করোনার মধ্যেই পরীক্ষা, সব টাকা পরিশোধ করে নিতে হবে প্রবেশপত্র
jugantor
করোনার মধ্যেই পরীক্ষা, সব টাকা পরিশোধ করে নিতে হবে প্রবেশপত্র

  বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি  

০৪ মে ২০২১, ২২:৩১:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

নাটোরের বড়াইগ্রামে করোনা মহামারির মধ্যেও সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বনপাড়া সেন্ট যোসেফ্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখা।

ইতোমধ্যে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশসহ বকেয়া বেতন পরিশোধের নোটিশ জারি করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার আর মাত্র একদিন বাকি থাকলেও শিক্ষার্থীদের প্রবল আপত্তি আমলে না নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, সম্প্রতি কলেজ কর্তৃপক্ষ আগামী ৬ মে থেকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দেন। আগামী ২৮ মে এ পরীক্ষা শেষ হবে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সব শিক্ষার্থীদের তাদের বকেয়া বেতন সম্পূর্ণ পরিশোধ করে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে।

কলেজের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ৬৮০ টাকা। অধিকাংশ শিক্ষার্থীদেরই প্রায় ১২-১৪ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। সেই হিসাবে তাদের প্রত্যেককে পরীক্ষার আগে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।

একদিকে করোনা মহামারীর কারণে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো ক্লাস না হওয়া, অপরদিকে সরকার ঘোষিত লকডাউনের মধ্যে পরীক্ষা নেয়ার এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক পোস্ট ও কমেন্ট করেছেন।

কলেজের শিক্ষার্থী সজিব আহমেদ জানান, কোনো ক্লাস না নিয়ে স্যারেরা কিসের পরীক্ষা নিবেন আমাদের। এটাতো মানসিক চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছু না।

তাহোয়ার মুসতারিন নাইম জানান, স্যারেরা করোনা মহামারি ও লকডাউনের মধ্যে শুধু আমাদের বেতন ও পরীক্ষার ফি হাতিয়ে নিতেই এ পরীক্ষার আয়োজন করেছেন। করোনার মধ্যে তারা তো আমাদের এভাবে বিপদে ফেলতে পারেন না।

রাতুল মৃধা মৃদুল জানান, করোনা সমস্যা তো আছেই, তারপরও রোজা রেখে তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দেয়াটা তো খুবই কষ্টকর। পরীক্ষার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৫-৬ জন ছাত্রের অভিভাবক জানান, করোনা মহামারি ও লকডাউনের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধ, আয় রোজগার নেই বললেই চলে। এর মধ্যে এতোগুলো টাকা কিভাবে দেব। আর সারা বছর কোনো ক্লাস হয়নি, অথচ স্যারেরা কোনো ছাড় না দিয়ে পুরো বেতন আদায় করছেন-এটা কতটুকু যৌক্তিক।

এ ব্যাপারে সেন্ট যোসেফস স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহা. নাজমুল হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই পরীক্ষার নোটিশ জারি করা হয়েছে।

করোনার মধ্যেই পরীক্ষা, সব টাকা পরিশোধ করে নিতে হবে প্রবেশপত্র

 বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি 
০৪ মে ২০২১, ১০:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নাটোরের বড়াইগ্রামে করোনা মহামারির মধ্যেও সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বনপাড়া সেন্ট যোসেফ্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখা।

ইতোমধ্যে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশসহ বকেয়া বেতন পরিশোধের নোটিশ জারি করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার আর মাত্র একদিন বাকি থাকলেও শিক্ষার্থীদের প্রবল আপত্তি আমলে না নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, সম্প্রতি কলেজ কর্তৃপক্ষ আগামী ৬ মে থেকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দেন। আগামী ২৮ মে এ পরীক্ষা শেষ হবে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সব শিক্ষার্থীদের তাদের বকেয়া বেতন সম্পূর্ণ পরিশোধ করে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে।

কলেজের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ৬৮০ টাকা। অধিকাংশ শিক্ষার্থীদেরই প্রায় ১২-১৪ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। সেই হিসাবে তাদের প্রত্যেককে পরীক্ষার আগে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।

একদিকে করোনা মহামারীর কারণে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো ক্লাস না হওয়া, অপরদিকে সরকার ঘোষিত লকডাউনের মধ্যে পরীক্ষা নেয়ার এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক পোস্ট ও কমেন্ট করেছেন।

কলেজের শিক্ষার্থী সজিব আহমেদ জানান, কোনো ক্লাস না নিয়ে স্যারেরা কিসের পরীক্ষা নিবেন আমাদের। এটাতো মানসিক চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছু না।

তাহোয়ার মুসতারিন নাইম জানান, স্যারেরা করোনা মহামারি ও লকডাউনের মধ্যে শুধু আমাদের বেতন ও পরীক্ষার ফি হাতিয়ে নিতেই এ পরীক্ষার আয়োজন করেছেন। করোনার মধ্যে তারা তো আমাদের এভাবে বিপদে ফেলতে পারেন না।

রাতুল মৃধা মৃদুল জানান, করোনা সমস্যা তো আছেই, তারপরও রোজা রেখে তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দেয়াটা তো খুবই কষ্টকর। পরীক্ষার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৫-৬ জন ছাত্রের অভিভাবক জানান, করোনা মহামারি ও লকডাউনের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধ, আয় রোজগার নেই বললেই চলে। এর মধ্যে এতোগুলো টাকা কিভাবে দেব। আর সারা বছর কোনো ক্লাস হয়নি, অথচ স্যারেরা কোনো ছাড় না দিয়ে পুরো বেতন আদায় করছেন-এটা কতটুকু যৌক্তিক।

এ ব্যাপারে সেন্ট যোসেফস স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহা. নাজমুল হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই পরীক্ষার নোটিশ জারি করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস