ডেঙ্গু ভাইরাস যেভাবে শনাক্ত করা হয়

  ডা. আশরাফুল হক ০৪ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি
প্রাথমিক পর্যায়ে ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ দেখা গেলে এনএস১ এন্টিজেন পরীক্ষা করা হয়। ফাইল ছবি

ডেঙ্গু নিয়ে আমাদের বর্তমানে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। হবেই না বা কেন? জীবন তো একটাই, কে চায় পৃথিবী ছেড়ে হঠাৎ চলে যেতে?

বলা হয়ে থাকে যেই দেশে ডেঙ্গুর মশা একবার ঢুকেছে তা আর বের হয়নি। আসলেই কিন্তু তাই। পৃথিবীতে বর্তমানে ১২৮টির বেশি দেশে ডেঙ্গু জীবাণুবাহী মশা রয়েছে।

ডেঙ্গু জীবাণুবাহী মশার নাম হল এডিস, পরিষ্কার পানিতেই তার বাস। একে নিয়ে তাই আতঙ্কও বেশি। একটি প্রাপ্তবয়স্ক মশা সুযোগ ও পরিবেশ পেলেই একমাসে লাখের ওপর ডিম উৎপাদন করতে পারে, আবার এই ডিম ১ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে সক্ষম। তাই সচেতনতা ও সামগ্রিক প্রয়াস ছাড়া এই দুর্যোগ আটকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

ডেঙ্গুতে কিন্তু মৃত্যুর হার কম। মাত্র এক ভাগ বলতে গেলে। চিকিৎসা না নিলে সেটি হতে পারে ২-৬%। কিন্তু মৃত্যু আমাদের কারও কাম্য নয়। তাই একে নিয়ে এত উদ্বেগ। স্বাস্থ্যখাতে আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই নিজ উদ্বেগে চিকিৎসা করান বা পরীক্ষা করানোর পরিমাণ বাড়ছে। যেই দেশে কোনও এলাকায় ডায়রিয়া হলে সেই এলাকা মৃত এলাকা হয়ে যেত,সেই দেশে লোকজন সচেতনভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে দেখলেই ভালো লাগবে সবার।

তবে এই রোগে আক্রান্ত হবার ভয়ে পরীক্ষা করা বা চিকিৎসা নেওয়া, দুটোই হিসাব করে করলে সবারই উপকার। পরীক্ষার সরঞ্জামের ব্যবস্থা হয়ত ফুরাবে না, সরকারিভাবে ওষুধেরও হয়ত কমতি হবে না,তবে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনবলের অভাবে মৃত্যু পথযাত্রী একজন হয়তো পর্যাপ্ত সেবা পাওয়া হতে হয়ত বঞ্ছিত কমতি হতে পারে। তাই সচেতনভাবে সম্মিলিতভাবে সহযোগিতার ভিত্তিতে আমাদের এটি মোকাবেলা করতে হবে।

প্রথমে কী পরীক্ষা করা হয়?

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এমন কাউকে সন্দেহ করা হলে তার মূলত রক্ত পরীক্ষা করা লাগে। আমাদের দেশে যেহেতু ডেঙ্গু নতুন নয়, কাজেই এই পরীক্ষার ধরনও আলাদা হতে পারে, ফলাফলও আলাদা হতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের লক্ষণ দেখা গেলে এনএস১ এন্টিজেন পরীক্ষা করা হয়। সেটি প্রথম দিনেই করা যায়।

ফল পজেটিভ হলেই কি ডেঙ্গু?

যদি প্রথমবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে এটির রেজাল্ট ৯০ ভাগ পর্যন্ত সঠিক হতে পারে মানে পজিটিভ হলে নিশ্চিত ডেঙ্গু। কারও ক্ষেত্রে এটি নেগেটিভ হতে পারে প্রথম দিকে, তবে তার মানে এই নয় যে তার ডেঙ্গু হয়নি। কারণ জীবনের কোনও সময়ে যদি ডেঙ্গু হয়ে থাকে তবে এটি ৬০ ভাগ পর্যন্ত সঠিক ফলাফল দেখায় মানে নেগেটিভ হলেও বলা নাও যেতে পারে ডেঙ্গু হয়নি।

সেক্ষেত্রে আরেকটি পরীক্ষা করা লাগে আইজিএম অ্যান্ড আইজিজি। আইজিএম সাধারনত দুই মাস পর্যন্ত পজিটিভ থাকতে পারে। আর আইজিজি থাকতে পারে সারা জীবন। এই দুইটির মাঝে অনুপাত করে বুঝা যায় রোগী কি প্রাথমিক না দ্বিতীয়বার আক্রান্ত।

সবার কি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগে?

এক কথায় উত্তর না। রক্তের সিবিসি রিপোর্ট দেখে এবং লক্ষণ দেখে চিকিৎসক বুঝতে পারেন কাকে ভর্তি দেওয়া প্রয়োজন আবার কাকে নয়। ডেঙ্গু যেহেতু বলতে গেলে আমাদের সবারই হয়েছে কোনও না কোনও একসময়ে, তাই যেই টাইপের ভাইরাস দিয়ে হয়েছে তার বিরুদ্ধে শরীর শক্তি সঞ্চয় করে ফেলেছে। নতুন ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হলেই সেটি দিয়ে বিপদ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

যেসব লক্ষণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি

কিছু লক্ষণ রয়েছে, যেমন

- অস্বাভাবিক বমি হওয়া

- পেটে পানি আসা

- প্রেশার কমে যাওয়া

- অচেতন ভাব হওয়া, ইত্যাদি গুলো হোল বিপদের লক্ষণ। এসব রোগীদের ভর্তি খুবই প্রয়োজন।

এর বাইরে জ্বর হলেই যে ভর্তি হওয়া লাগবে তা নয়। পর্যাপ্ত পানি পান করা (পারলে স্বাভাবিকের চেয়ে ১ লিটার বেশি পান করা), দেশি ফল খাওয়া, বিপদের লক্ষণগুলো খেয়াল রাখা ইত্যাদি বজায় রাখতে পারলেই বিপদ এড়ানো সম্ভব। উপচে পড়া রোগীর ভিড়ে এখন দেখা যাচ্ছে যাদের জীবন-মরণ সমস্যা তাদেরকেই ভর্তি করানো যাচ্ছে না। সবাই আরেকটু সচেতন হলেই সম্ভব এই আউটব্রেক মোকাবেলা করা।

লেখক: ডা. আশরাফুল হক, মেডিকেল অফিসার, এমআইএস, ডিজিএইচএ

ঘটনাপ্রবাহ : ডা. আশরাফুল হকের লেখা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×