‘না খাইয়্যা থাহার চাইয়্যা করোনায় মরা অনেক ভালা’
jugantor
‘না খাইয়্যা থাহার চাইয়্যা করোনায় মরা অনেক ভালা’

  মো. শহীদুল আলম, কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি)   

২২ এপ্রিল ২০২১, ২৩:১৭:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

‘লকডাউনে দোকান বন্ধ। বেচাকেনা নাই। ঘরে চাল ডাল ও বাজার কিছুই নাই। পানি দিয়া রোজা খুলি। অসুস্থ স্বামী নিয়া কোথায় যামু, না খাইয়্যা থাহার চাইয়্যা করোনায় মরা অনেক ভালা।’

দুই চোখের কোনে পানি ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে করোনার লকডাউনে জীবনযুদ্ধে হেরে যাওয়ার কষ্টে কথাগুলো বলছিলেন ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা সদরের চা দোকানি ঝর্ণা বেগম (৪৫)।

কাঁঠালিয়া সদরের মাদ্রাসা রোডের মোড়ে একটি কাঠের ঘরে ভাড়া থাকেন ঝর্ণা ও তার স্বামী মো. হালিম হাওলাদার। স্বামীর রিকশা চালানো আয় দিয়েই চলতো তাদের সুখের সংসার। গত ৪ বছর পূর্বে স্বামী স্ট্রোক করলে ধারদেনা ও এনজিওর ঋণ নিয়ে স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে সবকিছু খুইয়ে পরিবারটি এখন সর্বস্বান্ত। আয়ের জন্য অসুস্থ স্বামীকে রেখে যেতেও পারছেন না স্ত্রী ঝর্ণা।

এ অবস্থায় কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে তার বাসাসংলগ্ন ছোট একটি ঘর ভাড়া নেন। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে কিছু টাকা-পয়সা ম্যানেজ করে দেন চায়ের দোকান। সেখানে চা-পান, রুটি-বিস্কুট বিক্রি করে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছিলেন ঝর্ণা বেগম।

সংসার চালানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা ও ওষুধপত্র স্ত্রী ঝর্ণা বেগমের চা দোকানের আয়ে দিয়েই বহন করতে হয়। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে সরকার ঘোষিত লকডাউনে তার দোকান বন্ধ খুলতে পারছেন না। কোনো উপার্জন না থাকায় অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর দিন কাটছে ঝর্ণা ও অসুস্থ স্বামী হালিমের।

চা দোকানি ঝর্ণা বেগম জানান, ১০ দিন ধরে লকডাউনে দোকান বন্ধ। কোনো বেচাকেনা নাই। ভাত খাওয়া তো দূরের কথা ক'দিন রোজার ইফতার করতেও পারছি না। ঘরে চাল ডাল বাজার কিছুই নাই। স্বামী অসুস্থ ঘরে তাকে নিয়মিত ওষুধ ও খাবার না দিতে পারলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমিও শারীরিক অনেক অসুস্থ। এখন কোথায় যাবো, কি যে করমু বুজতে পারছি না।

ঝর্ণা বলেন, তবে গত বছরের রোজা ও লকডাউনের সময় সরকারি-বেসরকারি অনেক সাহায্য সহযোগিতা পেলেও এ বছর কঠোর লকডাউনে ও রোজায় কোনো সাহায্য পাননি। বলেন কে দিবে, যার কাছে বলি, সেই বলে অনেক অভাবে আছেন।

‘না খাইয়্যা থাহার চাইয়্যা করোনায় মরা অনেক ভালা’

 মো. শহীদুল আলম, কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি)  
২২ এপ্রিল ২০২১, ১১:১৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘লকডাউনে দোকান বন্ধ। বেচাকেনা নাই। ঘরে চাল ডাল ও বাজার কিছুই নাই। পানি দিয়া রোজা খুলি। অসুস্থ স্বামী নিয়া কোথায় যামু, না খাইয়্যা থাহার চাইয়্যা করোনায় মরা অনেক ভালা।’

দুই চোখের কোনে পানি ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে করোনার লকডাউনে জীবনযুদ্ধে হেরে যাওয়ার কষ্টে কথাগুলো বলছিলেন ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা সদরের চা দোকানি ঝর্ণা বেগম (৪৫)। 

কাঁঠালিয়া সদরের মাদ্রাসা রোডের মোড়ে একটি কাঠের ঘরে ভাড়া থাকেন ঝর্ণা ও তার স্বামী মো. হালিম হাওলাদার। স্বামীর রিকশা চালানো আয় দিয়েই চলতো তাদের সুখের সংসার। গত ৪ বছর পূর্বে স্বামী স্ট্রোক করলে ধারদেনা ও এনজিওর ঋণ নিয়ে স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে সবকিছু খুইয়ে পরিবারটি এখন সর্বস্বান্ত। আয়ের জন্য অসুস্থ স্বামীকে রেখে যেতেও পারছেন না স্ত্রী ঝর্ণা।

এ অবস্থায় কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে তার বাসাসংলগ্ন ছোট একটি ঘর ভাড়া নেন। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে কিছু টাকা-পয়সা ম্যানেজ করে দেন চায়ের দোকান। সেখানে চা-পান, রুটি-বিস্কুট বিক্রি করে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছিলেন ঝর্ণা বেগম।

সংসার চালানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা ও ওষুধপত্র স্ত্রী ঝর্ণা বেগমের চা দোকানের আয়ে দিয়েই বহন করতে হয়। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে সরকার ঘোষিত লকডাউনে তার দোকান বন্ধ খুলতে পারছেন না। কোনো উপার্জন না থাকায় অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর দিন কাটছে ঝর্ণা ও অসুস্থ স্বামী হালিমের। 

চা দোকানি ঝর্ণা বেগম জানান, ১০ দিন ধরে লকডাউনে দোকান বন্ধ। কোনো বেচাকেনা নাই। ভাত খাওয়া তো দূরের কথা ক'দিন রোজার ইফতার করতেও পারছি না। ঘরে চাল ডাল বাজার কিছুই নাই। স্বামী অসুস্থ ঘরে তাকে নিয়মিত ওষুধ ও খাবার না দিতে পারলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমিও শারীরিক অনেক অসুস্থ। এখন কোথায় যাবো, কি যে করমু বুজতে পারছি না। 

ঝর্ণা বলেন, তবে গত বছরের রোজা ও লকডাউনের সময় সরকারি-বেসরকারি অনেক সাহায্য সহযোগিতা পেলেও এ বছর কঠোর লকডাউনে ও রোজায় কোনো সাহায্য পাননি। বলেন কে দিবে, যার কাছে বলি, সেই বলে অনেক অভাবে আছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস