নাইট ডিউটি শেষে হেঁটে বাড়ি যেতে বাধ্য হলেন চিকিৎসক
jugantor
নাইট ডিউটি শেষে হেঁটে বাড়ি যেতে বাধ্য হলেন চিকিৎসক

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি  

২৪ জুলাই ২০২১, ০০:৩৮:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

নাইট ডিউটি শেষে হেঁটে বাড়ি যেতে বাধ্য হলেন চিকিৎসক

নারায়ণগঞ্জে লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালন শেষে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন ডাক্তারকে হেঁটে বাড়ি ফিরতে বাধ্য করেছেন সড়কে দায়িত্বরতরা। শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া মোড়ে ঘটে এ ঘটনাটি।

পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসক, জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির নজরে আনা হলে তারা ডাক্তারদের যাতায়াতের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।

ঘটনায় ভুক্তভোগী ডাক্তার গোলাম মোস্তফা জানান, আমি এখনো দায়িত্বে আছি। আমাদের (ডিউটি) দায়িত্বের সময় সাধারণত ৮ ঘণ্টা করে হয় তবে আমি গতকাল দ্বিগুণ দায়িত্ব (ডাবল ডিউটি) পালন করেছি। সারারাত রোগীরও অনেক চাপ ছিল যা এখনো আছে। আমি দায়িত্ব পালন শেষে সকালে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকটি তল্লাশি চৌকিতেও আমাকে আটকায়। সেখানে আমি পরিচয় দেই পরিচয়পত্র দেখাই আমাকে ছেড়ে দেয়।

তিনি বলেন, সকালে এমনিতেই লকডাউনে যানবাহন নেই। আমি অনেক কষ্টে একটি মিশুক অটো ঠিক করি, যেটা দিয়ে আমি বাড়ি ফিরছিলাম। আমার বাড়ি একটু দূরে নতুন কোর্টের বিপরীতে। অর্ধেক পথ যাওয়ার পর চাষাঢ়ায় ম্যাজিস্ট্রেটের পাশের পুলিশ সদস্যরা আমাকে নামিয়ে দেয়। তখন সেখানে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছিলেন, আমার নামটা সঠিক মনে নেই।

তিনি আরও বলেন, ওই সময় আমি আমার পরিচয় দিলেও ওই ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আমাকে নামিয়ে দিয়ে মিশুক অটোটি আটকে রাখে। আমি তখন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাহায্য চাই এবং তাকে জানাই যে আমি সারারাত দায়িত্ব পালন করেছি, অনেক রোগীর চাপ ছিল আমার বাড়িও দূরে। যদি এই বাহনে যেতে না পারি তাহলে আমাকে অন্য একটি বাহন ঠিক করে দিন। তিনি আমাকে দিচ্ছি বললেও পরে আর কোনো বাহন ঠিক করে দেয়া হয়নি। আমাকেও অটোতে যেতে দেয়া হয়নি। অনেক ক্লান্ত হওয়ায় এবং আজ রাতে আবার দায়িত্ব থাকায় আমি হেঁটে বাড়ি ফিরে যাই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির ফোকাল পারসন ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পর আমি এবং বিএমএ এর সাধারণ সম্পাদক জেলা প্রশাসক ও জেলা সিভিল সার্জনের নজরে আনি। ডাক্তাররা দায়িত্ব পালন করবে ঠিক আছে কিন্তু তাদের যাতায়াতের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করতে আমরা বলেছি। জেলা প্রশাসক ও জেলা সিভিল সার্জন জেলা কোভিড কমিটির পক্ষ থেকে দুটি গাড়ির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্তদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন।

নাইট ডিউটি শেষে হেঁটে বাড়ি যেতে বাধ্য হলেন চিকিৎসক

 নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 
২৪ জুলাই ২০২১, ১২:৩৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
নাইট ডিউটি শেষে হেঁটে বাড়ি যেতে বাধ্য হলেন চিকিৎসক
ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জে লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালন শেষে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন ডাক্তারকে হেঁটে বাড়ি ফিরতে বাধ্য করেছেন সড়কে দায়িত্বরতরা। শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া মোড়ে ঘটে এ ঘটনাটি।

পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসক, জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির নজরে আনা হলে তারা ডাক্তারদের যাতায়াতের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।

ঘটনায় ভুক্তভোগী ডাক্তার গোলাম মোস্তফা জানান, আমি এখনো দায়িত্বে আছি। আমাদের (ডিউটি) দায়িত্বের সময় সাধারণত ৮ ঘণ্টা করে হয় তবে আমি গতকাল দ্বিগুণ দায়িত্ব (ডাবল ডিউটি) পালন করেছি। সারারাত রোগীরও অনেক চাপ ছিল যা এখনো আছে। আমি দায়িত্ব পালন শেষে সকালে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকটি তল্লাশি চৌকিতেও আমাকে আটকায়। সেখানে আমি পরিচয় দেই পরিচয়পত্র দেখাই আমাকে ছেড়ে দেয়।

তিনি বলেন, সকালে এমনিতেই লকডাউনে যানবাহন নেই। আমি অনেক কষ্টে একটি মিশুক অটো ঠিক করি, যেটা দিয়ে আমি বাড়ি ফিরছিলাম। আমার বাড়ি একটু দূরে নতুন কোর্টের বিপরীতে। অর্ধেক পথ যাওয়ার পর চাষাঢ়ায় ম্যাজিস্ট্রেটের পাশের পুলিশ সদস্যরা আমাকে নামিয়ে দেয়। তখন সেখানে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছিলেন, আমার নামটা সঠিক মনে নেই।

তিনি আরও বলেন, ওই সময় আমি আমার পরিচয় দিলেও ওই ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আমাকে নামিয়ে দিয়ে মিশুক অটোটি আটকে রাখে। আমি তখন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাহায্য চাই এবং তাকে জানাই যে আমি সারারাত দায়িত্ব পালন করেছি, অনেক রোগীর চাপ ছিল আমার বাড়িও দূরে। যদি এই বাহনে যেতে না পারি তাহলে আমাকে অন্য একটি বাহন ঠিক করে দিন। তিনি আমাকে দিচ্ছি বললেও পরে আর কোনো বাহন ঠিক করে দেয়া হয়নি। আমাকেও অটোতে যেতে দেয়া হয়নি। অনেক ক্লান্ত হওয়ায় এবং আজ রাতে আবার দায়িত্ব থাকায় আমি হেঁটে বাড়ি ফিরে যাই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির ফোকাল পারসন ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পর আমি এবং বিএমএ এর সাধারণ সম্পাদক জেলা প্রশাসক ও জেলা সিভিল সার্জনের নজরে আনি। ডাক্তাররা দায়িত্ব পালন করবে ঠিক আছে কিন্তু তাদের যাতায়াতের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করতে আমরা বলেছি। জেলা প্রশাসক ও জেলা সিভিল সার্জন জেলা কোভিড কমিটির পক্ষ থেকে দুটি গাড়ির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্তদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস