ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের উপসর্গ, ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর?
jugantor
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের উপসর্গ, ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর?

  লাইফস্টাইল ডেস্ক  

১৫ জুন ২০২১, ১৩:৪০:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

কোভিড-১৯ মহামারিতে বিপর্যস্ত বিশ্ব। আমাদের দেশে এর দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যু বেড়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারতের নতুন ও শক্তিশালী করোনা সংক্রমণের যে ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়েছে, সেটিকে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নাম দিয়েছে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন। তথ্যমতে, করোনার এ ভ্যারিয়েন্টটি ভারতের ধ্বংসাত্মক করোনা সংক্রমণ ও তাতে মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ। গবেষকরা বলছেন, এটি ব্রিটেনের আলফা স্ট্রেনের চেয়েও অনেক বেশি সংক্রামক।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের নামকরণ
করোনা ভাইরাসের B.1.617.2 স্ট্রেনকে বলা হচ্ছে— ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট’। করোনার এ ভেরিয়েন্টটির উৎপত্তি ঘটেছে E484Q ও L452R নামের দুটি আলাদা ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট থেকে। জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং নমুনা পরীক্ষার পর ভারতের মহারাষ্ট্রে প্রথম এই ডবল মিউটেশনের লক্ষণটি ধরা পড়ে।

এর আগে ল্যাব টেস্টের ফল অনুযায়ী, গত বছর ডিসেম্বর মাস থেকেই ভারতে E484Q ও L452R-এ দুই করোনা ধরনের মিউটেশন তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। প্রথমে ভাইরাসের এ ধরনটিকে বলা হচ্ছিল— ‘ডাবল মিউট্যান্ট’ ভাইরাস বা ‘ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট’। পরে এ বছর মে মাসে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভাইরাসের এ ধরনটির নাম রাখে ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট’।

এটি ছাড়াও ব্রিটেনে উদ্ভাবিত হওয়া করোনার ‘B.1.17’ স্ট্রেনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আলফা ভ্যারিয়েন্ট’ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে উদ্ভাবিত ভিওসি-স্ট্রেনের নাম রাখা হয়েছে ‘বিটা ভ্যারিয়েন্ট’ ও ‘গামা ভ্যারিয়েন্ট’।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের উপসর্গ
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট অন্যান্য সব ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা। এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের মাঝে নতুন কিছু উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। যেমন শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, অত্যাধিক গ্যাস্টিকের সমস্যা হওয়া, রক্ত জমাট বেঁধে গিয়ে পচন ধরার মতো সমস্যা হওয়া ইত্যাদি।

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিটা ও গামা ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা সংক্রমিত করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে, এ ধরনের কোনো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত মোট ৬০টিরও বেশি দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সাম্প্রতি ব্রিটেনে, এই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের কারণে আগের চেয়ে কোভিড রোগী বেড়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে অনেক বেশি।

ভ্যাকসিন কতটা কার্যকরী
এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত কোনো ভ্যাকসিনই করোনার বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর কিনা সে বিষয়ে কোনো উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভাইরাসের নতুন স্ট্রেইনগুলো শরীরের ইমিউন সিস্টেমের ওপর প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রয়েছে। এ কারণে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনগুলোর এই স্ট্রেইনগুলোর বিরুদ্ধে খুব বেশি কার্যকর না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন গবেষকরা।

ভ্যাকসিনগুলো ভ্যারিয়েন্টগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে। তবে এটি অনেকটাই সংক্রমণের তীব্রতা ও মৃত্যুর হার কমাতে পারে।

তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের উপসর্গ, ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর?

 লাইফস্টাইল ডেস্ক 
১৫ জুন ২০২১, ০১:৪০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কোভিড-১৯ মহামারিতে বিপর্যস্ত বিশ্ব। আমাদের দেশে এর দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যু বেড়েছে।  বিশেষ করে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়েছে। 

ভারতের নতুন ও শক্তিশালী করোনা সংক্রমণের যে ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়েছে, সেটিকে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নাম দিয়েছে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন।  তথ্যমতে, করোনার এ ভ্যারিয়েন্টটি ভারতের ধ্বংসাত্মক করোনা সংক্রমণ ও তাতে মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ। গবেষকরা বলছেন, এটি ব্রিটেনের আলফা স্ট্রেনের চেয়েও অনেক বেশি সংক্রামক।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের নামকরণ
করোনা ভাইরাসের B.1.617.2 স্ট্রেনকে বলা হচ্ছে— ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট’। করোনার এ ভেরিয়েন্টটির উৎপত্তি ঘটেছে E484Q ও L452R নামের দুটি আলাদা ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট থেকে। জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং নমুনা পরীক্ষার পর ভারতের মহারাষ্ট্রে প্রথম এই ডবল মিউটেশনের লক্ষণটি ধরা পড়ে। 

এর আগে ল্যাব টেস্টের ফল অনুযায়ী, গত বছর ডিসেম্বর মাস থেকেই ভারতে E484Q ও L452R-এ দুই করোনা ধরনের মিউটেশন তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। প্রথমে ভাইরাসের এ ধরনটিকে বলা হচ্ছিল— ‘ডাবল মিউট্যান্ট’ ভাইরাস বা ‘ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট’। পরে এ বছর মে মাসে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভাইরাসের এ ধরনটির নাম রাখে ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট’।

এটি ছাড়াও ব্রিটেনে উদ্ভাবিত হওয়া করোনার ‘B.1.17’ স্ট্রেনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আলফা ভ্যারিয়েন্ট’ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে উদ্ভাবিত ভিওসি-স্ট্রেনের নাম রাখা হয়েছে ‘বিটা ভ্যারিয়েন্ট’ ও ‘গামা ভ্যারিয়েন্ট’।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের উপসর্গ
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট অন্যান্য সব ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা। এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের মাঝে নতুন কিছু উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।  যেমন শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, অত্যাধিক গ্যাস্টিকের সমস্যা হওয়া, রক্ত জমাট বেঁধে গিয়ে পচন ধরার মতো সমস্যা হওয়া ইত্যাদি। 

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিটা ও গামা ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা সংক্রমিত করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে, এ ধরনের কোনো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না।  এ পর্যন্ত মোট ৬০টিরও বেশি দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সাম্প্রতি ব্রিটেনে, এই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের কারণে আগের চেয়ে কোভিড রোগী বেড়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে অনেক বেশি। 

ভ্যাকসিন কতটা কার্যকরী 
এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত কোনো ভ্যাকসিনই করোনার বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর কিনা সে বিষয়ে কোনো উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভাইরাসের নতুন স্ট্রেইনগুলো শরীরের ইমিউন সিস্টেমের ওপর প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রয়েছে। এ কারণে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনগুলোর এই স্ট্রেইনগুলোর বিরুদ্ধে খুব বেশি কার্যকর না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন গবেষকরা।

ভ্যাকসিনগুলো ভ্যারিয়েন্টগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে।  তবে এটি অনেকটাই সংক্রমণের তীব্রতা ও মৃত্যুর হার কমাতে পারে। 

তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন