কুষ্টিয়ায় আরও ৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২৭
jugantor
কুষ্টিয়ায় আরও ৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২৭

  ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি  

২৮ জুলাই ২০২১, ১৫:১৫:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা

করোনা সংক্রমণের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলার তালিকায় প্রথম কুষ্টিয়া। অস্বাভাবিকহারে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তাদের মৃত্যু হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মোমেন, এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৩টি নমুনা পরীক্ষায় ২২৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ। জেলায় এটাই সর্বোচ্চ শনাক্তের হার। কুষ্টিয়ায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৯০২ জন।এ পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় ৫৩০ জনের মৃত্যু হলো।

এদিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ২০০ বেডের অনুকূলে বর্তমানে হাসপাতালে ১৪৯ করোনা আক্রান্ত রোগী ও ৪৪ উপসর্গ নিয়ে মোট ১৯৩ জন ভর্তি রয়েছে। জেলায় হোম আইসোলেশনে আছেন তিন হাজার ৩৩৪ জন। বাকিরা করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন। প্রায় ৭০ শতাংশ রোগীদের অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মোমেন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কারণে মানুষ আগের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনার নতুন স্ট্রেইন ছড়িয়ে পড়ায় একজনের দ্বারা অনেক লোক আক্রান্ত হতে পারেন। এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসককে আরও কঠোর হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিকে ডেডিকেটেড ঘোষণার পর থেকে রোগীর চাপ বাড়তে আছে। প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের লোকবল কম। এ জন্য চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবাই চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিদিনই শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালেও রোগীর চাপ বাড়ছে। এভাবে বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক আকরামুজ্জামান মিন্টু বলেন, হাসপাতালে ২০০ শতাধিক পয়েন্টে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া ১৭টি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানোলা চালু রয়েছে। বেশি গুরুতর রোগীদের জন্য আলাদাভাবে পেয়িং ওয়ার্ডে রাখা হয়। ঈদ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। রোগী বাড়লেও চিকিৎসা ব্যবস্থা ও ভর্তির ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সজাগ রয়েছে।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসার এইচএম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কুষ্টিয়ায় গত দুই মাসে করোনায় মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। তবে আশা করা যাচ্ছে, এটা কমে যাবে। আর প্রায় সব মানুষই মৃদু সংক্রমিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ জন্য ঈদপরবর্তী আক্রান্তের হার কমতে পারে।

কুষ্টিয়ায় আরও ৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২৭

 ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 
২৮ জুলাই ২০২১, ০৩:১৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
করোনা
ফাইল ছবি

করোনা সংক্রমণের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলার তালিকায় প্রথম কুষ্টিয়া। অস্বাভাবিকহারে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তাদের মৃত্যু হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মোমেন, এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৩টি নমুনা পরীক্ষায় ২২৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ। জেলায় এটাই সর্বোচ্চ শনাক্তের হার। কুষ্টিয়ায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৯০২ জন।এ পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় ৫৩০ জনের মৃত্যু হলো।

এদিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ২০০ বেডের অনুকূলে বর্তমানে হাসপাতালে  ১৪৯ করোনা আক্রান্ত রোগী ও ৪৪ উপসর্গ নিয়ে মোট ১৯৩ জন ভর্তি রয়েছে। জেলায় হোম আইসোলেশনে আছেন তিন হাজার ৩৩৪ জন। বাকিরা করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন। প্রায় ৭০ শতাংশ রোগীদের অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.  আব্দুল মোমেন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কারণে মানুষ আগের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনার নতুন স্ট্রেইন ছড়িয়ে পড়ায় একজনের দ্বারা অনেক লোক আক্রান্ত হতে পারেন। এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসককে আরও কঠোর হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিকে ডেডিকেটেড ঘোষণার পর থেকে রোগীর চাপ বাড়তে আছে। প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের লোকবল কম। এ জন্য চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবাই চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিদিনই শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালেও রোগীর চাপ বাড়ছে। এভাবে বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক আকরামুজ্জামান মিন্টু বলেন, হাসপাতালে ২০০ শতাধিক পয়েন্টে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া ১৭টি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানোলা চালু রয়েছে। বেশি গুরুতর রোগীদের জন্য আলাদাভাবে পেয়িং ওয়ার্ডে রাখা হয়। ঈদ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। রোগী বাড়লেও চিকিৎসা ব্যবস্থা ও ভর্তির ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সজাগ রয়েছে।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসার এইচএম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কুষ্টিয়ায় গত দুই মাসে করোনায় মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। তবে আশা করা যাচ্ছে, এটা কমে যাবে। আর প্রায় সব মানুষই মৃদু সংক্রমিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ জন্য ঈদপরবর্তী আক্রান্তের হার কমতে পারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস