জার্মানিতে যেভাবে করোনা ছড়ায়
jugantor
জার্মানিতে যেভাবে করোনা ছড়ায়

  ডা. সাঈদ এনাম  

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:৪০:৩৩  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ ক্রাউন। সূর্যগ্রহণের সময় পুরো সূর্যকে কালোর পাশাপাশি এবং তার চারিদিকে ছিটকে পড়া আলোকচ্ছটা দেখা যায়, আণুবীক্ষণিক যন্ত্রের নিচে করোনাভাইরাস দেখতে ঠিক সে রকম।

চীনে করোনাভাইরাসের এর সংক্রমণ শুরু হয় ডিসেম্বরের শুরুতে কিন্তু তা শনাক্তকরণে লেগে যায় এক মাস। এর মধ্যে সেটা ছড়িয়ে যায় বিশ্বের কয়েকটি দেশে। ক্রমান্বয়ে এতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।

উল্লেখ্য এ 2019nCoV করোনাভাইরাস বাদুড় বা সাপের মধ্যে রোগ সৃষ্টি করলেও পরে এটি  চীনের উহান প্রদেশের মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়।

উহাম থেকে যেভাবে জার্মানিতে করোনাভাইরাস

জানুয়ারির মাঝামাঝিতে চীন দেশের একজন নারী ব্যবসায়িক কাজে জার্মান যান। সেখানকার কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ একটি মিটিং ছিল। তখন মহিলা নিজেও জানতেন না তিনি করোনাভাইরাস আক্রান্ত এমন কি তার দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোনও লক্ষণই ছিল না।

দুদিনের মিটিং শেষ করেই তিনি আবার চীনে ফেরেন। ফেরার কয়েকদিনের মাথায় হঠাৎ করে তার দেহে জ্বর সর্দি কাশি দেখা দেয়। তিনি হাসপাতালে যান চিকিৎসা নিতে। এরই মধ্যে চায়না ডিসিজ কন্ট্রোল করোনাভাইরাস সংক্রমণে নিশ্চিত হয়ে যায়। তাকে তাদের সন্দেহ হয় এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার দেহে করোনাভাইরাসের উপস্তিতি পাওয়া যায়।

ওই মিটিং এর দুই-তিন 'দিন পর চীনা মহিলা যে  জার্মান ব্যবসায়ীর সঙ্গে মিটিং করেছিলেন অল্প সময়ের মধ্যে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের  মধ্যে সর্দি-জ্বর কাশি দেখা দেয়।

ততক্ষণে পুরো বিশ্ব করোনাভাইরাস নিয়ে জেনে যায়। জার্মান নাগরিককে পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। তার দেহে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়।

তখন কিভাবে হঠাৎ করে জার্মানিতে এ করোনাভাইরাস সংক্রমণ হলো এ নিয়ে তোলা পাড় পড়ে যায়। চলতে থাকে গবেষণা। অবশেষে ব্যবসায়ীর সঙ্গে চীন থেকে যাওয়া মহিলার সঙ্গে মিটিংয়ের খবর পাওয়া যায়।

অর্থাৎ এ থেকে বুঝা যায়, করোনাভাইরাস ছড়াতে লক্ষ্মণ বিবেচনায় আনলে হবে না। মুখ্য হলো কেউ করোনাভাইরাস  প্রাদুর্ভাব এলাকা  থেকে আসছেন কিনা। প্রাদুর্ভাব এলাকা ফেরত সবাইকেই বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে, আইসোলেশন করে চিকিৎসা করতে হবে, কোয়ারেন্টাইন এ রাখতে হবে।

এটা যিনি আসছেন তার জন্যে যেমন প্রয়োজন, তিনি যে সোসাইটিতে গিয়ে মিশবেন তাদের জন্যে।

করোনাভাইরাস হাচি সর্দি কাশি লালা ও মলের সঙ্গে ছড়ায়। থুথু, লালা কিংবা সর্দি-কাশির ড্রপলেটে করোনাভাইরাস বেঁচে থাকে কয়েক ঘন্টা থেকে মাস অবধি।

শীতের আদ্রতা এসব ভাইরাসের বেঁচে থাকার খুবই সহায়ক। একজন আক্রান্ত রোগী অনেকজনকে একসঙ্গে ছড়াতে পারে। এইডস রোগীর পাশে থাকা যায় কিন্তু করোনাভাইরাস আক্রান্তের পাশে আপনি থাকতে পারবেন না।

রোগীর হাচি কাশি সর্দির বা লালার সঙ্গে এবং রোগীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মেলামেশায় যেহেতু এটি ছড়ায় সে জন্য রোগীকে মাস্ক পরে থাকতে হয়। তার চারপাশে দু মিটার (১২/১৩ ফুট) দুরত্ব বজায় রাখতে হয়, যাতে ড্রপলেট, লালা, সিক্রেশন গায়ে পড়তে না পারে। চিকিৎসক দেরও বিশেষ পোশাক পরে থাকতে হয়।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ দুর্যোগ রক্ষা করুন।

লেখক: ডা. সাঈদ এনাম

সহকারী অধ্যাপক, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ।

জার্মানিতে যেভাবে করোনা ছড়ায়

 ডা. সাঈদ এনাম 
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৫:৪০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ ক্রাউন। সূর্যগ্রহণের সময় পুরো সূর্যকে কালোর পাশাপাশি এবং তার চারিদিকে ছিটকে পড়া আলোকচ্ছটা দেখা যায়, আণুবীক্ষণিক যন্ত্রের নিচে করোনাভাইরাস দেখতে ঠিক সে রকম।

চীনে করোনাভাইরাসের এর সংক্রমণ শুরু হয় ডিসেম্বরের শুরুতে কিন্তু তা শনাক্তকরণে লেগে যায় এক মাস। এর মধ্যে সেটা ছড়িয়ে যায় বিশ্বের কয়েকটি দেশে। ক্রমান্বয়ে এতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।

উল্লেখ্য এ 2019nCoV করোনাভাইরাস বাদুড় বা সাপের মধ্যে রোগ সৃষ্টি করলেও পরে এটি চীনের উহান প্রদেশের মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়।

উহাম থেকে যেভাবে জার্মানিতে করোনাভাইরাস

জানুয়ারির মাঝামাঝিতে চীন দেশের একজন নারী ব্যবসায়িক কাজে জার্মান যান। সেখানকার কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ একটি মিটিং ছিল। তখন মহিলা নিজেও জানতেন না তিনি করোনাভাইরাস আক্রান্ত এমন কি তার দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোনও লক্ষণই ছিল না।

দুদিনের মিটিং শেষ করেই তিনি আবার চীনে ফেরেন। ফেরার কয়েকদিনের মাথায় হঠাৎ করে তার দেহে জ্বর সর্দি কাশি দেখা দেয়। তিনি হাসপাতালে যান চিকিৎসা নিতে। এরই মধ্যে চায়না ডিসিজ কন্ট্রোল করোনাভাইরাস সংক্রমণে নিশ্চিত হয়ে যায়। তাকে তাদের সন্দেহ হয় এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার দেহে করোনাভাইরাসের উপস্তিতি পাওয়া যায়।

ওই মিটিং এর দুই-তিন 'দিন পর চীনা মহিলা যে জার্মান ব্যবসায়ীর সঙ্গে মিটিং করেছিলেন অল্প সময়ের মধ্যে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সর্দি-জ্বর কাশি দেখা দেয়।

ততক্ষণে পুরো বিশ্ব করোনাভাইরাস নিয়ে জেনে যায়। জার্মান নাগরিককে পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। তার দেহে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়।

তখন কিভাবে হঠাৎ করে জার্মানিতে এ করোনাভাইরাস সংক্রমণ হলো এ নিয়ে তোলা পাড় পড়ে যায়। চলতে থাকে গবেষণা। অবশেষে ব্যবসায়ীর সঙ্গে চীন থেকে যাওয়া মহিলার সঙ্গে মিটিংয়ের খবর পাওয়া যায়।

অর্থাৎ এ থেকে বুঝা যায়, করোনাভাইরাস ছড়াতে লক্ষ্মণ বিবেচনায় আনলে হবে না। মুখ্য হলো কেউ করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব এলাকা থেকে আসছেন কিনা। প্রাদুর্ভাব এলাকা ফেরত সবাইকেই বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে, আইসোলেশন করে চিকিৎসা করতে হবে, কোয়ারেন্টাইন এ রাখতে হবে।

এটা যিনি আসছেন তার জন্যে যেমন প্রয়োজন, তিনি যে সোসাইটিতে গিয়ে মিশবেন তাদের জন্যে।

করোনাভাইরাস হাচি সর্দি কাশি লালা ও মলের সঙ্গে ছড়ায়। থুথু, লালা কিংবা সর্দি-কাশির ড্রপলেটে করোনাভাইরাস বেঁচে থাকে কয়েক ঘন্টা থেকে মাস অবধি।

শীতের আদ্রতা এসব ভাইরাসের বেঁচে থাকার খুবই সহায়ক। একজন আক্রান্ত রোগী অনেকজনকে একসঙ্গে ছড়াতে পারে। এইডস রোগীর পাশে থাকা যায় কিন্তু করোনাভাইরাস আক্রান্তের পাশে আপনি থাকতে পারবেন না।

রোগীর হাচি কাশি সর্দির বা লালার সঙ্গে এবং রোগীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মেলামেশায় যেহেতু এটি ছড়ায় সে জন্য রোগীকে মাস্ক পরে থাকতে হয়। তার চারপাশে দু মিটার (১২/১৩ ফুট) দুরত্ব বজায় রাখতে হয়, যাতে ড্রপলেট, লালা, সিক্রেশন গায়ে পড়তে না পারে। চিকিৎসক দেরও বিশেষ পোশাক পরে থাকতে হয়।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ দুর্যোগ রক্ষা করুন।

লেখক: ডা. সাঈদ এনাম

সহকারী অধ্যাপক, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ।