তারা এখন লম্বা লম্বা কথা বলছেন, তখন কী করেছিলেন: স্বাস্থ্যের ডিজি
jugantor
তারা এখন লম্বা লম্বা কথা বলছেন, তখন কী করেছিলেন: স্বাস্থ্যের ডিজি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৪ এপ্রিল ২০২১, ১৬:১৬:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কিছু বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে সমালোচনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি বলেছেন, তারা এখন লম্বা লম্বা কথা বলছেন, তখন কী করেছিলেন।

করোনা মহামারিতে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কাজের সমালোচনার জবাবে তিনি বিশেষজ্ঞদেরই কাজের ভূমিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, তারা এখন নিরাপদ বাক্সে থেকে কথা বলছেন, কিন্তু দায়িত্বে থাকতে কী করেছেন?

কঠোর লকডাউনের মধ্যে বুধবার সরকারি ছুটির দিনে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

আবুল বাশার খুরশীদ আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ অনেকে বলছেন, এক বছরে আমরা সক্ষমতা বাড়াইনি। যারা এক দিনও কোনো রোগীর পাশে দাঁড়াননি, তারা রোগতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ছিলেন। তাঁরা তখন কী করেছিলেন? তারা এখন টেলিভিশনে বসে টক শোতে লম্বা লম্বা কথা বলেন। আমাদের পাশে আসেন। আপনার প্রজ্ঞা, জ্ঞান কাজে লাগান। হাসপাতালে চলুন, রোগীর পাশে দাঁড়ান। সেটা না করে ওই নিরাপদ বাক্সের মধ্যে বসে এই টেলিভিশন থেকে ওই টেলিভিশনে গিয়ে নানান ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমালোচনা বিভ্রান্তিকর এবং দেশের জন্য মঙ্গল হবে না উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘আপনারাও এই সরকারের চাকরি করেছেন, সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। আপনি অবসরে গেছেন, কিন্তু দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাননি। আপনি এমন কথা বলতে পারেন না, যে কাজটা আপনি আগে করতেন। তার বিরূপ সমালোচনা করতে পারেন না। এটা গর্হিত অন্যায়। এটা দায়িত্বহীনতার পরিচয়।’

তবে মহাপরিচালক বলেন, তিনি কোনো ব্যক্তিবিশেষকে আক্রান্ত করছেন না। স্বাস্থ্য বিভাগ ও দেশের মানুষের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশে বলেন, ‘টেলিভিশনের নিরাপদ বাক্স থেকে বেরিয়ে আসুন। অধিদপ্তরে আসুন। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি।’

সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদ নিয়েও ক্ষোভ ঝাড়েন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কিছু কিছু গণমাধ্যম যেভাবে তাদের সমালোচনা করছেন, তা তাদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। পৃথিবীতে এ ধরনের নজির নেই। তিনি আরও বলেন, ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে কেউ না। কিন্তু গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি সমালোচনার সময় না এবং তাদের সমাজের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান।

প্রসঙ্গত, কোভিড-১৯ মহামারীর শুরু থেকে সমালোচনার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মাস্ককাণ্ড, জেকেজিকাণ্ডের মতো দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ পাওয়া পর মহাপরিচালক পরিবর্তন করে খুরশীদ আলমকে গত বছর এই দায়িত্বে আনা হয়।

বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে খুরশীদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলার পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিচালনা করছেন তাতে ভুল হওয়ার অবকাশ নেই।

তারপরও আমরা মানুষ। ভুলের ঊর্ধ্বে না, আমাদেরও ভুল-ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু মহামারির এই সময়ে আপনারা যদি আমাদের এমন বিরূপ সমালোচনার মুখোমুখি করেন, তাহলে আমাদের মনোবল ভেঙে যাবে।

আমি সবাইকে বলছি না। আমি বেশিরভাগ সংবাদকর্মীদের দেখছি আমাদের সঙ্গে আছেন। কেউ কেউ করছেন। কেন করছেন, আমি জানি না। ত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু এটা সেই সময় নয় (সমালোচনা করার)।

খুরশীদ বলেন, এই মুহূর্তে আমরা আশা করি, আমাদের প্রতি সমব্যথী হওয়া এবং আমাদের সঠিক দিক-নির্দেশনা দেওয়া।

সমালোচনার উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বসুন্ধরা আইসোলেশন সেন্টার উধাও করে দেওয়া হয়েছে- এমন সংবাদের ‘উধাও’ শব্দের মধ্যে একটা ‘অপমানজনক’ ব্যাখ্যা আছে।

তারা এখন লম্বা লম্বা কথা বলছেন, তখন কী করেছিলেন: স্বাস্থ্যের ডিজি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৪:১৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কিছু বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে সমালোচনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি বলেছেন, তারা এখন লম্বা লম্বা কথা বলছেন, তখন কী করেছিলেন। 

করোনা মহামারিতে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কাজের সমালোচনার জবাবে তিনি বিশেষজ্ঞদেরই কাজের ভূমিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন,  তারা এখন নিরাপদ বাক্সে থেকে কথা বলছেন, কিন্তু দায়িত্বে থাকতে কী করেছেন?

কঠোর লকডাউনের মধ্যে বুধবার সরকারি ছুটির দিনে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

আবুল বাশার খুরশীদ আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ অনেকে বলছেন, এক বছরে আমরা সক্ষমতা বাড়াইনি। যারা এক দিনও কোনো রোগীর পাশে দাঁড়াননি, তারা রোগতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ছিলেন। তাঁরা তখন কী করেছিলেন? তারা এখন টেলিভিশনে বসে টক শোতে লম্বা লম্বা কথা বলেন। আমাদের পাশে আসেন। আপনার প্রজ্ঞা, জ্ঞান কাজে লাগান। হাসপাতালে চলুন, রোগীর পাশে দাঁড়ান। সেটা না করে ওই নিরাপদ বাক্সের মধ্যে বসে এই টেলিভিশন থেকে ওই টেলিভিশনে গিয়ে নানান ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমালোচনা বিভ্রান্তিকর এবং দেশের জন্য মঙ্গল হবে না উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘আপনারাও এই সরকারের চাকরি করেছেন, সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। আপনি অবসরে গেছেন, কিন্তু দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাননি। আপনি এমন কথা বলতে পারেন না, যে কাজটা আপনি আগে করতেন। তার বিরূপ সমালোচনা করতে পারেন না। এটা গর্হিত অন্যায়। এটা দায়িত্বহীনতার পরিচয়।’ 

তবে মহাপরিচালক বলেন, তিনি কোনো ব্যক্তিবিশেষকে আক্রান্ত করছেন না। স্বাস্থ্য বিভাগ ও দেশের মানুষের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। 

বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশে বলেন, ‘টেলিভিশনের নিরাপদ বাক্স থেকে বেরিয়ে আসুন। অধিদপ্তরে আসুন। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি।’

সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদ নিয়েও ক্ষোভ ঝাড়েন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কিছু কিছু গণমাধ্যম যেভাবে তাদের সমালোচনা করছেন, তা তাদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। পৃথিবীতে এ ধরনের নজির নেই। তিনি আরও বলেন, ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে কেউ না। কিন্তু গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি সমালোচনার সময় না এবং তাদের সমাজের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান।

প্রসঙ্গত, কোভিড-১৯ মহামারীর শুরু থেকে সমালোচনার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মাস্ককাণ্ড, জেকেজিকাণ্ডের মতো দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ পাওয়া পর মহাপরিচালক পরিবর্তন করে খুরশীদ আলমকে গত বছর এই দায়িত্বে আনা হয়।

বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে খুরশীদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলার পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিচালনা করছেন তাতে ভুল হওয়ার অবকাশ নেই।

তারপরও আমরা মানুষ। ভুলের ঊর্ধ্বে না, আমাদেরও ভুল-ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু মহামারির এই সময়ে আপনারা যদি আমাদের এমন বিরূপ সমালোচনার মুখোমুখি করেন, তাহলে আমাদের মনোবল ভেঙে যাবে।

আমি সবাইকে বলছি না। আমি বেশিরভাগ সংবাদকর্মীদের দেখছি আমাদের সঙ্গে আছেন। কেউ কেউ করছেন। কেন করছেন, আমি জানি না। ত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু এটা সেই সময় নয় (সমালোচনা করার)। 

খুরশীদ বলেন, এই মুহূর্তে আমরা আশা করি, আমাদের প্রতি সমব্যথী হওয়া এবং আমাদের সঠিক দিক-নির্দেশনা দেওয়া।

সমালোচনার উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বসুন্ধরা আইসোলেশন সেন্টার উধাও করে দেওয়া হয়েছে- এমন সংবাদের ‘উধাও’ শব্দের মধ্যে একটা ‘অপমানজনক’ ব্যাখ্যা আছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস