করোনাভাইরাসে যাদের ঝুঁকি বেশি

  ডা. আশরাফুল হক ১৫ মার্চ ২০২০, ২১:৪৭:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা বেশিরভাগই উদ্বিগ্ন। কারণ প্রতিদিনই আমরা জানতে পারছি পৃথিবীর নানা প্রান্তরে এতে আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। যারা এর প্রকোপ কমাতে পেরেছেন তারা সামাজিক দুরত্ব বা জনসমাগম কমিয়ে কিংবা পুরোপুরি রাস্তায় চলাচল নিষেধ করে সফল হয়েছে।
আমাদের দেশ যেমন ছোট তেমনই জনবহুল। বাইরের মত আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় এমনটা করা। তাই সচেতনা সবক্ষেত্রেই প্রয়োজন এর প্রাদুর্ভাব কমানোর জন্য।
কী কী লক্ষণ থাকতে পারে তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা আমরা জেনে গিয়েছে নানা মাধ্যমে। তাই আমরা মোটামুটি সকলেই জানি এটি অন্য ফ্লু গুলোর মতই। করোনা তখনই বলা যায় যখন সঠিক স্থানে সঠিক পরীক্ষা করা সম্ভব হয়।
যেহেতু এটি খুব বেশি ছোঁয়াচে, তাই সবাইকে চিকিৎসা কেন্দ্রের দিকে ধাবিত হওয়া উচিত নয়। প্রথম ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করা উচিত শারীরিক অবস্থা বুঝার জন্য। ইনফ্লুয়েঞ্জাতে যেমন আমরা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি তেমনটাই মেনে চলা উচিত।
লক্ষ্য রাখা উচিত আমার দ্বারা আমার পরিবার, আমার সমাজের যেন ঝুঁকি না বাড়ে। নিজ থেকে আলাদা হয়ে গেলে এর প্রাদুর্ভাব খুব সহজেই কমে আসে।
আইসোলেশান যে শুধু হাসপাতালেই করতে হবে তা নয়; বরং বাসায় ঝুঁকি বাড়তে পারে এই ভয়ে হাসপাতালে বেশি অবস্থানের চিন্তা করলে আরেক জনের থেকে নিজেও খারাপ কিছুতে আক্রান্ত হতে পারি। তাই ভয় না পেয়ে শুধু নিজের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করাই এখন সঠিক কাজ।
কিছু রোগ বা অবস্থা রয়েছে যেগুলোতে ফ্লু এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়-
►এজমা
►স্নায়ুর রোগ বা স্নায়ু সম্বন্ধীয় জন্মগত রোগ
►রক্তজনিত রোগ (যেমন সিকেল সেল ডিজিস)
►ক্রনিক লাং ডিজিস (সিওপিডি, সিসটিক ফাইব্রোসিস)
►এন্ডোক্রাইন জনিত রোগ (যেমন ডায়াবেটিস)
►হার্টের অসুখ (যেমন- হার্টের জন্মগত রোগ,জন্মগত হার্ট ফেইলুর, করোনারি হার্ট ডিজিস)
►কিডনির অসুখ
►লিভারের অসুখ
►মেটাবলিক ডিজিজ
►মাত্রাতিরক্ত স্থুলতা
►১৯ বছরের নিচের বাচ্চারা যারা দীর্ঘদিন এস্পিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন করে
►যাদের রোগের কারনে শরীরের প্রতিরক্ষা দুর্বল (এইচআইভি, এইডস, লিউকেমিয়া), যাদের অসুধের কারণে দুর্বল (কেমোথেরাপি, রেডিয়েশান, দীর্ঘদিন স্টেরয়েড নিচ্ছেন এমন)
অন্য যারা ঝুঁকির মাঝে থাকেন-
►যাদের বয়স ৬৫ বছরের বেশি
►যেসকল বাচ্চাদের বয়স ২ বছরের কম
►গর্ভবতী মহিলা এবং সন্তান জন্মদানের ২ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়
►যারা দীর্ঘদিন রোগে ভুগছেন যার কারনে তাদের নার্সিং সেবার প্রয়োজন হচ্ছে।
এসব থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা জরুরি। এটাও ঠিক নয় যে উপরিউক্ত অবস্থা গুলিতে করোনা হবেই, তারা শুধু সঠিক পর্যবেক্ষণে থাকলেই ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব।
ফ্লু থাকাকালীন সময়ে কিছু জিনিষ লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন -
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে-
► দ্রুত শ্বাস নেওয়া
►ঠোঁট/মুখ নীল হয়ে যাওয়া
►শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের হাড় ভিতরের দিকে ঢুকে যাওয়া
►বুকে ব্যাথা হওয়া
►মাংসপেশিতে ব্যাথা হওয়া যার ফলে শিশু হাঁটতে না চাওয়া
►পানিশূন্যতা(৮ ঘণ্টা প্রস্রাব না হওয়া,মুখ শুকিয়ে যাওয়া,কান্নার সময় চোখের পানি না থাকা)
►জাগ্রত অবস্থায় সতর্কতা মুলক আচরন পরিলক্ষিত না হওয়া
►খিঁচুনি হওয়া
►১০৪ ডিগ্রির বেশি জ্বর হওয়া
►বারো সপ্তাহের নিচে বাচ্চাদের যেকোনো জ্বর
►জ্বর/কাশি ভালো হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় হওয়া
►দীর্ঘ দিনের অসুখ থাকলে সেটির অবনতি হওয়া
প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে-
►শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
►ক্রময়াগত ব্যাথা অথবা চাপ দিলে পেটে ব্যাথা হওয়া
►আচ্ছন ভাব না কাঁটা
►খিঁচুনি হওয়া
►প্রস্রাব না হওয়া
►মাংশপেশিতে প্রচণ্ড ব্যাথা অনুভব হওয়া
►প্রচণ্ড দুর্বলতা
►জ্বর/কাশি ভালো হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় হওয়া,
►দীর্ঘ দিনের পুরানো অসুখের অবনতি হওয়া।
উপরিউক্ত অবস্থাগুলোর সবগুলিই থাকতে হবে এমনটি নয় বা একটি থাকলেই ভয়ের কারন তা নয়। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা উচিত।”
আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত