নারীরা কেন বাকপটু, ব্রেইনের গঠন কী বলে?

  ডা. সাঈদ এনাম ০৮ মার্চ ২০১৯, ২২:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

নারীর মস্তিষ্ক
নারীর মস্তিষ্ক

"নারীরা ভীষণ বাকপটু", নারী-পুরুষনির্বিশেষে সবাই একথাটি বলেন, মানেন। টুকটাক ঝগড়াবিবাদ হলে পুরুষটি একপর্যায়ে থেমে গেলেও দেখা যায় নারী থামছেন না। চলছে কথা...। বিষয়টি ইন্টারেস্টিং।

শৈশব দিয়েই শুরু করি। দুই বছর বয়সের একটি মেয়েশিশু এবং দুই বছর বয়সের একটি ছেলেশিশুর চালচলন কথাবার্তা উপস্থিত বুদ্ধিকে তুলনা করলে ছেলে শিশুটিকে মনে হয় একটু পিছিয়ে আছে। ছেলেটা কেমন যেন একটু সাদাসিধে প্রকৃতির।

মেয়েটিকে লাগে একটু পাকা, তীক্ষ্ণ, চপল। পটপট করে কথা বলেই যায়, টিয়া পাখির মতো। বিষয়টি আসলে কেন ঘটে? কি এর রহস্য?

অনেক অভিভাবক আছেন বিশেষ করে মায়েরা এসে উৎকণ্ঠা ব্যক্ত করেন, "এই একই বয়সে আমার মেয়েটি ছিল কেমন চটপটে, চপল, চঞ্চল, কথাবার্তায় মুখে যেন ফুটে খই, কিন্তু ছেলেটিকে মনে হচ্ছে কেমন জানি একটু ধীরগতির, কথাবার্তাও পরিষ্কার হচ্ছে না এখনো, স্যার আমার ছেলেটি কি তাহলে ভবিষ্যতে কিছুটা হাবাগোবা প্রকৃতির হয়ে যাবে? ইজ দ্য মাইল স্টোন অব ডেভেলপমেন্ট অব দিস বয় স্লো?" ওর, "উইল হি বিকাম মেন্টালি রিটার্ডেড ইন দ্য লং রান?"

না এমন ঘটনায় ভয়ের কোনো কারণ নেই। এটাই নরমাল। মেয়েরা কথা বলা শিখে ছেলেদের আগে, এবং আজীবন বলে যায় ও বেশি ছেলেদের চেয়ে।

কেন এমন?

শিশু অবস্থায় মেয়েদের ব্রেইনের কিছু কিছু অংশ ছেলেদের তুলনায় দ্রুত ও নিখুঁতভাবে কর্মক্ষম হয়ে যায়, ফলে এমনটি হয়। এমনকি পরিণত বয়সেও নারীদের ব্রেইনের কিছু কিছু অংশ (এরিয়া) ছেলেদের তুলনায় থাকে সুগঠিত। এ এরিয়াগুলো হলো, কথাবার্তা বলার এরিয়া, যুক্তিতর্কের এরিয়া, গাণিতিক ও জ্যামিতিক বিষয় সমাধান করার এরিয়া। এসব কারণে নারীরা ভালো বিতর্ক করতে পারেন, যুক্তি দাঁড় করাতে পারেন, এবং ক্ষেত্র বিশেষে ভালো গণিতজ্ঞ হিসেবে সুনাম কুড়ান। ব্যাংকের হিসাব-নিকাশের জাতীয় চাকরিতে নারীরা খুব ভালো করেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

এছাড়া নারী ব্রেইনের হিপোক্যাম্পাস এরিয়ার 'ঘনত্ব, পুরুত্ব এবং ব্রেইনের অন্যান্য এরিয়াগুলোর সঙ্গে এর সংযোগগুলো ছেলেদের তুলনায় থাকে দৃঢ়। ফলে মেয়েরা পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে তুলনামূলক দ্রুত 'ইনফরমেশন কালেকশন ও ইন্টারপ্রেটেশন' করতে পারে (তথ্যগ্রহণ ও বিশ্লেষণ)। যে কোনো সমস্যা মোকাবেলায় তাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনেক সময় সঠিক হয়। নারীদের ব্রেইনের এমন গঠনে স্পাই, কূটনৈতিক বা রাজনীতিবিদ হিসেবে তারা অনেক সময় খুব সফল হয়।

ব্রেইনের কথা বলার এরিয়া বা ল্যাংগুয়েজ এরিয়া নারীদের বেশি একটিভ, তাই তারা অনর্গল, ক্লান্তিহীন কথা বলতে পারেন। তাদের ব্রেইনে 'ফক্স-পি-২' (FoxP-2) প্রোটিন বেশি থাকে tai তারা ভীষণ বাকপটু। যেখানে একজন পুরুষ কথা বলতে দৈনিক ৭ হাজার শব্দ ব্যবহার সেখানে একজন নারী ব্যবহার করেন ২০ হাজার শব্দ। প্রায় ১৩ হাজার শব্দ বেশি।

নারীদের ব্যথা সহ্য ক্ষমতা বেশি

শুধু তাই নয়, নারীদের ব্রেইনের গঠন এমন যে তারা ব্যথা বা দুঃখ সহ্য করার ক্ষমতা পুরুষের তুলনায় অনেক অনেক বেশি। পুরুষের ব্রেইন নারীদের ব্রেইনের তুলনায় আকার আকৃতি ও ওজনে একটু বড়, সেটা কেবলমাত্র ছেলেদের সুগঠিত মাংশপেশি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য।

ব্রেইনের আণুবীক্ষণিক গঠন বলে দেয় পুরুষদের ব্রেইন ভারি বা শারীরিক পরিশ্রমমূলক কাজের উপযোগী আর নারীদের মানায় ছোট ছোট ক্যালকুলেটিভ টাইপের কাজ।

ঘটনাপ্রবাহ : ডা. সাঈদ এনামের লেখা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×