মেডিকেলে পড়ার চাপটা সবাই নিতে পারে না: ডা. রুবাইয়া আলী

  যোবায়ের আহসান জাবের ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

ডা. রুবাইয়া আলী
ডা. রুবাইয়া আলী

বাবা-মায়ের চাকরির সুবাদে মরুভূমির দেশ আবুধাবিতে শৈশব কৈশোর কেটেছে রুবাইয়া আলীর। সেখানকার নানা স্মৃতি ও সেখান থেকে ফিরে এসে উদয়ন স্কুল ও ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন ডা. রুবাইয়া আলী।

সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডার্মাটোলজিতে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে স্কিন বিশেষজ্ঞ হওয়া ডা. রুবাইয়া আলী জানিয়েছেন তার জীবনের গল্প। একই সঙ্গে তিনি দিয়েছেন মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যোবায়ের আহসান জাবের

যুগান্তর: আপনার শৈশব, কৈশোরের গল্প, আপনার বেড়ে ওঠার গল্প বলুন

ডা. রুবাইয়া আলী: আমি আসলে বড় হয়েছি আবুধাবিতে, আমার বাবা, মা আর আমার ছোট বোন ওখানেই থাকতাম। যখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি তখন হঠাৎ করেই আমার বাবা মারা যান। এরপর আমরা দেশে চলে আসি।

আবুধাবিতে বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল নামে এক স্কুল ছিল ওখানেই পড়াশোনা করতাম এবং যেহেতু শৈশবটা আমার কেটেছে আবুধাবিতে। ওইটা মরুভূমির মধ্যে একটা সুন্দর দেশ। ওই দেশের প্রতি একটা টান অনুভব করি। ভবিষ্যতে হয়তো ফিরে যেতেও পারি ওই দেশে!

যাইহোক, বাংলাদেশে এসে আমি উদয়ন স্কুলে ভর্তি হলাম। এরপর ভিকারুননিসা কলেজ থেকে আমি এইচএসসি পাস করলাম। তারপর চিটাগাং মেডিকেলে আমার যাত্রা শুরু হলো।

যুগান্তর: চিকিৎসক হওয়া ও স্কিন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার গল্পটা জানতে চাই

ডা. রুবাইয়া আলী: আমার বাবা-মায়ের ইচ্ছে ছিল আমাকে ডাক্তার বানানো। ওনাদের শখের জন্যই আসলে ডাক্তারিতে পড়া। ডার্মাটোলজিতে আসা আসলে নিজের ইচ্ছায়। ডাক্তার হওয়া আসলে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের মতো। আর স্কিনে আসা লাভ ম্যারেজের মতো।

যুগান্তর: আপনার শৈশবের স্মৃতি এবং কোন স্কুলে পড়াশুনা করতেন?

ডা. রুবাইয়া আলী: শৈশবটা আসলে খুব স্পর্শকাতর সময়। ঘুরে ফিরে স্বপ্নে বা কোন স্মৃতিতে আসলে আমার আবুধাবির কথাই বেশি মনে পড়ে।

আমার বাবা ১৯৮৯ সালে মারা গেছেন। তখন আমি ক্লাস এইটে পড়তাম। আর আমার ছোটবোন ১ বছর। আমার মা স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন আবুধাবিতেই। বাবা মারা যাওয়ার পড়ে আমারা সবাই দেশে ফিরে আসি।

যুগান্তর: আবুধাবির শিক্ষাব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে আপনি কি রকম পার্থক্য দেখেন?

ডা. রুবাইয়া আলী: বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা অনেক বেশি কম্পিটিটিভ বাইরের থেকে। এখানে কম্পিটিশন অনেক বেশি। আর বাংলাদেশের ল্যাঙ্গুয়েজটাকে আমরা এখানে ভালভাবে শিখতে পারি। কারণ সবাই এখানে বাংলা শেখার বিষয়ে গাইড করতে পারে। কিন্তু দেশের বাইরে স্কুলগুলো ওখানে বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ শেখার বিষয়ে আমরা দুর্বল হয়ে পড়ি। কারণ বাংলা শেখার মতো শিক্ষক ওখানে পাওয়া যায় না। অন্য বিষয়গুলোর ওপর বেশি জোর থাকে।

যুগান্তর: ওখানে স্কুলের যে পাঠ্যপুস্তক কারিকুলাম বা বাংলাদেশের কারিকুলাম এগুলোর মধ্যে পার্থক্য কেমন?

ডা. রুবাইয়া আলী: ওখানে তো পাঠ্যপুস্তক সব ইংলিশ। আর স্ট্যন্ডার্ড সব একই। এসএসসি ও ইন্টারমিডিয়েট সব একইরকম।

যুগান্তর: ওখানকার যারা অরিজিন তাদের কারিকুলামটা কেমন?

ডা. রুবাইয়া আলী: ওখানে ওদের পাঠ্যপুস্তক সব অ্যারাবিকে হয়। ইংলিশ ওদের আলাদা করে থাকে সম্ভবত।

যুগান্তর:আপনার মেডিকেল লাইফ সম্পর্কে জানতে চাই।

ডা. রুবাইয়া আলী: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে আমি পাস করেছি। চিটাগাং মেডিকেলে আমি ৩৭ তম ব্যাচ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পাহাড়ের মাঝখানে একটা কলেজ খুব সুন্দর। আমার জন্য সেখানে ফার্স্ট ইয়ারে যেটা হয়, ফ্যামিলি থেকে দূরে…

মেডিকেলে প্রথমবার খুব কষ্টে কাটে আমাদের সবার জন্যই। আমারা যারা ঢাকা থেকে গিয়েছি আমাদের কষ্টেই কেটেছে। ক্লিনিক্যাল সাইডটা আমরা প্রথম পড়া শুরু করি থার্ড ইয়ারে। থার্ড ইয়ারে ডক্টররা মনে করে যে প্রতিটা রোগী তাদের আছে। মেডিকেলে পড়াশোনার এতবেশি চাপ থাকে যে, স্মৃতি যতটুকু হয় ওই পড়ালেখা ঘিরেই হয়। আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে, এমবিবিএস কতটা ডিফিকাল্ট একটা পড়া।

যুগান্তর: ওখানে আপনার সহপাঠী বা শিক্ষকদের কথা বলুন।

ডা. রুবাইয়া আলী: আমার সৌভাগ্য যে, আমি নামকরা টিচার পেয়েছি। যেমন কিছুদিন আগে মারা গেলেন খ্যাতনামা গাইনি ড. নূরজাহান ভূঁইয়া, ওনাকে আমি পেয়েছি শিক্ষক হিসেবে। গাইনোকোলজিতে তাহের খান স্যার, আমার খুব পছন্দের দুজন টিচার। ড.এম এ ফাইজ, ওনাকে মেডিসিনে পেয়েছি। ওনারা সবাই কিন্তু এখন ঢাকাতেই আছেন। ড. রেদওয়ান উনিও ঢাকাতেই আছেন।

যুগান্তর: মেডিকেলের অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবনের একটা সময় এসে হতাশায় ভোগে। অনেকে পাস করতে পারেন না। অনেকে সুইসাইডের মতো ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে- এ বিষয়টা কিভাবে প্রতিকার করা যায়?

ডা. রুবাইয়া আলী: আসলে মেডিকেলে পড়াটা খুবই ডিফিকাল্ট। তখন অনেকেই এ চাপটা নিতে পারে না। কিন্তু সুইসাইডকে বেছে নেবে তা কিন্তু না। পড়াশোনা তো জীবনের চেয়ে বেশি না। জীবনের মূল্য সবচেয়ে আগে।

কারো যদি সুইসাইডের টেনডেন্সি (আত্মহত্যা প্রবণতা) থাকে তবে তার আশেপাশের বন্ধুরা তা অবশ্যই বুঝতে পারে। মেয়েটা ডিপ্রেশনে (বিষন্নতা) ভুগছে কিনা, এটার পরবর্তী ধাপই তো সুইসাইড। তো এখানে তাদের ফ্রেন্ডদের একটা সাহায্যে করা যেতে পারে। সার্কেলের মধ্যে গ্রুপ স্টাডি করে। কেউ যদি না পারে তবে টিচাররা এক্সট্রা টাইম দিতে পারে। সবার তো আসলে একই জিনিস একইভাবে ক্যাচ করার ক্যাপাসিটি নাই। কেউ স্লো হতে পারে। তো আমার মনে হয় এটার জন্য একটা কালেক্টিভ এফোর্ট দরকার। সেটা শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও আসতে হবে, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও আসতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×