ব্যথা কমাতে ঠান্ডা নাকি গরম সেঁক দেবেন
ডা. তাহমীদ কামাল
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্যথা কমানোর সবচেয়ে পুরোনো একটি চিকিৎসা হলো ঠান্ডা বা গরম সেঁক দেওয়া। এ দুটি পদ্ধতিই ব্যথা বা আঘাত, ফোলা বা জ্বালাপোড়া কমাতে বেশ কার্যকরী। তবে কোন পরিস্থিতিতে কোন পদ্ধতিটি ব্যবহার করা উচিত, তা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। মনে রাখবেন পেশির ব্যথা কমাতে গরম সেঁক আর যে কোনো পোড়া বা ফোলা ব্যথা কমাতে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া উচিত। অনেক সময় চিকিৎসক আঘাতের অবস্থা বুঝে দুটির সমন্বিত পদ্ধতির পরামর্শ দিতে পারেন। চলুন ব্যথা কমানোর দুই পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
* থার্মোথেরাপি বা গরম সেঁক
যে কোনো আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে গরম সেঁক দিলে, ওই স্থানের রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। এমনকি একটু বেশি গরম সেঁক দিলে ব্যথার উপশম দ্রুত হয়। এর ফলে আঘাতপ্রাপ্ত পেশি নড়াচড়া করাটা সহজসাধ্য হয়। অনেক সময় চিকিৎসকরা ভারী কাজ করার আগে হট শাওয়ার নেওয়ার পরামর্শ দেন। এর ফলে শরীরের পেশিগুলো শিথিল হয়। তবে মনে রাখবেন, কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া বা ফোলা ব্যথাতে গরম সেঁক দেওয়া উচিত নয়। এতে করে কাটা স্থানে রক্ত চলাচল আরও বেড়ে গিয়ে ক্ষত তৈরি হতে পারে।
* যেসব ক্ষেত্রে গরম সেঁক দেওয়া যেতে পারে
মচকানো, টান লাগা, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, পেশি টিস্যুর ব্যথা, পিঠ বা কোমর ব্যথা।
এ গরম সেঁক আবার দুই ধরনের হতে পারে-
▶ ড্রাই হিট বা শুষ্ক তাপ : সাধারণত ইলেক্ট্রিক হিটিং প্যাড, হট ওয়াটার বোতল, স্টিম বাথ ইত্যাদির মাধ্যমে যে সেঁক দেওয়া হয়, সেগুলো ড্রাই হিটের অন্তর্ভুক্ত। এর ব্যবহার খুব সহজ।
▶ ময়েস্ট হিট বা আর্দ্র তাপ : মূলত স্টিমড তোয়ালে বা আর্দ্র গরম পানির ব্যাগ দিয়ে যে সেঁক দেওয়া হয় সেটি ময়েস্ট হিট। বাড়িতে হাতের কাছের উপকরণ দিয়ে সহজেই এ সেঁক দেওয়া যায়। ছোটখাটো আঘাতের ক্ষেত্রে এ সেঁকটি ১৫-২০ মিনিট দিতে হয়। আর মাঝারি আঘাতের ক্ষেত্রে হট শাওয়ার নেওয়া যেতে পারে।
* সতর্কতা
কখনো এ হিট থেরাপি কাটা স্থান বা জ্বালাপোড়ায় দেওয়া যাবে না। গর্ভবতী কিংবা ডায়াবেটিক রোগীরা এ পদ্ধতি অনুসরণের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। অনেক সময় মাত্রাতিরিক্ত গরম সেঁক দিলে চামড়া পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এক্ষেত্রে অনেক বেশি সচেতন থাকতে হবে।
* কোল্ড থেরাপি বা ক্রায়োথেরাপি
ক্রায়োথেরাপির মাধ্যমে মূলত ক্ষতস্থান বা প্রদাহে সাময়িকভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ থাকে। এর মাধ্যমে ক্ষতস্থানে তীব্র ঠান্ডা প্রয়োগের কারণে ক্ষতস্থানের টিস্যুগুলো ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা পায়। যে কোনো স্থানে ব্যথা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ক্রায়োথেরাপি কার্যকরী। তবে কখনোই ক্ষতস্থানে সরাসরি বরফ দেওয়া যাবে না। এতে আরও বেশি ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। যেসব স্থানে ক্রায়োথেরাপি প্রয়োগ করা যেতে পারে-
▶ সাময়িক আঘাত, মাইগ্রেন, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, আকস্মিক টান।
ক্রায়োথেরাপি বিভিন্নভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে, যেমন-
▶ ক্রায়োথেরাপি উপকরণ
আইস ব্যাগ, আইস ম্যাসাজ, কুলেন্ট স্প্রে ব্যবহার করে ক্রায়োথেরাপি করা যায়।
▶ ক্রায়োস্ট্রেচিং : এর মাধ্যমে মূলত তাপমাত্রা কমিয়ে পেশি শিথিল করা হয়।
▶ ক্রায়োকাইনেটিক্স : এটি মূলত ঠান্ডা চিকিৎসা ও ব্যায়ামের একটি সমন্বিত পদ্ধতি। পেশির লিগামেন্টে আঘাত লাগলে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
▶ আইস বাথ : এর মাধ্যমে সাধারণত বরফ কাপড় বা ব্যাগে নিয়ে ক্ষতস্থানে ১৫-২০ মিনিট প্রয়োগ করা হয়। এর বেশি সময় রাখলে চামড়া, স্নায়ু ও টিস্যুর ক্ষতি হতে পারে।
হার্টের রোগীদের এ থেরাপি নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। আর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি কার্যকরী না হলেও ডাক্তার দেখাতে হবে।
লেখক : ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ।
