ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উপজেলা হাসপাতালে রেখে কী লাভ?

  ডা. আশরাফুল হক ৩১ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

উপজেলা হাসপাতাল

ইন্টার্ন থাকাকালীন সময়ে সার্জারি প্লেসমেন্ট ছিল মরহুম ডা. তৈয়বুর রহমান স্যারের অধীনে।একবারে প্রথম দিকের ঘটনা, ভোরের দিকে একজন রোগী ভর্তি হয়েছিল তীব্র পেটে ব্যাথা নিয়ে।

সকালে রোগী গুছানোর সময় তার হিস্ট্রি নিয়ে তাকে আল্ট্রাসনো করতে দিয়েছিলাম। ততক্ষণে স্যার হাজির।রোগীটি উপুড় হয়ে বসেছিল তখন।স্যার দেখেই বললেন, এটা কি রোগী? হিস্ট্রি বলে বললাম, আল্ট্রা রিপোর্ট আসলে বলতে পারবো।খাইলাম রাম ঝাড়ি।

স্যার বললেন এটা পারফোরেশন,এখনই এক্স-রে কর আর ওটি রেডি কর।এও বললেন একটু পরই রোগী শকে যাবে।প্রতিটি কথা মিলেছিল স্যারের।এটাই শিক্ষা শিক্ষানবিশদের জন্য। এমন হাজার হাজার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি সেই সময়ে যেটার উপর ভিত্তি করে এখনও চলছি।গর্ব করে বলি,রোগী সুস্থ করতে হয়তো পারবোনা সব,তবে রোগী মরবেনা অজ্ঞতায়।

কেন বললাম এগুলা?নিজেকে জাহির করতে? মোটেও না, আশরাফ তৈয়বুর স্যারদের মতো অনেকের সৃষ্টি। উপজেলায় কি পাওয়া যাবে এমন কিছু?

কোনটি দরকার-কোয়ান্টিটি না কোয়ালিটি?

শিক্ষায় কোয়ান্টিটি অর্জন হয়েছে, সঙ্গে সর্বনাশ হয়ে গেছে।

পত্র-পত্রিকায় দেখা যায়, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে চাকরি করতে এসে কোটি কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে। নেবে না কেন ভাই? জিপিএ জনগোষ্ঠী সবার ওপর আপনি আস্থা রাখতে পারবেন?

গার্মেন্টস খুলেছেন, প্রোডাক্ট সেল করতে হবে।বায়ারদের সঙ্গে ডিল করার মতো সামর্থ্যবানদের সংখ্যা অপ্রতূল দেখেই তো শ্রীলংকা, ভারত, নেপাল থেকে আসছে চাকরি করতে হাজার হাজার। এখন চিকিৎসাখাতও আগাচ্ছে হয়তো সেদিকে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নাকি চোখের অপারেশন এই দেশেই করতে চেয়েছিলেন, চিকিৎসকরা রিস্ক নেননি (তথ্যসূত্র পরিষ্কার নয়)।রিস্ক বুঝার মতো ক্ষমতা এখনও আছে,ইনশাআল্লাহ সামনের দিনে থাকবে না যে প্লান করে আগানো হচ্ছে।

এসডিজি অর্জনে যে পরিমাণ চিকিৎসক দরকার তা নেই বলে জেলায় জেলায় মেডিকেল।কে পড়াবে তার হদিস নেই।আমাদের বায়োকেমিস্ট্রর রুহুল আমিন স্যার একটা কথা বলতেন-ভালো ছাত্র কম পড়ে আর খারাপ ছাত্র বেশী পড়ে।কতটুকু পড়া উচিত তাতো শিক্ষক দেখিয়ে দিবেন।তিনিই তো নাই,তাহলে? আগে মাস্টার দরকার না আগে ছাত্র দরকার-শুরু হোক তাহলে জরিপ।

ওবায়দুল কাদের সাহেবের চিকিৎসার মূল অংশ এদেশে হয়েছিল, সামনের দিনে কি সম্ভব?

ভারতে এখন চিকিৎসা নিতে যায় অনেকেই।দুইদিন বাদে তারাই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হবে।কারণ কোয়ালিটি টকস। উপজেলায় ইন্টার্নশিপ না করলেই কি নয়?

আছেন কি কোন মাননীয়, ভবিষ্যৎ উপলব্ধি করার মতো?

লেখক: ডা. আশরাফুল হক, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×