Logo
Logo
×

প্রথম পাতা

সংবাদ সম্মেলনে টিআইর চেয়ারপারসন

অভ্যুত্থানের পরও দুর্নীতি আছে

কিছু উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অভ্যুত্থানের পরও দুর্নীতি আছে

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) চেয়ারপারসন ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁ বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি পুরোপুরি বিলীন হয়নি। দুর্নীতি এখনো আছে। তবে এটা বেড়েছে নাকি কমেছে সেটি এখনই বলা অনেক তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে। অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তাও তদন্তাধীন।

বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁর বাংলাদেশ সফর উপলক্ষ্যে টিআইবি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ‘অর্থ পাচার কমেছে বলব না, প্রতিরোধক কিছু ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, অর্থ পাচারের একটা অন্যতম মাধ্যম ব্যাংকিং সেক্টরে কিছু সংস্কার হয়েছে।

ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁ বলেন, বিগত সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) কাজ করছে। তিনি জানান, মব ভায়োলেন্সের বিষয়গুলো নিয়ে টিআই উদ্বিগ্ন। গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টিতে বাধা তৈরি করবে মব ভায়োলেন্স। তার মতে, দুর্নীতি গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের ওপর হামলা, হুমকি ও হয়রানি বাড়লে রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না বলে জানান ভ্যালেরিয়াঁ।

দেশের দুর্নীতি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে টিআই চেয়ারম্যানের পর্যবেক্ষণ জানতে চাইলে ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁ বলেন, ‘সাবেক (আওয়ামী লীগ) সরকারের শেষদিকে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে বেড়েছিল। গত বছরের আগস্টে ক্ষমতা পরিবর্তনের পরও দুর্নীতি পুরোপুরি শেষ হয়নি। যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তি দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত, সেসব মামলা যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায় শেষ করতে হবে। যেসব দেশ তা করতে পেরেছে, তারাই দুর্নীতির ধারণা সূচকে নিজেদের স্কোর উন্নত করতে পেরেছে।

বাংলাদেশ সফরের কারণ জানতে চাইলে টিআই চেয়ারম্যান জানান, তার এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সফরের আগে তিনি মালদ্বীপ ও শ্রীলংকায় গেছেন। এ সফর শুধু প্রতীকী নয়; এর উদ্দেশ্য দুর্নীতিবিরোধী বৈশ্বিক আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আগে ঢালাওভাবে ঋণ নিয়ে তা বিভিন্ন ভাবে পাচার করার যে সুযোগটা ছিল, সেটা বন্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরের যে প্রভাবকরা সেখানে জড়িত ছিল, তাদের অনেকেই হয় দেশের বাইরে অথবা বিচারের মুখোমুখি আছে। তাদের সেই ভূমিকা এখন নেই বললেই চলে। যদিও নতুন প্রভাবকের জন্ম হয়নি, সেটা আমরা বলতে পারব না। সার্বিকভাবে ব্যাংকিং সেক্টর এখন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে, সংস্কার হয়েছে। যার মাধ্যমে যে পদ্ধতিতে অর্থ পাচার হতো, মোটা দাগে সেটা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ রাখতে পেরেছে।

তিনি বলেন, আমাদের বিদেশে কর্মরত অভিবাসী কর্মীদের বিশাল অঙ্কের টাকা পাচার হয়। তাদের আয়টা বিদেশ থেকে সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আসার কথা। কিন্তু সেটা আসছে না। ব্যাংকিং চ্যানেল বাইপাস করে হুন্ডির মাধ্যমে আসত। এই হুন্ডির মাধ্যমেই টাকা পাচার হতো। সেটি কিন্তু এখন মোটামুটিভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত সেটা বলতে পারব না।

আমদানি এবং রপ্তানি বাণিজ্যে চালান জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ পাচার হয় জানিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের সিংহভাগ অর্থ পাচারের মাধ্যম ছিল এটা। সেটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত হয়ে গেছে আমি বলতে পারব না। কারণ সেখানে বাস্তব সংস্কার এখন পর্যন্ত হয়নি। কিছু কিছু পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। সেখানে বেশকিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় আমাদের সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে ছিল। সেগুলো যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে আস্তে আস্তে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অর্থ পাচার যেন না হয় সেটিকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণ করা, প্রতিরোধ করা আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। যে অর্থ পাচার হয়ে যায়, সেটা ফেরত আনা খুবই কঠিন, প্রায় অসম্ভব। সারা বিশ্বে প্রতি মাসে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পাচার হয়। তার ১ শতাংশ ফেরত আনা যায়। তাও সেটি ফেরত আনতে ৭ থেকে ৮ বছর লেগে যায়। ফ্রিজ হওয়ার মানে আমরা টাকাটা পেয়ে যাব, তা নয়। টাকাটা যে বাংলাদেশ থেকে গেছে ওখানকার আদালতে সেটা প্রমাণ করতে হবে।

এই পুরো প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে ফেরত আনা খুবই কঠিন ও জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি। খুব সহজে পাওয়া সম্ভব হবে না। হিসাব করলে দেখা যাবে, প্রতিবছর যে পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক সহায়তা আসত তার দ্বিগুণ অর্থ এ দেশ থেকে পাচার হয়েছে। টাকা বাইরে নেওয়ার সুযোগটা বন্ধ করতে হবে। সেই বন্ধ করার হাতিয়ার আমাদের কাছে কিছুটা আছে, সেগুলোকে আরও শানিত করতে হবে। যে আইনগুলো আছে সেগুলোকে আরও জোরালোভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তাহলে এটা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম