দেশে প্রতি বছর ৩ লাখ ৬৪ হাজার লোক যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৯ জুন ২০১৯, ১৮:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

দেশে প্রতি বছর ৩ লাখ ৬৪ হাজার লোক যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়
দেশে প্রতি বছর ৩ লাখ ৬৪ হাজার লোক যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়

বাংলাদেশে প্রতি বছর আনুমানিক ৩ লাখ ৬৪ হাজার লোক নতুন করে যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ৭০ হাজার জন মারা যায়। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ২০১৭ সালে ২৪৪,২০১ জন যক্ষ্মা রোগী সনাক্ত করেছে যা মোট রোগীর ৬৭ শতাংশ। গত বছর ৯৬,৮৫৭ জন যক্ষ্মা রোগীকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্বব্যাপী যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাবকে বিবেচনা করলে বাংলাদেশ এখনও বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি দেশের অন্তর্ভুক্ত। ইউএসএআইডি’র চ্যালেঞ্জ টিবি প্রজেক্ট একটি গ্লোবাল ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প যা বিভিন্ন দেশে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিকে সহায়তা দিচ্ছে যাতে যক্ষ্মা, যক্ষ্মা ও এইচ, আই, ভি সংক্রমণ এবং ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার সেবার মান উন্নত হয়, জনগণের কাছে আরও বেশি করে সেবা পৌছায় এবং এই রোগকে প্রতিরোধ ও সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা যায়।

বাংলাদেশে চ্যালেঞ্জ টিবি ম্যানেজমেন্ট সাইন্সেস ফর হেলথের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে কাজ শুরু করে এবং কারিগরি সহায়তা দেয়ার জন্য ইন্টারেক্টিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং কেএনসিভি টিউবারকুলোসিস ফাউন্ডেশননের সঙ্গে যুক্ত হয়।

গত ২৫ জুন অনুষ্ঠিত চ্যালেঞ্জ টিবি’র সমাপনি অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয়ভাবে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই প্রজেক্টের যে সাফল্য তা সবার সঙ্গে শেয়ার করা এবং এক মঞ্চে সবাইকে এনে সার্চ-ট্রিট-প্রিভেন্ট এই কৌশলকে আরও ব্যাপকভাবে কিভাবে ব্যবহার করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করা।

উক্ত সমাপনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আশাদুল ইসলাম, সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, যক্ষ্মারোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একে নির্মূল করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রচার বাড়াতে সংকল্পবদ্ধ।

তিনি উল্লেখ করেন, যক্ষ্মার বিরুদ্ধে টেকসই এবং বৃহত্তর কৌশল প্রণয়ন আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে এবং উদ্যমের সঙ্গে অবিরাম কাজ করে একে প্রতিরোধ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি, প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ, মহাপরিচালক, ডিজিএইচএস, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বলেন, যক্ষ্মা কার্যক্রমকে আরও অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়াতে হবে।

বিশেষ করে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে একযোগে কাজ করতে হবে। আমাদের শহর এলাকায় বেশি মনোযোগ দিতে হবে, কারণ শহরে যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব গ্রামের চেয়ে বেশি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন নতুন কৌশল ও টেকসই তহবিলের প্রয়োজন হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সম্পদ সরবরাহ এবং টিবিতে বিনিয়োগ করার চেষ্টা করব।

ডেরিক এস ব্রাউন, ইউএসআইডি বাংলাদেশ মিশনের মিশন ডিরেক্টরও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। তার বক্তব্যে মিশন ডিরেক্টর বলেন, বাংলাদেশে গত ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইউ,এস,আই,ডি এর মাধ্যমে যক্ষ্মানিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অগ্রগতির জন্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

তিনি বলেন, আমি এখানে চ্যালেঞ্জ টিবি প্রকল্পের কিছু সাফল্যের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই যার মধ্যে আছে, প্রাইভেট সেক্টরে যক্ষ্মা নির্ণয়ের জন্য সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ মডেল সেন্টার, সিলেটের বিএসএল-৩ ল্যাবরেটরি, জিন-এক্সপার্ট নেটওয়ার্ক এবং শিশুদের যক্ষ্মারোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত শিশু যক্ষ্মা কেন্দ্র।

এগুলো বাংলাদেশে ইউএসএআইডির টিবি পোর্টফোলিওর কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। চ্যালেঞ্জ টিবি প্রকল্প তার কাজের সাফল্যের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে যে পথ দেখিয়েছে সেই পথ ধরে আমাদেরকে আরও অনেকদূর এগিয়ে যেতে হবে।

চ্যালেঞ্জ টিবি এর কান্ট্রি প্রজেক্ট ডিরেক্টর ডঃ আজিজ আব্দুল্লাহ তার বক্তব্যে ল্যাবরেটরি ডায়গনিস্টিক নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ, আমাদের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলিতে টিবি রোগী সনাক্তকরণের সুষম ব্যবস্থা বৃদ্ধিকরণ, বিশেষায়িত শিশু যক্ষ্মা কেন্দ্রগুলির সেবার মান উন্নয়ন এবং উপযুক্ত কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন।

তিনি আরও বলেন মাল্টি-সেক্টরাল একাউন্টেবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক আপনের মাধ্যমে এই সেবা সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়ে জাতিসংঘের সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর টিবি স্ট্রাটেজি এর মাইলফলক অতিক্রম করতে এগিয়ে যেতে হবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রফেসর ডাঃ মোঃ শামীউল ইসলাম, পরিচালক এমবিডিসি ও লাইন ডিরেক্টর টিবিএল ও এএসপি, স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর, সমাপনি বক্তব্য দেন এবং সকল আমন্ত্রিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, সিটিবির চূড়ান্ত লক্ষ্য হবে যক্ষ্মা সমস্যার সমাধানের জন্যে তাদের সাফল্যের গাথা ও টেকসই মডেলের নমুনা উত্তরসূরিদের জন্য রেখে যাওয়া। আমি ইউএসএআইডি এর অব্যাহত সমর্থন এবং চ্যালেঞ্জ টিবি বাংলাদেশ প্রজেক্টের সাফল্যের জন্য এর সাথে জড়িত সকলের নিরলস প্রচেষ্টাকে অভিনন্দন জানাই।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় যক্ষ্মানিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি তার সরকার, এনজিও, উন্নয়ন ও কারিগরি অংশীদারদের সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবে।

অন্যান্যদের মধ্যে, জি এম সালেহ উদ্দিন, সচিব, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, এমওএইচএফডাব্লিউ ডাঃ মুস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন; ডাঃ এডউইন সি সালভাদর, উপ-প্রতিনিধি, ডাব্লিউএইচও বাংলাদেশ; ক্রিস ওয়েলচ, পোর্টফলিও ডিরেক্টর, প্রোগ্রাম ডেলিভারি গ্রুপ, ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস ফর হেলথ; ডাঃ হামিদা হোসেন, পরিচালক, আইআরডি গ্লোবাল; ডাঃ তাপস রায়, আইআরডি কান্ট্রি ডিরেক্টর; ডাঃ পুষ্পিতা সামিনা, ক্লিনিকাল সার্ভিসেস লিড, ইউএসএআইডি বাংলাদেশ; ডাঃ আজিজ আবদুল্লাহ, কান্ট্রি প্রজেক্ট ডিরেক্টর, চ্যালেঞ্জ টিবি বাংলাদেশসহ এমএসএইচ, আইআরডি এবং অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

চ্যালেঞ্জ টিবি তাদের কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের বর্তমান টিবি কর্মসূচির অগ্রাধিকারযোগ্য বিষয়গুলো, বিকাশমান রাজনৈতিক সুযোগাবলি এবং জোরালো অংশীদারিত্বের বিষয়গুলোকে স্পষ্ট ও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে তুলে পেরেছে যা বাংলাদেশের টিবি প্রোগ্রামের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান এবং এর সংস্কারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×