পাবনায় ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৪৩৬ জন, পরীক্ষায় অচলাবস্থা কাটেনি
jugantor
পাবনায় ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৪৩৬ জন, পরীক্ষায় অচলাবস্থা কাটেনি

  পাবনা প্রতিনিধি  

০৩ জুলাই ২০২১, ০৩:৪০:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

পাবনায় হু হু করে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৩৬ জন এবং ৩ দিনে ৬১৩ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে করোনায় সরকারি হিসেবে ২৩ জন এবং করোনা উপসর্গে কমপক্ষে ৫০ জন মারা গেছেন।

এদিকে এত চরম ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যেও পাবনায় করোনার নমুনা পরীক্ষায় অচলাবস্থা কাটেনি। পাবনায় পিসিআর ল্যাব না থাকায় সিরাজগঞ্জ থেকে নমুনা পরীক্ষা করানো হচ্ছে। কিন্তু সেখান থেকে রিপোর্ট পেতে সময় লাগছে কমপক্ষে এক সপ্তাহ।

নমুনার রিপোর্ট পেতে এ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে জেলায় করোনা আক্রান্ত এবং করোনার উপসর্গে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পাবনার বিশিষ্টজনদের নিয়ে গঠিত ঢাকাস্থ পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন গত সপ্তাতে একটি পিসিআর ল্যাব উপহার হিসেবে পাবনা মেডিকেল কলেজে প্রদান করলেও শুক্রবার পর্যন্ত সেটি চালু হয়নি।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বিশেষজ্ঞ না আসায় ওই উপহারের মেশিনটি এখনো প্যাকেটেই রয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, এক সময়ের পাবনার মহকুমা সিরাজগঞ্জে এবং কুষ্টিয়া, বগুড়া ও রাজশাহীতে পিসিআর ল্যাব থাকলেও পাবনার মানুষের কপালে তা জোটেনি।

এদিকে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। একবার নমুনা দিয়ে রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ায় করোনার উপসর্গে থাকা এবং করোনা রোগীসহ তাদের স্বজনদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। এসব নিয়ে চিকিৎসা ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে চরম অচলাবস্থা।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের একজন মেডিকেল অফিসার জানান, পাবনা জেনারেল হাসপাতালে কোভিড ওয়ার্ডে করোনা রোগী উপসর্গে থাকা রোগীদের নমুনা দেয়ার পর দেরিতে রিপোর্ট আসায় চিকিৎসার ক্ষেত্রে চরম অসুবিধার মুখে পড়ছেন তারা।

করোনার নমুনার রিপোর্ট দেরিতে কেন পাওয়া যাচ্ছে- এমন প্রশ্নে পাবনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. কেএম আবু জাফর বলেন, আসলে পাবনায় আমাদের নিজেদের জন্য পিসিআর ল্যাব না থাকায় অন্য জেলায় পাঠাতে হচ্ছে নমুনা। সেখানে অতিরিক্ত চাপের কারণে এই রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে। তবে পাবনা মেডিকেল কলেজে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে।

এদিকে পাবনার নমুনা পরীক্ষায় সহযোগিতার হাত বাড়ায় পাবনার বিশিষ্টজনদের নিয়ে গঠিত ঢাকাস্থ পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।

এই ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাবেক দুদক কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও সাধারণ সম্পাদক রেল সচিব সেলিম রেজা জানান, গত ২৭ জুন তারা একটি পিসিআর ল্যাব ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক মহিউদ্দিন ভুঁইয়ার মাধ্যমে পাবনা মেডিকেল কলেজে পাঠান। এ সংক্রান্ত চিঠি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনকেও দেয়া হয়। কিন্তু সেটি এখনো কেন চালু হয়নি-তা বোধগম্য নয়।

এ ব্যাপারে পাবনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. বুলবুল হাসান এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বিশেষজ্ঞ এসে এটি ইন্সটল করে দেয়ার কথা। আমরা কক্ষসহ আনসুসঙ্গিক সবকিছু প্রস্তুত করে রেখেছি। কিন্তু শুক্রবার পর্যন্ত কেউ আসেনি। এদিকে পাবনায় হু হু করে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, পাবনায় এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সংক্রমণের হার ছিল ২ শতাংশ। কিন্তু মার্চ এর দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর সংক্রমণের হার বেড়ে যায়। ২১ জুন পর্যন্ত সংক্রমণের হার ছিল ৩ শতাংশ। কিন্তু জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে সংক্রমণ বেড়ে যায় ৪ তেকে ৫ গুণ।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৩৬ জন ৩দিনে ৬১৩ জন করোনা সনাক্ত হয়েছেন। সংক্রমণের হার ১৭ দশমিক ৪৫ ভাগ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাবনা থেকে নিজস্ব পিসিআর ল্যাবে অবাধে নমুনা পরীক্ষা শুরু হলে সংক্রমণের হার আরও বেড়ে যাবে।

এদিকে সংক্রমণ ঠেকাতে সারা দেশের মতো পাবনাতেও লকডাউন শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রথম দিনের তুলনায় শুক্রবার অনেকটা ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান সড়কে জনসমাগম কিছুটা কম হলেও শহরের অলি গলিসহ শহরের বাইরে স্বাস্থ্য বিধি তেমন মানছেন না কেউ।

পাবনায় ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৪৩৬ জন, পরীক্ষায় অচলাবস্থা কাটেনি

 পাবনা প্রতিনিধি 
০৩ জুলাই ২০২১, ০৩:৪০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পাবনায় হু হু করে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৩৬ জন এবং ৩ দিনে ৬১৩ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে করোনায় সরকারি হিসেবে ২৩ জন এবং করোনা উপসর্গে কমপক্ষে ৫০ জন মারা গেছেন।

এদিকে এত চরম ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যেও পাবনায় করোনার নমুনা পরীক্ষায় অচলাবস্থা কাটেনি। পাবনায় পিসিআর ল্যাব না থাকায় সিরাজগঞ্জ থেকে নমুনা পরীক্ষা করানো হচ্ছে। কিন্তু সেখান থেকে রিপোর্ট পেতে সময় লাগছে কমপক্ষে এক সপ্তাহ।

নমুনার রিপোর্ট পেতে এ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে জেলায় করোনা আক্রান্ত এবং করোনার উপসর্গে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পাবনার বিশিষ্টজনদের নিয়ে গঠিত ঢাকাস্থ পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন গত সপ্তাতে একটি পিসিআর ল্যাব উপহার হিসেবে পাবনা মেডিকেল কলেজে প্রদান করলেও শুক্রবার পর্যন্ত সেটি চালু হয়নি।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বিশেষজ্ঞ না আসায় ওই উপহারের মেশিনটি এখনো প্যাকেটেই রয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, এক সময়ের পাবনার মহকুমা সিরাজগঞ্জে এবং কুষ্টিয়া, বগুড়া ও রাজশাহীতে পিসিআর ল্যাব থাকলেও পাবনার মানুষের কপালে তা জোটেনি।

এদিকে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। একবার নমুনা দিয়ে রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ায় করোনার উপসর্গে থাকা এবং করোনা রোগীসহ তাদের স্বজনদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। এসব নিয়ে চিকিৎসা ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে চরম অচলাবস্থা।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের একজন মেডিকেল অফিসার জানান, পাবনা জেনারেল হাসপাতালে কোভিড ওয়ার্ডে করোনা রোগী উপসর্গে থাকা রোগীদের নমুনা দেয়ার পর দেরিতে রিপোর্ট আসায় চিকিৎসার ক্ষেত্রে চরম অসুবিধার মুখে পড়ছেন তারা।

করোনার নমুনার রিপোর্ট দেরিতে কেন পাওয়া যাচ্ছে- এমন প্রশ্নে পাবনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. কেএম আবু জাফর বলেন, আসলে পাবনায় আমাদের নিজেদের জন্য পিসিআর ল্যাব না থাকায় অন্য জেলায় পাঠাতে হচ্ছে নমুনা। সেখানে অতিরিক্ত চাপের কারণে এই রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে। তবে পাবনা মেডিকেল কলেজে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে।

এদিকে পাবনার নমুনা পরীক্ষায় সহযোগিতার হাত বাড়ায় পাবনার বিশিষ্টজনদের নিয়ে গঠিত ঢাকাস্থ পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।

এই ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাবেক দুদক কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও সাধারণ সম্পাদক রেল সচিব সেলিম রেজা জানান, গত ২৭ জুন তারা একটি পিসিআর ল্যাব ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক মহিউদ্দিন ভুঁইয়ার মাধ্যমে পাবনা মেডিকেল কলেজে পাঠান। এ সংক্রান্ত চিঠি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনকেও দেয়া হয়। কিন্তু সেটি এখনো কেন চালু হয়নি-তা বোধগম্য নয়।

এ ব্যাপারে পাবনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. বুলবুল হাসান এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বিশেষজ্ঞ এসে এটি ইন্সটল করে দেয়ার কথা। আমরা কক্ষসহ আনসুসঙ্গিক সবকিছু প্রস্তুত করে রেখেছি। কিন্তু শুক্রবার পর্যন্ত কেউ আসেনি। এদিকে পাবনায় হু হু করে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, পাবনায় এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সংক্রমণের হার ছিল ২ শতাংশ। কিন্তু মার্চ এর দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর সংক্রমণের হার বেড়ে যায়। ২১ জুন পর্যন্ত সংক্রমণের হার ছিল ৩ শতাংশ। কিন্তু জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে সংক্রমণ বেড়ে যায় ৪ তেকে ৫ গুণ।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৩৬ জন ৩দিনে ৬১৩ জন করোনা সনাক্ত হয়েছেন। সংক্রমণের হার ১৭ দশমিক ৪৫ ভাগ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাবনা থেকে নিজস্ব পিসিআর ল্যাবে অবাধে নমুনা পরীক্ষা শুরু হলে সংক্রমণের হার আরও বেড়ে যাবে।

এদিকে সংক্রমণ ঠেকাতে সারা দেশের মতো পাবনাতেও লকডাউন শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রথম দিনের তুলনায় শুক্রবার অনেকটা ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান সড়কে জনসমাগম কিছুটা কম হলেও শহরের অলি গলিসহ শহরের বাইরে স্বাস্থ্য বিধি তেমন মানছেন না কেউ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

২০ অক্টোবর, ২০২১
১৭ অক্টোবর, ২০২১