খালেদা জিয়ার সবশেষ স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে যা বলল চিকিৎসকরা
jugantor
করোনা পরীক্ষা রোববার অথবা সোমবার
খালেদা জিয়ার সবশেষ স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে যা বলল চিকিৎসকরা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২১ এপ্রিল ২০২১, ০০:৪০:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত চিকিৎসক দলের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আগামী রোববার অথবা সোমবার খালেদা জিয়ার ফের করোনা পরীক্ষা করা হবে।

বেগম জিয়ার বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতির বিষয়ে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, খালেদা জিয়ার করোনা আক্রান্তের ১৩ তম দিন চলছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত কঠিনতম সময়, ১৪ তম দিন শুরু হবে। তার জ্বর নেই। অক্সিজেন স্যাচুরেশন খুবই ভালো আছে। খাওয়ার রুচি পূর্বের ন্যায় আছে। কখনওই কাশি বা গলা ব্যথা ছিল না, এখনও নাই। এ অবস্থায় উনার (খালেদা জিয়া) যে চিকিৎসা চলছে তা এখনও চলবে।

মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজায় গিয়ে খালেদা জিয়ার শারীরিক সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রাত পৌনে ১০টা থেকে প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী চিকিৎসক টিমের দু'জন সদস্য খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

খালেদা জিয়া অনেকটা ভালোবোধ করছেন বলে জানানতার চিকিৎসকরা।

পরে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ১৪ দিন পার হলে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে মেডিকেল বোর্ড । বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসার খোঁজ খবর রাখছেন। ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক সমন্বয় করছেন।

সুস্থতার জন্য খালেদা জিয়া দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বলেও জানান ডা. জাহিদ।

খালেদা জিয়ার আবার করোনা পরীক্ষা কবে করা হবে জানতে চাইলে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, মেডিকেল বোর্ড বসবে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। আগামী রোববার অথবা সোমবার একটা সময় হবে।

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ডা. মোহাম্মদ আল মামুন ও বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

এর আগে গত রোববার রাতে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসক টিমের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিন দিন থেকে বেগম জিয়ার গায়ে সামান্য জ্বর উঠানামা করছিল।রোববার সারাদিন তার কোন জ্বর নেই। আগামী ৪৮ ঘন্টা এ অবস্থা বিরাজ করলে বলতে পারব- আমরা একটা নিরাপদ জোনে চলে আসছি। আমরা তার শ্বাস প্রশ্বাস ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়েছি। তার ব্লাড সুগারসহ অন্যান্য যেসব প্যারামিটার রয়েছে সেগুলো ঠিক আছে। তার কাশি নেই, গলা ব্যাথা নেই। তার সবকিছু স্থিতিশীল আছে।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা পজেটিভ শনাক্ত হওয়ার পর প্রখ্যাত ‘বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন’ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকীরে নেতৃত্বে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের টিম গুলশানের বাসায় তার চিকিৎসা শুরু হয়। ‘ফিরোজা’র বাসায় বিএনপি চেয়ারপারসন ছাড়াও আরো ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসাও সেখানে চলছে।

৭৫ বছল বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে কারাগারে যেতে হয়। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে তাকে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি দেয়।

পরে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তার মুক্তির সময় আরও ছয় মাস বাড়ায় সরকার। এ বছরের মার্চে দ্বিতীয় বারের মতো ছয় মাসের মেয়াদ বাড়ানো হয়। মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগ সীমিত।

করোনা পরীক্ষা রোববার অথবা সোমবার

খালেদা জিয়ার সবশেষ স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে যা বলল চিকিৎসকরা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২১ এপ্রিল ২০২১, ১২:৪০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত চিকিৎসক দলের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম  জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আগামী রোববার অথবা সোমবার খালেদা জিয়ার ফের করোনা পরীক্ষা করা হবে।

বেগম জিয়ার বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতির বিষয়ে  ডা. এজেডএম  জাহিদ হোসেন জানান, খালেদা জিয়ার করোনা আক্রান্তের ১৩ তম দিন চলছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত কঠিনতম সময়, ১৪ তম দিন শুরু হবে। তার জ্বর নেই। অক্সিজেন স্যাচুরেশন খুবই ভালো আছে। খাওয়ার রুচি পূর্বের ন্যায় আছে। কখনওই কাশি বা গলা ব্যথা ছিল না, এখনও নাই। এ অবস্থায় উনার (খালেদা জিয়া) যে চিকিৎসা চলছে তা এখনও চলবে।

মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজায় গিয়ে  খালেদা জিয়ার শারীরিক সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। 

রাত পৌনে ১০টা থেকে প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী চিকিৎসক টিমের দু'জন সদস্য খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। 

খালেদা জিয়া অনেকটা ভালোবোধ করছেন বলে জানান তার চিকিৎসকরা।  

পরে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন,  ১৪ দিন পার হলে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে মেডিকেল বোর্ড । বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসার খোঁজ খবর রাখছেন। ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান  সার্বক্ষণিক সমন্বয় করছেন।  

সুস্থতার জন্য খালেদা জিয়া দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বলেও জানান ডা. জাহিদ।

খালেদা জিয়ার আবার করোনা পরীক্ষা কবে করা হবে জানতে চাইলে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, মেডিকেল বোর্ড বসবে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। আগামী রোববার অথবা সোমবার একটা সময় হবে।

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ডা. মোহাম্মদ আল মামুন ও বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

এর আগে গত রোববার রাতে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসক টিমের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিন দিন থেকে বেগম জিয়ার গায়ে সামান্য জ্বর উঠানামা করছিল।রোববার সারাদিন তার কোন জ্বর নেই। আগামী ৪৮ ঘন্টা এ অবস্থা বিরাজ করলে বলতে পারব- আমরা একটা নিরাপদ জোনে চলে আসছি। আমরা তার শ্বাস প্রশ্বাস ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়েছি। তার ব্লাড সুগারসহ অন্যান্য যেসব প্যারামিটার রয়েছে সেগুলো ঠিক আছে। তার কাশি নেই, গলা ব্যাথা নেই। তার সবকিছু  স্থিতিশীল আছে।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা পজেটিভ শনাক্ত হওয়ার পর প্রখ্যাত ‘বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন’ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকীরে নেতৃত্বে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের টিম গুলশানের বাসায় তার চিকিৎসা শুরু হয়।  ‘ফিরোজা’র বাসায় বিএনপি চেয়ারপারসন ছাড়াও আরো ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসাও সেখানে চলছে।

৭৫ বছল বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে কারাগারে যেতে হয়। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে তাকে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি দেয়। 

পরে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তার মুক্তির সময় আরও ছয় মাস বাড়ায় সরকার। এ বছরের মার্চে দ্বিতীয় বারের মতো ছয় মাসের মেয়াদ বাড়ানো হয়। মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগ সীমিত।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন