চিকিৎসা সেবায় রাখীর বাঁধন

  খন্দকার দেলোয়ার জালালী ২২ মে ২০২০, ১৭:৪৪:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

রাখী। ভাইয়ের কল্যাণ কামনায় বোনের এক মঙ্গল সুতোর নাম। শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে রাখী বন্ধন হয় উৎসব আমেজে শত শত বছর ধরে। ভাই বা দাদার প্রতি বোনের অকৃত্রিম অনুরাগের শপথের দিন। পরম ভালোবাসায় ভাইয়ের কব্জিতে বোন পড়িয়ে দেয় আমৃত্যু ভালোবাসার বাঁধন।

চিতোরের বিধবা রানী কর্ণবতী মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের কাছে একটি রাখী পাঠিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন। একটি যুদ্ধে কৃষ্ণের কব্জিতে আঘাত লেগে রক্তপাত শুরু হলে পান্ডবদেবের স্ত্রী দ্রৌপদী শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে কৃষ্ণের হাত বেঁধে দেন। এতে কৃষ্ণ আপ্লুত হয়ে দ্রৌপদীকে বোনের মর্যাদা দেন এবং পরবর্তীতে বোনের ইজ্জত রক্ষায় ভূমিকা রাখেন কৃষ্ণ।

কিংবদন্তী অনুযায়ী ৩২৬ খ্রিষ্টাব্দে মহামতি আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করলে তার স্ত্রী রোজানা তখন কটোচ রাজা পুরুকে একটি পবিত্র সুতো পাঠিয়ে আলেকজান্ডারকে আক্রমণ না করতে অনুরোধ করেন। রাজা পুরু পবিত্র রাখীর সম্মান রেখে নিজে আলেকজান্ডারকে আক্রমণ করেননি।

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধ করার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখী বন্ধন উৎসব পালন করেছিলেন। তিনি কোলকাতা, ঢাকা ও সিলেটে হাজারো হিন্দু-মুসলিমকে এক সুতোয় বাঁধতে আহবান জানিয়েছিলেন। রাখী বন্ধন নিয়ে গল্প-উপন্যাস আর চলচ্চিত্র হয়েছে অনেক।

২০২০ সালের করোনাকালে গর্ভবতী নারীদের সেবা দিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন এক রাখী। হাজারো ভাই-বোনকে বেঁধেছেন এক ভালোবাসার সূতায় বোনা মায়াজালে। অফিসিয়াল নাম রোম্মানা সায়েলা নুর। কিন্তু পরিচিত হাজারো মানুষের কাছে তিনি প্রিয় রাখী আপা নামেই বেশি পরিচিত।

সাগরকণ্যা পটুয়াখালী শহরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের মেয়ে রোম্মানা সায়েলা নুর সেই ছোট্ট বেলা থেকেই বেশ পরিপাটি। স্বজন ও পরিচিত জনদের কাছে আদরের রাখী হিসেবেই বেড়ে উঠেছেন। বর্তমানে রাজধানীতে সরকারী কর্মচারী হাসপাতালে গাইনী বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত।

কিন্তু নিজ শহর পটুয়াখালীতে থাকাকালীন আন্তরিক সেবায় বেঁধেছেন হাজারো মানুষকে। হতদরিদ্রদের কাছে ডাক্তার রাখী যেন দেবতার মত। আন্তরিক সেবা শতভাগ আবার ফি দিতেও হয় না। আর্থিকভাবে দুর্বল অনেক নারীর মাতৃত্বকালীন সেবা থেকে শুরু করে সিজার পর্যন্ত রাখী আপাই যেন ভরসা।

রাজধানীতেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন রোম্মানা সায়েলা নুর। নিজ হাসপাতালে আন্তরিক সেবায় জয় করেছেন শত শত মানুষের অন্তর। এমন ঘটনাও আছে সিজারের পর অসুস্থ শিশুকে সেবা দিতে হাজির হয়েছেন স্বামী শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমানসহ।

করোনাকালে পটুয়াখালীর হতদরিদ্র থেকে সম্ভ্রান্ত পরিবারের সবাই ফোন করে সেবা পাচ্ছেন তার। পটুয়াখালীবাসীর ডাক্তার গ্রুপের একজন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসক হিসেবে টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছেন রোম্মানা সায়েলা নুর। মাহে রমজানেও তার ফোন সার্বক্ষণিক খোলা থাকে শুধু সেবা দিতেই।

পটুয়াখালীবাসীর ডাক্তার গ্রুপের প্রধান উদ্যোক্তা সুমন জাহিদ বলেন, রাখী আপার জনপ্রিয়তা অবিশ্বাস্য। নির্ভেজাল সেবা দিয়েই জয় করেছেন হাজারো মানুষের হৃদয়। তিনি বলেন, শুধু ডাক্তার রাখীই নন, তার স্বামী শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমানও বেশ আন্তরিক। বলেন, ডাক্তার রাখীর ভক্ত অনুরাগী পটুয়াখালী জেলার ঘরে ঘরে।

পটুয়াখালীবাসীর ডাক্তার গ্রুপের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আনম ফয়েজুল হক জুরিখ বলেন, রাখী আপার সেবা অতুলনীয়। সাধারণ মানুষের প্রতি তার মমত্ববোধ অসাধারণ। আন্তরিক সেবায় ডাক্তার রাখীর তুলনা হয় না।

আলম আরা নামে রাজধানীর এক ব্যাংক কর্মকর্তা তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ডাক্তার রোম্মানা সায়েলা নুর রাখীর মত একজন বান্ধবী পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। লিখেছেন, তুই আছিস বলেই ছোট-খাটো অসুস্থতায় রাত যতই হোক সমাধান পেয়ে যাই। পোষ্টের শেষে তিনি ডাক্তার রাখীর দীর্ঘ জীবন কামনা করেছেন।

তানজা ইসলাম নামে আরেক নারী তার ফেসবুকে লিখেছেন, ধন্যবাদ ডাক্তার রোম্মানা সায়েলা নুর রাখী ম্যামকে। এত সুন্দর করে সব কথা ধৈর্য সহকারে কথা শুনেছেন। আবার ম্যাসেজে ওষুধের নাম লিখে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন রাখী আপার তুলনা শুধুই তিনি।

মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ডাক্তার রাখী একজন আদর্শ চিকিৎসক। তিনি করোনাকালে টেলিমেডিসিন সেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অন্যান্য চিকিৎসকরা ডাক্তার রাখীকে অনুসরণ করতে পারেন।

প্রতিদিন ফেসবুকে ডাক্তার রাখীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এমন পোষ্ট ভেসে ওঠে। সবাই ডাক্তার রাখীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। আত্মপ্রচার বিমুখ ডাক্তার রাখী যেন দীঘদিন গণমানুষের সেবা দিতে পারেন সবাই সেই কামনাই করেন।

লেখক: খন্দকার দেলোয়ার জালালী, সাংবাদিক ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত