চট্টগ্রামে করোনায় প্রাণ গেল প্রধান শিক্ষকের
jugantor
চট্টগ্রামে করোনায় প্রাণ গেল প্রধান শিক্ষকের

  হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৫৫:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা

করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ছিপাতলী আলী মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি বেগমের (৫৭) মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলার উত্তর মাদার্শা মাহলুমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ দুই সহকারী শিক্ষকের শরীরে কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তবে অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার বিকালে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) চিকিৎসাধীন থেকে তিনি মারা যান।

এদিকে ওই শিক্ষিকার সংস্পর্শে আসা একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীসহ ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাইদা আলম।

তিনি জানান, মৃত্যুবরণকারী ফেরদৌসি বেগম উপজেলার ছিপাতলী আলী মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের সমুরা গ্রামের মল্লাবাড়ির মো. আবদুল মাবুদ মল্লার স্ত্রী। ফেরদৌসি বেগম দুই মেয়ে ও এক ছেলের জননী। তার স্বামী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি বেগম চবি উত্তর ক্যাম্পাসে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন।

মৃত্যুবরণকারী প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি বেগমের ছেলে মো. ফরহাদ যুগান্তরকে বলেন, কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর মাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মাকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার আরও বেশি অবনতি হতে থাকে। এর মধ্যে রোববার বিকালে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অবশ্য মায়ের অ্যাজমা, হাই ব্লাডপ্রেশার ও ডায়াবেটিস ছিল।

রোববার বাদএশা জানাজা শেষে তাকে চবি সেন্ট্রাল মসজিদের পাশে কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। তা ছাড়া মৃত্যুর খবর পেয়ে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা শোক প্রকাশ করেন এবং বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিসসূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ২২ সেপ্টেম্বর পৌরসভার হাটহাজারী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহিনা আক্তার, ২১ সেপ্টেম্বর উপজেলার ছিপাতলী আলী মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি বেগম, ১৮ সেপ্টেম্বর উত্তর মাদার্শা মাহলুমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্চিতা বড়ুয়া ও উত্তর বুড়িশ্চর রশিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্মৃতি দত্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।
করোনা শনাক্তের পর থেকে মৃত্যুবরণকারী প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি বেগম ছাড়া অন্যান্য শিক্ষক হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন।

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক সাহিনা আক্তারের স্পর্শে আসায় রোববার সকালে হাটহাজারী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামসহ ১৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নমুনা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু সৈয়দ মো. ইমতিয়াজ হোসাইন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শাহিদুল আলম বলেন, উপজেলার পৃথক চারটি বিদ্যালয়ের দুই প্রধান শিক্ষকসহ চার শিক্ষক করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। রোববার বিকালে এক প্রধান শিক্ষক চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ করেন, যা সত্যিই দুঃখজনক। এখন পর্যন্ত আরও কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অসুস্থতার খবর পাইনি। আক্রান্ত অন্য এক প্রধান শিক্ষক ও দুই সহকারী শিক্ষকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

তা ছাড়া কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, আক্রান্ত এক শিক্ষিকার সংস্পর্শে আসা হাটহাজারী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীসহ ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সরকারি নিদের্শনা মেনে আমরা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পালন করে বিদ্যালয় পরিচালনায় বদ্ধপরিকর। এর পরও পরিবেশ-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণপূর্বক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে ইউএনও জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামে করোনায় প্রাণ গেল প্রধান শিক্ষকের

 হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৫৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
করোনা
ফেরদৌসি বেগম। ছবি: যুগান্তর

করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ছিপাতলী আলী মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি বেগমের (৫৭) মৃত্যু হয়েছে। 

এ ছাড়া উপজেলার উত্তর মাদার্শা মাহলুমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ দুই সহকারী শিক্ষকের শরীরে কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তবে অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে। 

রোববার বিকালে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) চিকিৎসাধীন থেকে তিনি মারা যান।

এদিকে ওই শিক্ষিকার সংস্পর্শে আসা একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীসহ ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাইদা আলম। 

তিনি জানান, মৃত্যুবরণকারী ফেরদৌসি বেগম উপজেলার ছিপাতলী আলী মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের সমুরা গ্রামের মল্লাবাড়ির মো. আবদুল মাবুদ মল্লার স্ত্রী। ফেরদৌসি বেগম দুই মেয়ে ও এক ছেলের জননী। তার স্বামী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি বেগম চবি উত্তর ক্যাম্পাসে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন। 

মৃত্যুবরণকারী প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি বেগমের ছেলে মো. ফরহাদ যুগান্তরকে বলেন, কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর মাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। 

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মাকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার আরও বেশি অবনতি হতে থাকে। এর মধ্যে রোববার বিকালে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অবশ্য মায়ের অ্যাজমা, হাই ব্লাডপ্রেশার ও ডায়াবেটিস ছিল। 

রোববার বাদএশা জানাজা শেষে তাকে চবি সেন্ট্রাল মসজিদের পাশে কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। তা ছাড়া মৃত্যুর খবর পেয়ে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা শোক প্রকাশ করেন এবং বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। 

উপজেলা শিক্ষা অফিসসূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ২২ সেপ্টেম্বর পৌরসভার হাটহাজারী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহিনা আক্তার, ২১ সেপ্টেম্বর উপজেলার ছিপাতলী আলী মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি বেগম, ১৮ সেপ্টেম্বর উত্তর মাদার্শা মাহলুমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্চিতা বড়ুয়া ও উত্তর বুড়িশ্চর রশিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্মৃতি দত্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। 
করোনা শনাক্তের পর থেকে মৃত্যুবরণকারী প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি বেগম ছাড়া অন্যান্য শিক্ষক হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। 

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক সাহিনা আক্তারের স্পর্শে আসায় রোববার সকালে হাটহাজারী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামসহ ১৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নমুনা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু সৈয়দ মো. ইমতিয়াজ হোসাইন। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শাহিদুল আলম বলেন, উপজেলার পৃথক চারটি বিদ্যালয়ের দুই প্রধান শিক্ষকসহ চার শিক্ষক করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে।  রোববার বিকালে এক প্রধান শিক্ষক চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ করেন, যা সত্যিই দুঃখজনক। এখন পর্যন্ত আরও কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অসুস্থতার খবর পাইনি। আক্রান্ত অন্য এক প্রধান শিক্ষক ও দুই সহকারী শিক্ষকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। 

তা ছাড়া কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, আক্রান্ত এক শিক্ষিকার সংস্পর্শে আসা হাটহাজারী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীসহ ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সরকারি নিদের্শনা মেনে আমরা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পালন করে বিদ্যালয় পরিচালনায় বদ্ধপরিকর। এর পরও পরিবেশ-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণপূর্বক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে ইউএনও জানিয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

১৭ অক্টোবর, ২০২১