ঈদে বন্ধ ছিল নারায়ণগঞ্জের সব বিনোদনকেন্দ্র
jugantor
ঈদে বন্ধ ছিল নারায়ণগঞ্জের সব বিনোদনকেন্দ্র

  রাসেল মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ  

১৭ মে ২০২১, ১২:৩৮:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনার কারণে ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জের সব বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ ছিল। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে বলে দাবি বিনোদনকেন্দ্রের মালিকদের।

গত বছরও করোনাকালীন বন্ধ থাকায় লোকসানের পরিমাণ কোটি ছাড়িয়েছে বলে মালিকরা জানিয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিনোদনকেন্দ্রগুলো আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় ঈদের দিন থেকে দর্শনার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই কাইকারটেকসহ বিভিন্ন সেতুতে আনন্দ উদযাপন করেছেন।

উল্লেখ, কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তার রোধে প্রশাসনের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জের বিনোদনকেন্দ্রগুলো গত ১ এপ্রিল থেকে বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় প্রায় ৪০টির মতো বিনোদনকেন্দ্র রয়েছে। জেলার শহর, সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জে এসব বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার শেখ রাসেল শিশুপার্ক, সোনারগাঁওয়ের পানাম নগরী, লোকশিল্প জাদুঘর, তাজমহল, রূপগঞ্জের জিন্দাপার্ক, রাসেল পার্ক, শি-সেল পার্কসহ অসংখ্য বিনোদনকেন্দ্র করোনাকালে বন্ধ রয়েছে।

গত বছর করোনাকালীন দুই ঈদ ও পহেলা বৈশাখে বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নারায়ণগঞ্জের বিনোদনকেন্দ্রগুলো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।

বিনোদনকেন্দ্র পরিচালনাকারী মালিকপক্ষের কয়েকজন বলছেন, ঈদের সময়ই তাদের আয়ের মূল সময়। গত বছর তা হয়নি। দুই বছর বৈশাখেও ছিল বন্ধ। ফলে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছেন। বিনোদনপার্ক ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর ব্যবসায়িক মৌসুম হলো ঈদ। শিল্পপ্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও গণপরিবহন সরকারি সিদ্ধান্তে খোলা থাকলেও এই খাতটির মুখ থুবড়ে পড়েছে।

মালিকপক্ষের কয়েকজন বলেন, পার্কগুলো খোলা জায়গায়, তাই ছয় ফুটের বেশি দূরত্ব রেখে সেবা প্রদান সম্ভব। এ খাতে প্রচুর বিনিয়োগ ও ব্যাংকঋণ রয়েছে। সবদিক বিবেচনায় সরকারের কাছে বিনোদনপার্কগুলো খুলে দেওয়ার অনুরোধ করছি।

সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘরের উপপরিচালক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, কর্মীদের বেতন, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ মাসে ব্যয় প্রায় লাখ টাকা। এখন পার্ক বন্ধ থাকায় কোনো আয় নেই।

জিন্দাপার্ক পরিচালনাকারী শাহীন আকন্দ বলেন, ঈদ ও পহেলা বৈশাখেই মূলত ব্যবসা হয়। কিন্তু গতবার দুই ঈদ ও পহেলা বৈশাখ লকডাউন ছিল। এবারও পহেলা বৈশাখ চলে গেছে। ঈদও চলে গেছে। আমাদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

রাসেল পার্কের মালিক মনির হোসেন মনু বিনোদনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার পাশাপাশি এই খাতকে সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজের আওতাভুক্ত করার দাবিও জানান। তিনি ঈদের পর দিন শনিবার মুড়াপাড়া শীতলক্ষ্যা নদের গাজী সেতুতে কথা হয় রার্মিশা আহম্মেদ ও কবির আহম্মেদ দম্পত্তির সঙ্গে।

তারা বলেন, কিছু করার নেই। সব বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ। তাই খোলা স্থানে এ সেতুতে ঘুরতে আসা। মন তো ভাই বিনোদন চায়। ঈদের দিন তাই সেতুতেই ঘুরতে এলাম।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, করোনার বিস্তার ঠেকাতে পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়েছে। কিছুই করার নেই। যেহেতু সংক্রমণ এখনও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তাই সবাইকে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে।

ঈদে বন্ধ ছিল নারায়ণগঞ্জের সব বিনোদনকেন্দ্র

 রাসেল মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ 
১৭ মে ২০২১, ১২:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনার কারণে ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জের সব বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ ছিল। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে বলে দাবি বিনোদনকেন্দ্রের মালিকদের।

গত বছরও করোনাকালীন বন্ধ থাকায় লোকসানের পরিমাণ কোটি ছাড়িয়েছে বলে মালিকরা জানিয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিনোদনকেন্দ্রগুলো আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় ঈদের দিন থেকে দর্শনার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই কাইকারটেকসহ বিভিন্ন সেতুতে আনন্দ উদযাপন করেছেন।

উল্লেখ, কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তার রোধে প্রশাসনের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জের বিনোদনকেন্দ্রগুলো গত ১ এপ্রিল থেকে বন্ধ রয়েছে।  

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় প্রায় ৪০টির মতো বিনোদনকেন্দ্র রয়েছে। জেলার শহর, সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জে এসব বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার শেখ রাসেল শিশুপার্ক, সোনারগাঁওয়ের পানাম নগরী, লোকশিল্প জাদুঘর, তাজমহল, রূপগঞ্জের জিন্দাপার্ক, রাসেল পার্ক, শি-সেল পার্কসহ অসংখ্য বিনোদনকেন্দ্র করোনাকালে বন্ধ রয়েছে।

গত বছর করোনাকালীন দুই ঈদ ও পহেলা বৈশাখে বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নারায়ণগঞ্জের বিনোদনকেন্দ্রগুলো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।

বিনোদনকেন্দ্র পরিচালনাকারী মালিকপক্ষের কয়েকজন বলছেন, ঈদের সময়ই তাদের আয়ের মূল সময়। গত বছর তা হয়নি। দুই বছর বৈশাখেও ছিল বন্ধ। ফলে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছেন। বিনোদনপার্ক ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর ব্যবসায়িক মৌসুম হলো ঈদ। শিল্পপ্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও গণপরিবহন সরকারি সিদ্ধান্তে খোলা থাকলেও এই খাতটির মুখ থুবড়ে পড়েছে।

মালিকপক্ষের কয়েকজন বলেন, পার্কগুলো খোলা জায়গায়, তাই ছয় ফুটের বেশি দূরত্ব রেখে সেবা প্রদান সম্ভব। এ খাতে প্রচুর বিনিয়োগ ও ব্যাংকঋণ রয়েছে। সবদিক বিবেচনায় সরকারের কাছে বিনোদনপার্কগুলো খুলে দেওয়ার অনুরোধ করছি।

সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘরের উপপরিচালক মো. রবিউল ইসলাম  বলেন, কর্মীদের বেতন, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ মাসে ব্যয় প্রায় লাখ টাকা। এখন পার্ক বন্ধ থাকায় কোনো আয় নেই।

জিন্দাপার্ক পরিচালনাকারী শাহীন আকন্দ বলেন, ঈদ ও পহেলা বৈশাখেই মূলত ব্যবসা হয়। কিন্তু গতবার দুই ঈদ ও পহেলা বৈশাখ লকডাউন ছিল। এবারও পহেলা বৈশাখ চলে গেছে। ঈদও চলে গেছে। আমাদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

রাসেল পার্কের মালিক মনির হোসেন মনু বিনোদনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার পাশাপাশি এই খাতকে সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজের আওতাভুক্ত করার দাবিও জানান। তিনি ঈদের পর দিন শনিবার মুড়াপাড়া শীতলক্ষ্যা নদের গাজী সেতুতে কথা হয় রার্মিশা আহম্মেদ ও কবির আহম্মেদ দম্পত্তির সঙ্গে।

তারা বলেন, কিছু করার নেই। সব বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ। তাই খোলা স্থানে এ সেতুতে ঘুরতে আসা। মন তো ভাই বিনোদন চায়। ঈদের দিন তাই সেতুতেই ঘুরতে এলাম।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, করোনার বিস্তার ঠেকাতে পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়েছে। কিছুই করার নেই। যেহেতু সংক্রমণ এখনও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তাই সবাইকে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন