Logo
Logo
×

সুস্থ থাকুন

রোজা রোগব্যাধি থেকে মুক্ত রাখে

Icon

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রোজা রোগব্যাধি থেকে মুক্ত রাখে
Mojo Birat Car Bar
logo-fifa ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬
আজকের ম্যাচ
শুক্রবার ১২ জুন ২০২৬
লাইভ গ্রুপ এ
মেক্সিকো
মেক্সিকো
দক্ষিণ আফ্রিকা
দক্ষিণ আফ্রিকা
এস্তাদিও আজতেকা, মেক্সিকো সিটি, মেক্সিকো
পরবর্তী খেলাসমূহ
শুক্রবার ১২ জুন ২০২৬ [গ্রুপ এ] সকাল ৮টা
দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়া
চেক প্রজাতন্ত্র
চেক প্রজাতন্ত্র
এস্তাদিও আক্রন, গুয়াদালাহারা, মেক্সিকো
শনিবার ১৩ জুন ২০২৬ [গ্রুপ বি] রাত ১টা
কানাডা
কানাডা
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
বিএমও ফিল্ড, টরন্টো, কানাডা

সৃষ্টিকর্তার প্রতি মুসলিম সম্প্রদায়ের আনুগত্য প্রকাশের অন্যতম উপায় হলো রোজা। তবে রমজানে রোগীরা রোজা রাখবেন কি রাখবেন না, তা নিয়ে সংশয়ে ভোগেন। রমজানে বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস, পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিক আলসার, শ্বাসকষ্ট, হার্টের রোগ, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদিতে ভুগছেন, তাদের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে রোজা রাখা নিয়ে সংশয় থাকলেও রোজা রাখতে তারা প্রবল আগ্রহী। তারা যদি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোজার মাসের জন্য ওষুধ সেবনবিধি ঠিক করে নিতে পারেন, তবে সহজেই রোজা রাখতে পারেন। এতে রোজা ভাঙার বা রোজা থেকে বিরত থাকার কোনো প্রয়োজন হয় না।

* ডায়াবেটিক রোগী

ডায়াবেটিক রোগীরা সঠিক নিয়মে রোজা রাখলে উপকার পেতে পারেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল উপায় হলো খাদ্যনিয়ন্ত্রণ, আর রোজা রাখা হতে পারে এক অন্যতম উপায়। এতে খাদ্যনিয়ন্ত্রণ সহজ ও সুন্দরভাবে করা যায়। যারা ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল নন, তাদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা হতে পারে আদর্শ চিকিৎসাব্যবস্থা। যারা ইনসুলিন নেন বা মুখে অন্য ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রেও রোজা অবস্থায় ওষুধের মাত্রা কমাতে সহায়ক। তবে ডাক্তারের নির্দেশমতো ইনসুলিন বা মুখে খাওয়ার ওষুধ সমন্বয় করে নিতে হবে। শুধু রক্তের গ্লুকোজই নয়, রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণেও রোজা মোক্ষম, উপকারী।

* রক্তের কোলেস্টেরল

যাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, রোজা তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। রোজা ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়াতে এবং মন্দ কোলেস্টেরল (এলডিএল) ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে।

* অতিরিক্ত ওজন

যাদের ওজন অতিরিক্ত, তাদের ক্ষেত্রে রোজা ওজন কমানোর জন্য এক সহজ ও সুবর্ণ সুযোগ। ওজন কমে যাওয়ায় বিভিন্ন রোগ থেকে বেঁচে থাকা যায় যেমন-উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগসহ শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, বাতের ব্যথা, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, গাউট ইত্যাদি। আবার ওজন কমাতে পারলে কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমে আসে।

* হৃদরোগ এবং উচ্চরক্তচাপ

রোজার মাধ্যমে ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ হওয়ার ফলে যারা হৃদরোগে অথবা উচ্চরক্তচাপে ভোগেন, তাদের জন্য রোজা অত্যন্ত উপকারী। এতে শরীরের, বিশেষ করে রক্তনালির চর্বি হ্রাস পায়, রক্তনালির এথারোসক্লেরোসিস কমাতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে ডাক্তারদের নির্দেশমতো ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে।

* পেপটিক আলসার

অনেকে মনে করেন, রোজা পেপটিক আলসারের ক্ষতি করে এবং অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসব ধারণা ঠিক নয়। রোজায় নিয়ন্ত্রিত খাওয়া-দাওয়ার ফলে অ্যাসিডের মাত্রা কমে যায়। তাই সঠিকভাবে রোজা রাখলে এবং সঠিক খাবার দিয়ে সেহরি ও ইফতার করলে রোজা বরং আলসারের উপশম করে, অনেক সময় আলসার ভালো হয়ে যায়। এ ছাড়া রোজা গ্যাস্ট্রাইটিস, আইবিএস ইত্যাদি রোগেও উপকারী। প্রয়োজনে গ্যাস্ট্রিক-আলসারের ওষুধ রাতে একবার বা দুইবার ব্যবহার করা যায়।

* শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা রোগী

রোজায় এ ধরনের রোগ সাধারণত বাড়ে না, বরং চিন্তামুক্ত থাকায় এবং আল্লাহর প্রতি সরাসরি আত্মসমর্পণের ফলে এ রোগের প্রকোপ কমই থাকে। প্রয়োজনে রাতে একবার বা দুইবার ওষুধ খেয়ে নেবেন, যা দীর্ঘক্ষণ শ্বাস নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রয়োজনে ইনহেলার বা নেবুলাইজার জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যায়। দিনের বেলায় জরুরি প্রয়োজনে ইনহেলার বা নেবুলাইজার ব্যবহার করা যায়, তাতে রোজা ভাঙবে না।

* কিডনি রোগ

যেসব রোগী ক্রনিক কিডনি ফেইলিউরে আক্রান্ত তাদের সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে হয়, নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, এমনকি পানি খাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতা ও পরিমাণ অনুযায়ী খেতে হয়। তাই রোজা রাখার ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। যাদের কিডনি ফেইলিউরের মাত্রা একেবারে শেষ পর্যায়ে তাদের পক্ষে রোজা রাখা সম্ভব নয়। তেমনি যারা ডায়ালাইসিসের রোগী অথবা ইতোমধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন তাদের পক্ষেও রোজা রাখা প্রায় অসম্ভব। অল্প থেকে মধ্যম মাত্রার কিডনি ফেইলিউর রোগীরা রোজা রাখলে কোনো ক্ষতি হয় না। তবে কিডনি আক্রান্ত রোগীদের শারীরিক অবস্থা যা-ই থাকুক না কেন সর্বাবস্থায় একজন কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়াই শ্রেয়।

* লিভারের অসুখ

লিভারের রোগীদের রোজা রাখা নির্ভর করে রোগটির ধরনের ওপর। কেউ যদি ভাইরাল হেপাটাইটিস নামক রোগে আক্রান্ত হন, তারা খেতে পারেন না, ঘনঘন বমি হয়, রুচি নষ্ট হয়, জন্ডিস দেখা দেয়। অনেক সময় তাদের শিরায় স্যালাইন বা গ্লুকোজ দিতে হয়। তাদের পক্ষে রোজা না রাখাই ভালো। আবার যারা লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত তাদের যদি রোগের লক্ষণ কম থাকে তবে রোজা রাখতে পারেন। খারাপ লাগলে রোজা ভেঙে ফেলবেন। কোনো কোনো সময় সিরোসিস রোগীদের পেটে বা পায়ে পানি জমতে পারে, শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যেতে পারে। তাদের বেলায় রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক

রোজা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম