করোনা হাসপাতাল যেন বিনোদন কেন্দ্র! (ভিডিও)
jugantor
করোনা হাসপাতাল যেন বিনোদন কেন্দ্র! (ভিডিও)

  রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ  

১৫ মে ২০২১, ১৬:৪২:৫৬  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা হাসপাতালের আশপাশে কোনো জনসমাগম থাকার কথা না থাকলেও নারায়ণগঞ্জ করোনা হাসপাতালটি হয়ে উঠেছে নগরবাসীর বিনোদন কেন্দ্র। ভয়ঙ্কর হলেও সত্য যে, বিশ্বের একমাত্র করোনা হাসপাতাল এটি, যার অভ্যন্তরে কোভিড আক্রান্ত রোগী আর ভ্রমণ পিপাসু মানুষ একসঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন।

এই হাসপাতালের মধ্যেই রয়েছে নগরীর সবচেয়ে বড় চটপটি আর ফাস্ট ফুড আইটেমের বাজার! শুধু তাই নয়, আদা চা থেকে শুরু করে মালটা, তেঁতুল, জলপাই, তুলসীসহ নানা রকমারি চা খেতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন শত শত মানুষ।

বিশেষ করে শুক্রবার ঈদের বিকাল থেকে গভীর রাত অবধি এই হাসপাতালের অভ্যন্তরে ও বাইরে সমাগম ছিল কয়েক হাজার নারী-পুরুষের। এমনকি ছোট্ট শিশুরাও দৌড়ে বেড়িয়েছে হাসপাতালের কমপাউন্ডে।

অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়েছে, এই হাসপাতালের পরিচালনা কমিটি থাকলেও সেটি শুধু খাতা কলমেই সীমাবদ্ধ। আর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল হরহামেশা এই সড়কের উপর দিয়ে আসা যাওয়া করলেও তাদেরও কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না।

এর আগে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষই পদক্ষেপ নেয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুক্রবার ঈদের সন্ধ্যায় খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে (কোভিড হাসপাতাল) গিয়ে দেখা গেছে পুরো সড়কটি লোকে লোকারণ্য। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি অনেকেই এসেছেন পরিবার নিয়ে অবকাশ কাটাতে।

হাসপাতালের পাশের সড়কটির দুই পাশে গড়ে উঠা প্রায় অর্ধশত স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানগুলোতে তিল ধারণেই ঠাই নেই। ব্যবসার সুবিধার্থে রাস্তার দুই ধারে দেয়া হয়েছে শত শত প্লাস্টিক চেয়ার। এখানে রয়েছে প্রায় দেড় ডজন চটপটির দোকান, ফাস্টফুড আইটেম দোকান রয়েছে প্রায় দুই ডজনের মতো। এছাড়াও আছে টি স্টল।

প্রাইভেট কার, রিকশা আর রাস্তা দখল করে রাখা চেয়ারের কারণে ওই সড়কে হেটে যাওয়াটাই যেন দুষ্কর। দেখা গেছে, নতুন জামা-কাপড় পরে আসা তরুণ-তরুণীরা মাস্ক ছাড়াই জমিয়েছেন জমপেশ আড্ডা।

এদিকে হাসপাতালের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই দেখা গেল এক ভয়ঙ্কর চিত্র। মুখে মাস্ক লাগিয়ে হাঁটারত অবস্থায় একজন পুরুষকে মোবাইলে বলতে শোনা গেল, ঈদের দিনও সিটে শুয়ে থাকতে ভালো লাগছিলো না। তাই একটু হাঁটছি।

পরক্ষণেই তিনি রোগী কিনা জিজ্ঞাসা করতেই তিনি উত্তর না দিয়ে সোজা চলে গেলেন হাসপাতাল অভ্যন্তরে। বুঝতে বাকি রইলো না তিনি একজন কোভিড আক্রান্ত রোগী।

হাসপাতালের ফ্লু কর্নারের পাশেই দৌড়াদৌড়ি করছিল কয়েকটি শিশু, যাদের মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। এমনকি আড্ডায় ব্যস্ত অভিভাবকদেরও মুখে মাস্ক দেখা যায়নি।

একটু ভিতরের দিকে গিয়ে দেখা গেল গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আড্ডা দিচ্ছে যুবকরা। বাতাসে পাওয়া গেল গাঁজার দুর্গন্ধ। আর একটু আঁধারে দেখা গেল গাছের গুড়িতে বসে আছেন কয়েক জোড়া প্রেমিকযুগল।

জানা গেল, কাগজে-কলমে এ হাসপাতালে ৬ জন প্রহরী থাকলেও তাদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। গত দুই দশকে তাদের চেহারা দেখেননি বা চিনেন না বলে জানিয়েছেন খোদ স্থানীয় এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, হাসপাতালের বাইরে যেসব অস্থায়ী দোকান-পাট রয়েছে সেখান থেকে স্থানীয় কয়েকজন পাচ্ছেন দৈনিক হারে চাঁদা। ঈদ উপলক্ষে এই চাঁদার পরিমাণ ছিল তিনগুণ। স্থানীয়রা প্রভাবশালী হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কখনওই এসব দোকান-পাট নিয়ে মাথা ঘামান না।

তবে এলাকাবাসী ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, স্থানীয়দের চেয়ে বাইরের এলাকার মানুষ বেশি আসেন এখানে। সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ৪০টি দোকান আছে এখানে। কিন্তু লকডাউনে করোনা হাসপাতালের সামনে কর্পোরেশনের উদ্যোগে কখনোই এখানে দোকানগুলো বন্ধ রাখার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। উল্টো দোকান মালিকরা যার যার দোকানের বাইরে রাস্তা দখল করে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে ব্যবসা করছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু বলেন, হাসপাতালের দেয়াল ঘেঁষা ড্রেনের উপর পৌরসভা আমলেই দোকান তৈরি করে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছিল। এসব দোকান ছিল ওষুধের। কিন্তু পরবর্তীতে ৩-৪টি রেখে বাকিগুলো খাবারের দোকান করা হয়েছে। আমরা জেলা প্রশাসনকে বারবার বলেছি, তারাও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। কিন্তু কয়েক হাজার মানুষ সমাগম হলে আমরা কি করতে পারি। আমাদের সিটি কর্পোরেশনে তো পুলিশ নেই।

এদিকে খানপুর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাশারকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

করোনা হাসপাতাল যেন বিনোদন কেন্দ্র! (ভিডিও)

 রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ 
১৫ মে ২০২১, ০৪:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা হাসপাতালের আশপাশে কোনো জনসমাগম থাকার কথা না থাকলেও নারায়ণগঞ্জ করোনা হাসপাতালটি হয়ে উঠেছে নগরবাসীর বিনোদন কেন্দ্র। ভয়ঙ্কর হলেও সত্য যে, বিশ্বের একমাত্র করোনা হাসপাতাল এটি, যার অভ্যন্তরে কোভিড আক্রান্ত রোগী আর ভ্রমণ পিপাসু মানুষ একসঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন।

এই হাসপাতালের মধ্যেই রয়েছে নগরীর সবচেয়ে বড় চটপটি আর ফাস্ট ফুড আইটেমের বাজার! শুধু তাই নয়, আদা চা থেকে শুরু করে মালটা, তেঁতুল, জলপাই, তুলসীসহ নানা রকমারি চা খেতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন শত শত মানুষ।

বিশেষ করে শুক্রবার ঈদের বিকাল থেকে গভীর রাত অবধি এই হাসপাতালের অভ্যন্তরে ও বাইরে সমাগম ছিল কয়েক হাজার নারী-পুরুষের। এমনকি ছোট্ট শিশুরাও দৌড়ে বেড়িয়েছে হাসপাতালের কমপাউন্ডে।

অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়েছে, এই হাসপাতালের পরিচালনা কমিটি থাকলেও সেটি শুধু খাতা কলমেই সীমাবদ্ধ। আর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল হরহামেশা এই সড়কের উপর দিয়ে আসা যাওয়া করলেও তাদেরও কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না।

এর আগে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষই পদক্ষেপ নেয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুক্রবার ঈদের সন্ধ্যায় খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে (কোভিড হাসপাতাল) গিয়ে দেখা গেছে পুরো সড়কটি লোকে লোকারণ্য। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি অনেকেই এসেছেন পরিবার নিয়ে অবকাশ কাটাতে।

হাসপাতালের পাশের সড়কটির দুই পাশে গড়ে উঠা প্রায় অর্ধশত স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানগুলোতে তিল ধারণেই ঠাই নেই। ব্যবসার সুবিধার্থে রাস্তার দুই ধারে দেয়া হয়েছে শত শত প্লাস্টিক চেয়ার। এখানে রয়েছে প্রায় দেড় ডজন চটপটির দোকান, ফাস্টফুড আইটেম দোকান রয়েছে প্রায় দুই ডজনের মতো। এছাড়াও আছে টি স্টল।

প্রাইভেট কার, রিকশা আর রাস্তা দখল করে রাখা চেয়ারের কারণে ওই সড়কে হেটে যাওয়াটাই যেন দুষ্কর। দেখা গেছে, নতুন জামা-কাপড় পরে আসা তরুণ-তরুণীরা মাস্ক ছাড়াই জমিয়েছেন জমপেশ আড্ডা।

এদিকে হাসপাতালের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই দেখা গেল এক ভয়ঙ্কর চিত্র। মুখে মাস্ক লাগিয়ে হাঁটারত অবস্থায় একজন পুরুষকে মোবাইলে বলতে শোনা গেল, ঈদের দিনও সিটে শুয়ে থাকতে ভালো লাগছিলো না। তাই একটু হাঁটছি।

পরক্ষণেই তিনি রোগী কিনা জিজ্ঞাসা করতেই তিনি উত্তর না দিয়ে সোজা চলে গেলেন হাসপাতাল অভ্যন্তরে। বুঝতে বাকি রইলো না তিনি একজন কোভিড আক্রান্ত রোগী।

হাসপাতালের ফ্লু কর্নারের পাশেই দৌড়াদৌড়ি করছিল কয়েকটি শিশু, যাদের মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। এমনকি আড্ডায় ব্যস্ত অভিভাবকদেরও মুখে মাস্ক দেখা যায়নি।

একটু ভিতরের দিকে গিয়ে দেখা গেল গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আড্ডা দিচ্ছে যুবকরা। বাতাসে পাওয়া গেল গাঁজার দুর্গন্ধ। আর একটু আঁধারে দেখা গেল গাছের গুড়িতে বসে আছেন কয়েক জোড়া প্রেমিকযুগল।

জানা গেল, কাগজে-কলমে এ হাসপাতালে ৬ জন প্রহরী থাকলেও তাদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। গত দুই দশকে তাদের চেহারা দেখেননি বা চিনেন না বলে জানিয়েছেন খোদ স্থানীয় এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, হাসপাতালের বাইরে যেসব অস্থায়ী দোকান-পাট রয়েছে সেখান থেকে স্থানীয় কয়েকজন পাচ্ছেন দৈনিক হারে চাঁদা। ঈদ উপলক্ষে এই চাঁদার পরিমাণ ছিল তিনগুণ। স্থানীয়রা প্রভাবশালী হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কখনওই এসব দোকান-পাট নিয়ে মাথা ঘামান না।

তবে এলাকাবাসী ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, স্থানীয়দের চেয়ে বাইরের এলাকার মানুষ বেশি আসেন এখানে। সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ৪০টি দোকান আছে এখানে। কিন্তু লকডাউনে করোনা হাসপাতালের সামনে কর্পোরেশনের উদ্যোগে কখনোই এখানে দোকানগুলো বন্ধ রাখার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। উল্টো দোকান মালিকরা যার যার দোকানের বাইরে রাস্তা দখল করে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে ব্যবসা করছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু বলেন, হাসপাতালের দেয়াল ঘেঁষা ড্রেনের উপর পৌরসভা আমলেই দোকান তৈরি করে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছিল। এসব দোকান ছিল ওষুধের। কিন্তু পরবর্তীতে ৩-৪টি রেখে বাকিগুলো খাবারের দোকান করা হয়েছে। আমরা জেলা প্রশাসনকে বারবার বলেছি, তারাও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। কিন্তু কয়েক হাজার মানুষ সমাগম হলে আমরা কি করতে পারি। আমাদের সিটি কর্পোরেশনে তো পুলিশ নেই।

এদিকে খানপুর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাশারকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন