গরুর মাংস কি হৃদরোগীদের জন্য ক্ষতিকর
অধ্যাপক ডা. মো. তৌফিকুর রহমান ফারুক
প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হৃদরোগ আধুনিক বিশ্বের একটি ভয়াবহ স্বাস্থ্য সমস্যা। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে হৃদরোগীদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। গরুর মাংস আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় খাবার হলেও এটি হৃদরোগীদের জন্য কতটা নিরাপদ-তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। গরুর মাংসে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন যা শরীরের পেশি গঠনে সহায়ক, লৌহ বা আয়রন যা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে, জিংক ও ভিটামিন বি১২ থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ।
* হৃদরোগীদের জন্য ঝুঁকি
গরুর মাংস হৃদরোগীদের জন্য নিুলিখিত কারণে ক্ষতিকর হতে পারে-
▶ স্যাচুরেটেড ফ্যাটের উচ্চমাত্রা : গরুর মাংসে বিদ্যমান স্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তের এলডিএল বা ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ বৃদ্ধি করে।
▶ কোলেস্টেরলের মাত্রা : গরুর মাংসে থাকা ডায়েটারি কোলেস্টেরল ধমনির প্রাচীরে প্লাক সৃষ্টি করতে পারে।
▶ প্রক্রিয়াজাত মাংসের অতিরিক্ত লবণ : বিফ বেকন, সসেজ ইত্যাদিতে উচ্চমাত্রার লবণ থাকে।
▶ সোডিয়ামের উচ্চমাত্রা : সোডিয়াম থাকায় রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।
▶ হোমোসিস্টেইন বৃদ্ধি : অতিরিক্ত লাল মাংস সেবনে অ্যামিনো অ্যাসিড বৃদ্ধি পেয়ে ধমনির ক্ষতি করতে পারে।
* নিরাপদে সেবনের উপায়
হৃদরোগীরা নিুোক্ত পদ্ধতিতে গরুর মাংস খেতে পারেন-
▶ পরিমিত পরিমাণে : সপ্তাহে একবার ১০০-১৫০ গ্রামের বেশি নয়।
▶ চর্বি বর্জন : মাংসের সাদা চর্বি সম্পূর্ণভাবে ফেলে দিতে হবে।
▶ সঠিক রান্নার পদ্ধতি : গ্রিলিং, বেকিং বা স্টিউ করা উত্তম, তেলে ভাজা এড়িয়ে চলতে হবে।
▶ সবজির সঙ্গে মিশ্রণ : মাংসের সঙ্গে প্রচুর সবজি যোগ করে রান্না করলে ফাইবারের উপকারিতা পাওয়া যায়।
* স্বাস্থ্যকর বিকল্প
হৃদরোগীদের জন্য উত্তম বিকল্প হিসাবে বিবেচনা করা যায়-
▶ মাছ (বিশেষত সামুদ্রিক মাছ)।
▶ মুরগির বুকের মাংস (চামড়া ছাড়া)।
▶ ডাল ও ডালজাতীয় খাবার।
▶ সয়াবিন ও টোফু।
গরুর মাংস হৃদরোগীদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়, তবে এর সেবন হতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। পরিমিত পরিমাণে ও সঠিক পদ্ধতিতে প্রস্তুত করলে গরুর মাংস থেকে পুষ্টি লাভ করা সম্ভব। তবে হৃদরোগীদের উচিত চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা। মনে রাখতে হবে, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম হৃদরোগ প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায়।
লেখক : মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা।
