করোনা রোগীর চাপে ভয়াবহ অবস্থা চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে
jugantor
করোনা রোগীর চাপে ভয়াবহ অবস্থা চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে

  মির্জা জাকির, চাঁদপুর  

২৬ জুলাই ২০২১, ২২:৫৪:৩৩  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা ও তার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীতে ভরপুর চাঁদপুর আড়াইশ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল। রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় নতুনভাবে করোনা ওয়ার্ড চালু করা হলেও সেখানেও কোনো শয্যা খালি নেই।

শয্যার অভাবে রোগীকে ফ্লোরে রেখেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। দিন যতই গড়াচ্ছে ততই চাঁদপুরে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়ছে। এসব রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের। বর্তমানে এ জেলায় করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হচ্ছে।

এ অবস্থায় সদর হাসপাতালের আইসোলেশনের বেড ৬০ থেকে ১২০টিতে উন্নীত করা হয়েছে। তারপরও অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের গলদঘর্ম অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ১১৮ জন। জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ১৫৮ জন। তবে সদর হাসপাতালের বাইরে ঢাকা কুমিল্লাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে এ জেলার করোনা রোগীর মৃতের সংখ্যা শতাধিক বলে জানা যায়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দুই সহস্রাধিক বলে জানা যায়।

এদিকে রোগীর অস্বাভাবিক চাপ বেড়ে যাওয়ায় চাঁদপুরে করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। ঈদের দিন থেকে হঠাৎ করেই করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হাবিব উল করিম জানান, অক্সিজেন সংকট তেমন বেশি না, মাঝে মাঝে সমস্যা হয়। রোগী বেড়ে যাওয়ার কারণে এ সমস্যা হচ্ছে।

অক্সিজেন সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৫ জুলাই থেকে একটি গ্রুপ অক্সিজেন দিচ্ছে। এছাড়া কুমিল্লা থেকে প্রতিদিনই অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করে আনা হচ্ছে। এরপরও সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। অক্সিজেন সংকট কিছু সময়ের জন্য হলেও তা খুব বেশি না। হাসপাতালে বর্তমানে ২৪০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে। যার মধ্যে ১৮০টি বড় এবং ৬০টি ছোট সিলিন্ডার।

তিনি আরও জানান, স্পেকট্রার মাধ্যমে নির্মিত চাঁদপুর সদর হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্ট পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। লিকুইড অক্সিজেন আসতে দেরি হওয়ার কারণে তা চালু করা যাচ্ছে না। সারা দেশের ৩০টি লিকুইড অক্সিজেন প্লান্ট এখনো চালু করা যায়নি। অক্সিজেন পেলে এগুলো চালু হবে। তবে খুব দ্রুত এটি চালু হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

হাসপাতালের করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ও আরএমও ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হচ্ছে। বর্তমানে গড়ে ৪০ জন করে করোনা পজিটিভ রোগী এখানে ভর্তি হচ্ছে। তাছাড়া করোনার উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ৭০ জন রোগী এখানে আসছে। চাদঁপুর সদর হাসপাতালে এখন গড়ে এখন ৪শ’র উপরে নমুনা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি জানান, করোনার উদ্বেগজনক এমন পরিস্থিতিতে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি যারা করোনা আক্রান্ত তাদের হোম আইসোলেশন নিশ্চিত করবে, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য প্রচার-প্রচারণা চালাবে, টিকাদান কাজে সহায়তা করবে। সার্বিকভাবে তারা করোনা প্রতিরোধে সহায়তা করবে।

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, উপজেলা হাসপাতালে করোনা বেড থাকার পরেও সেসব এলাকার রোগীরা জেলা সদরে ২৫০ শয্যা হাসপাতালমুখী হচ্ছেন। অথচ জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা রোগীর যাবতীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। তারপরও মানুষজন বিভিন্ন উপজেলা থেকে জেলা হাসপাতালে করোনার নমুনা টেস্ট করতে আসছেন। স্ব-স্ব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা নমুনা টেস্টের ব্যবস্থা রয়েছে। যেখানে ৩০ মিনিটের মধ্যে তার রিপোর্টও পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, চাঁদপুরে করোনা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে।

করোনা রোগীর চাপে ভয়াবহ অবস্থা চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে

 মির্জা জাকির, চাঁদপুর 
২৬ জুলাই ২০২১, ১০:৫৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা ও তার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীতে ভরপুর চাঁদপুর আড়াইশ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল। রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় নতুনভাবে করোনা ওয়ার্ড চালু করা হলেও সেখানেও কোনো শয্যা খালি নেই।

শয্যার অভাবে রোগীকে ফ্লোরে রেখেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। দিন যতই গড়াচ্ছে ততই চাঁদপুরে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়ছে। এসব রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের। বর্তমানে এ জেলায় করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হচ্ছে।

এ অবস্থায় সদর হাসপাতালের আইসোলেশনের বেড ৬০ থেকে ১২০টিতে উন্নীত করা হয়েছে। তারপরও অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের গলদঘর্ম অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ১১৮ জন। জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ১৫৮ জন। তবে সদর হাসপাতালের বাইরে ঢাকা কুমিল্লাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে এ জেলার করোনা রোগীর মৃতের সংখ্যা শতাধিক বলে জানা যায়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দুই সহস্রাধিক বলে জানা যায়।

এদিকে রোগীর অস্বাভাবিক চাপ বেড়ে যাওয়ায় চাঁদপুরে করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। ঈদের দিন থেকে হঠাৎ করেই করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হাবিব উল করিম জানান, অক্সিজেন সংকট তেমন বেশি না, মাঝে মাঝে সমস্যা হয়। রোগী বেড়ে যাওয়ার কারণে এ সমস্যা হচ্ছে।

অক্সিজেন সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৫ জুলাই থেকে একটি গ্রুপ অক্সিজেন দিচ্ছে। এছাড়া কুমিল্লা থেকে প্রতিদিনই অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করে আনা হচ্ছে। এরপরও সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। অক্সিজেন সংকট কিছু সময়ের জন্য হলেও তা খুব বেশি না। হাসপাতালে বর্তমানে ২৪০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে। যার মধ্যে ১৮০টি বড় এবং ৬০টি ছোট সিলিন্ডার।

তিনি আরও জানান, স্পেকট্রার মাধ্যমে নির্মিত চাঁদপুর সদর হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্ট পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। লিকুইড অক্সিজেন আসতে দেরি হওয়ার কারণে তা চালু করা যাচ্ছে না। সারা দেশের ৩০টি লিকুইড অক্সিজেন প্লান্ট এখনো চালু করা যায়নি। অক্সিজেন পেলে এগুলো চালু হবে। তবে খুব দ্রুত এটি চালু হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

হাসপাতালের করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ও আরএমও ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হচ্ছে। বর্তমানে গড়ে ৪০ জন করে করোনা পজিটিভ রোগী এখানে ভর্তি হচ্ছে। তাছাড়া করোনার উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ৭০ জন রোগী এখানে আসছে। চাদঁপুর সদর হাসপাতালে এখন গড়ে এখন ৪শ’র উপরে নমুনা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি জানান, করোনার উদ্বেগজনক এমন পরিস্থিতিতে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি যারা করোনা আক্রান্ত তাদের হোম আইসোলেশন নিশ্চিত করবে, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য প্রচার-প্রচারণা চালাবে, টিকাদান কাজে সহায়তা করবে। সার্বিকভাবে তারা করোনা প্রতিরোধে সহায়তা করবে।

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, উপজেলা হাসপাতালে করোনা বেড থাকার পরেও সেসব এলাকার রোগীরা জেলা সদরে ২৫০ শয্যা হাসপাতালমুখী হচ্ছেন। অথচ জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা রোগীর যাবতীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। তারপরও  মানুষজন বিভিন্ন উপজেলা থেকে জেলা হাসপাতালে করোনার নমুনা টেস্ট করতে আসছেন। স্ব-স্ব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা নমুনা টেস্টের ব্যবস্থা রয়েছে। যেখানে ৩০ মিনিটের মধ্যে তার রিপোর্টও পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, চাঁদপুরে করোনা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১