চট্টগ্রামে আইসিইউতে মা-ছেলের হৃদয়বিদারক দৃশ্য
jugantor
চট্টগ্রামে আইসিইউতে মা-ছেলের হৃদয়বিদারক দৃশ্য

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৯ জুলাই ২০২১, ২০:৪৭:৪৯  |  অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। ফাইল ছবি

চট্টগ্রামে আইসিইউ সংকটের মুখে করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু মাকে আইসিইউ থেকে নামিয়ে তার স্থলে (আইসিইউতে) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ছেলেকে। আইসিইউ থেকে নামানোর পাঁচ-ছয় ঘন্টা পরই ওই মা মারা যান। অপরদিকে ছেলে এখনো মায়ের আইসিইউতেই চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলেবৃহস্পতিবার জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে।

জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, নগরীর কোতোয়ালী থানার সিএন্ডবি কলোনী এলাকার বাসিন্দা কানন প্রভা পাল (৬৫) করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন।

প্রথমদিকে তিনি আইসোলেশন ওয়ার্ডে ছিলেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালটির আইসিইউ ওয়ার্ডে নেয়া হয় । এদিকে মায়ের পর করোনা আক্রান্ত হয়ে জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন তার ছেলে শিমুল পাল (৪৩)।

একপর্যায়ে ছেলের অবস্থারও অবনতি ঘটে। প্রয়োজন হয় আইসিইউর। হাসপাতালের সবগুলো আইসিইউ তখন ছিল রোগীতে পরিপূর্ণ।

শিমুলের জন্য কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না আইসিইউ বেড। উপায়ান্তর না দেখে পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে গত মঙ্গলবার মাকে আইসিইউ থেকে নামিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। আর ছেলেকে নেওয়া হয় ওই একই আইসিইউতে। ছয় ঘন্টা পর মারা যান মা।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট ও করোনা ইউনিটের প্রধান ডা. আবদুর রব বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, মায়ের অবস্থা খারাপ ছিল। তিনি আইসিইউতে অচেতন অবস্থায় ছিলেন। মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যরা তাকে আইসিইউ থেকে নামিয়ে তার অসুস্থ ছেলেকে একই আইসিইউতে চিকিৎসা দিতে লিখিতভাবে অনুরোধ জানান।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে মাকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়। আর ছেলেকে নেওয়া হয় মায়ের আইসিইউ’তে। এর পাঁচ-ছয় ঘন্টা পর মা মারা যান। ছেলে এখনও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন।

ডা. আবদুর রব বলেন, জেনারেল হাসপাতালে ১৮ টি আইসিইউ বেড রয়েছে। এর কোনোটাই খালি নেই। প্রতিদিন ২৫-৩০ জন রোগী আইসিইউর জন্য অপেক্ষায় থাকেন।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আহামেদ তানজিমুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মা অচেতন অবস্থায় আইসিইউতে ছিলেন। ছেলের অবস্থা কিছুটা ভালো ছিল। পরিবারের সদস্যরা তাই ছেলেকে আইসিইউতে নিতে আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করেন। এরপর মাকে আইসিইউ থেকে নামিয়ে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে তাকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায় নি। ছেলে এখন সেই একই আইসিইউতে রয়েছেন।

চট্টগ্রামে আইসিইউতে মা-ছেলের হৃদয়বিদারক দৃশ্য

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৯ জুলাই ২০২১, ০৮:৪৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। ফাইল ছবি

চট্টগ্রামে আইসিইউ সংকটের মুখে করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু মাকে আইসিইউ থেকে নামিয়ে তার স্থলে (আইসিইউতে) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ছেলেকে। আইসিইউ থেকে নামানোর পাঁচ-ছয় ঘন্টা পরই ওই মা মারা যান। অপরদিকে ছেলে এখনো মায়ের আইসিইউতেই চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে।

জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, নগরীর কোতোয়ালী থানার সিএন্ডবি কলোনী এলাকার বাসিন্দা কানন প্রভা পাল (৬৫) করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। 

প্রথমদিকে তিনি আইসোলেশন ওয়ার্ডে ছিলেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালটির আইসিইউ ওয়ার্ডে নেয়া হয় । এদিকে মায়ের পর করোনা আক্রান্ত হয়ে জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন তার ছেলে শিমুল পাল (৪৩)। 

একপর্যায়ে ছেলের অবস্থারও অবনতি ঘটে। প্রয়োজন হয় আইসিইউর। হাসপাতালের সবগুলো আইসিইউ তখন ছিল রোগীতে পরিপূর্ণ। 

শিমুলের জন্য কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না আইসিইউ বেড। উপায়ান্তর না দেখে পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে গত মঙ্গলবার মাকে আইসিইউ থেকে নামিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। আর ছেলেকে নেওয়া হয় ওই একই আইসিইউতে। ছয় ঘন্টা পর মারা যান মা।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট ও করোনা ইউনিটের প্রধান ডা. আবদুর রব বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, মায়ের অবস্থা খারাপ ছিল। তিনি আইসিইউতে অচেতন অবস্থায় ছিলেন। মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যরা তাকে আইসিইউ থেকে নামিয়ে তার অসুস্থ ছেলেকে একই আইসিইউতে চিকিৎসা দিতে লিখিতভাবে অনুরোধ জানান। 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে মাকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়। আর ছেলেকে নেওয়া হয় মায়ের আইসিইউ’তে। এর পাঁচ-ছয় ঘন্টা পর মা মারা যান। ছেলে এখনও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন।

ডা. আবদুর রব বলেন, জেনারেল হাসপাতালে ১৮ টি আইসিইউ বেড রয়েছে। এর কোনোটাই খালি নেই। প্রতিদিন ২৫-৩০ জন রোগী আইসিইউর জন্য অপেক্ষায় থাকেন।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আহামেদ তানজিমুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মা অচেতন অবস্থায় আইসিইউতে ছিলেন। ছেলের অবস্থা কিছুটা ভালো ছিল। পরিবারের সদস্যরা তাই ছেলেকে  আইসিইউতে নিতে আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করেন। এরপর মাকে আইসিইউ থেকে নামিয়ে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে তাকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায় নি। ছেলে এখন সেই একই আইসিইউতে রয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন