক্যালে ভর্তি করা হয় হাসিদেবীর স্বামীকেও। তিনিও করোনা আক্রান্ত। বৃহস্পতিবার সকালে অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে হাসিদেবীর। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ক্রমশ নামতে থাকায় এ দিন তাকে ভেন্টিলেশনে দেয়ার পরিকল্পনা করেন চিকিৎসকেরা। তার আগেই বিকালে মৃত্যু হয় ওই চিকিৎসকের।

মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিনের চিকিৎসক অরুনাংশু তালুকদার বলেন, এটাকে হ্যাপি হাইপক্সিমিয়া বলা যেতে পারে। এত দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে যে কিছু করার সময় পাওয়া যায়নি।

কিছু করোনা আক্রান্তের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শরীরে কোনও সমস্যা নেই, শ্বাসকষ্ট মালুম হচ্ছে না। অথচ অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমছে। যখন ধরা পড়ছে তখন অনেকটাই দেরি হয়ে যাচ্ছে। হাসিদেবীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়ির এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় চিকিৎসক মৃণাল আচার্যের (৫৯)। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওই সাবেক চিকিৎসক জলপাইগুড়ি জেলা সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন নাক-কান-গলার সার্জন ছিলেন।

সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতলে ভর্তি ছিলেন। এক পর্যায়ে তার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় কল্যাণীর বাসিন্দা কার্ডিও থোরাসিক ভাস্কুলার সার্জন রমেন হাজরার (৬৮)।

কয়েক দিন আগে তিনি হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি ফিরলেও বেশ কিছু সমস্যা নিয়ে ফের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরস পশ্চিমবঙ্গের সম্পাদক চিকিৎসক মানস গুমটা বলেন, করোনায় একের পর চিকিৎসকের মৃত্যুতে চিন্তায় পড়েছেন তারা।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

২৬ জানুয়ারি, ২০২১