বিধি-নিষেধের ১ম দিনে নারায়ণগঞ্জে কর্মজীবীদের ক্ষোভ
jugantor
বিধি-নিষেধের ১ম দিনে নারায়ণগঞ্জে কর্মজীবীদের ক্ষোভ

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি  

২২ জুন ২০২১, ২০:২১:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

জনসাধারণের চলাচলসহ সার্বিক কার্যাবলীর ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ঘরের বাইরে ছুটেছেন শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের কর্মজীবী মানুষ। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের চেকপোস্টে যানবাহন আটকে দেয়ায় ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তাদের।

তার ওপর সকাল থেকে ভারিবর্ষণ আর রাস্তার হাঁটু ছুঁই ছুঁই পানির কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন তারা।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে সব গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও সকাল থেকেই বিনাবাধায় চলাচল করেছে মৌমিতা ও অনাবিল নামের ২টি বাস সার্ভিস। তবে নগরীর প্রায় সব মার্কেট, বিপণিবিতান ছিল বন্ধ।

সরেজমিন দেখা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর নগরীর অংশে বন্দর সেন্ট্রাল ঘাটে সকাল থেকেই নৌকা ও ট্রলার চলাচল স্বাভাবিক ছিল। বন্দর উপজেলা থেকে হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ নদী পারাপার হয়েছেন। তবে দুপুরের আগে কয়েক ঘণ্টা নৌকা চলাচল বন্ধ থাকলেও দুপুরের পর তা স্বাভাবিক হয়।

বন্দর সেন্ট্রাল ঘাটের পাশাপাশি ৫নং ঘাট, বরফ কল ঘাট, টানবাজার ঘাট, নবীগঞ্জ ঘাটসহ বেশ কয়েকটি খেয়া পারাপারের ঘাটও ছিল উন্মুক্ত।

এদিকে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সকাল থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস দেখা না গেলেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান, রিকশা ও প্রাইভেট কারের আধিক্য ছিল। অনেকে ভ্যানে করেও গন্তব্যে পৌঁছেন।

এছাড়াও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডে কুমিল্লা, সিলেট, ফেনীসহ দূরপাল্লার বেশকিছু অঞ্চলের বাসও চলাচল করতে দেখা যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যাও বেড়েছে অনেক।

সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোড এলাকায় দুপুরের পর থেকে রীতিমতো যানজটের কারণে চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে যাত্রীদের।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান রাস্তা বঙ্গবন্ধু সড়কটি দুপুর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে থাকলেও সাধারণ মানুষের চলাচল ছিল স্বাভাবিক। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও রিকশার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিবহন ছিল চোখে পড়ার মতো। সকালে চাষাঢ়া এলাকায় রিকশা আটকে দিলে পুলিশের সঙ্গে যাত্রীদের অসংখ্যবার কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই গত অর্ধমাস ধরে পানিবন্দি সিটি করপোরেশনের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন। শুধু ওই ওয়ার্ডই নয়, ডিএনডির পুরো এলাকাই এখন অতিবৃষ্টির কারণে পানির তলে ডুবে আছে। এসব পানিবন্দি মানুষ বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতিকে মরাড় উপর খাঁড়ার ঘা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ। লকডাউনের মধ্যেও পোশাক কারখানা খোলা থাকায় দীর্ঘ পথ হেঁটে কারখানায় পৌঁছতে দেখা গেছে পোশাক শ্রমিকদের। সকালে বৃষ্টির মধ্যেও ছাতা মাথায়, অনেককে ভিজেও কারখানার উদ্দেশে রওনা হতে দেখা গেছে। কারখানা খোলা রেখে গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোগান্তির শিকার হওয়া শ্রমিকরা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ ও পুলিশ সুপার জাহেদুল আলম জানিয়েছেন, বিধিনিষেধের পুরোটা সময় জেলায় ১৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি জেলায় মোট ৩০টি পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকার পাশের সাত জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময়ে রাস্তায় মানুষও চলাচল করতে পারবে না। শুধু জরুরি সেবা ও মালবাহী গাড়ি চলাচল করতে পারবে বলে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

বিধি-নিষেধের ১ম দিনে নারায়ণগঞ্জে কর্মজীবীদের ক্ষোভ

 নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 
২২ জুন ২০২১, ০৮:২১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জনসাধারণের চলাচলসহ সার্বিক কার্যাবলীর ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ঘরের বাইরে ছুটেছেন শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের কর্মজীবী মানুষ। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের চেকপোস্টে যানবাহন আটকে দেয়ায় ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তাদের।

তার ওপর সকাল থেকে ভারিবর্ষণ আর রাস্তার হাঁটু ছুঁই ছুঁই পানির কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন তারা।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে সব গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও সকাল থেকেই বিনাবাধায় চলাচল করেছে মৌমিতা ও অনাবিল নামের ২টি বাস সার্ভিস। তবে নগরীর প্রায় সব মার্কেট, বিপণিবিতান ছিল বন্ধ।

সরেজমিন দেখা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর নগরীর অংশে বন্দর সেন্ট্রাল ঘাটে সকাল থেকেই নৌকা ও ট্রলার চলাচল স্বাভাবিক ছিল। বন্দর উপজেলা থেকে হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ নদী পারাপার হয়েছেন। তবে দুপুরের আগে কয়েক ঘণ্টা নৌকা চলাচল বন্ধ থাকলেও দুপুরের পর তা স্বাভাবিক হয়।

বন্দর সেন্ট্রাল ঘাটের পাশাপাশি ৫নং ঘাট, বরফ কল ঘাট, টানবাজার ঘাট, নবীগঞ্জ ঘাটসহ বেশ কয়েকটি খেয়া পারাপারের ঘাটও ছিল উন্মুক্ত।

এদিকে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সকাল থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস দেখা না গেলেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান, রিকশা ও প্রাইভেট কারের আধিক্য ছিল। অনেকে ভ্যানে করেও গন্তব্যে পৌঁছেন।

এছাড়াও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডে কুমিল্লা, সিলেট, ফেনীসহ দূরপাল্লার বেশকিছু অঞ্চলের বাসও চলাচল করতে দেখা যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যাও বেড়েছে অনেক।

সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোড এলাকায় দুপুরের পর থেকে রীতিমতো যানজটের কারণে চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে যাত্রীদের।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান রাস্তা বঙ্গবন্ধু সড়কটি দুপুর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে থাকলেও সাধারণ মানুষের চলাচল ছিল স্বাভাবিক। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও রিকশার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিবহন ছিল চোখে পড়ার মতো। সকালে চাষাঢ়া এলাকায় রিকশা আটকে দিলে পুলিশের সঙ্গে যাত্রীদের অসংখ্যবার কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই গত অর্ধমাস ধরে পানিবন্দি সিটি করপোরেশনের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন। শুধু ওই ওয়ার্ডই নয়, ডিএনডির পুরো এলাকাই এখন অতিবৃষ্টির কারণে পানির তলে ডুবে আছে। এসব পানিবন্দি মানুষ বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতিকে মরাড় উপর খাঁড়ার ঘা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ। লকডাউনের মধ্যেও পোশাক কারখানা খোলা থাকায় দীর্ঘ পথ হেঁটে কারখানায় পৌঁছতে দেখা গেছে পোশাক শ্রমিকদের। সকালে বৃষ্টির মধ্যেও ছাতা মাথায়, অনেককে ভিজেও কারখানার উদ্দেশে রওনা হতে দেখা গেছে। কারখানা খোলা রেখে গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোগান্তির শিকার হওয়া শ্রমিকরা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ ও পুলিশ সুপার জাহেদুল আলম জানিয়েছেন, বিধিনিষেধের পুরোটা সময় জেলায় ১৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি জেলায় মোট ৩০টি পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকার পাশের সাত জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময়ে রাস্তায় মানুষও চলাচল করতে পারবে না। শুধু জরুরি সেবা ও মালবাহী গাড়ি চলাচল করতে পারবে বলে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস