ত্রিভূজ আকৃতির যে অঙ্গের কারণে রক্তচাপ বাড়ে কমে
jugantor
ত্রিভূজ আকৃতির যে অঙ্গের কারণে রক্তচাপ বাড়ে কমে

  লাইফস্টাইল ডেস্ক  

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৪২:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

অ্যাড্রেনাল গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থি কিডনির ওপরে অবস্থিত একটি ছোট গ্রন্থি। মানবদেহে একজোড়া অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি রয়েছে। অ্যাড্রেনাল গ্রন্থিটি একটি ত্রিভুজ আকৃতির অঙ্গ।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন হরমোন, ডায়াবেটিস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুলতানা মারুফা শেফিন।

অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিম্ন-রক্তচাপ হতে পারে। যদি অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে হরমোন তৈরি হওয়া বেড়ে গেলে হাইপার টেনশন বা উচ্চ-রক্তচাপ হয়। আর কমে গেলে হবে নিম্ন-রক্তচাপ হয়।

নিম্ন-রক্তচাপের আরো অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন- ডি-হাইড্রেশন, যদি পানি ঠিকমত খাওয়া না হয়, প্রচুর ঘেমে যাওয়া, বমি হওয়া, যখন বমি হচ্ছিল, তখন ঠিকমতো স্যালাইন না খাওয়া। এতে কিডনির ওপর চাপ পড়ে যায়।

হরমোনের রোগের মধ্যে একটি রোগ হচ্ছে অ্যাড্রেনাল হরমোন কমে যাওয়া। সাধারণত এ রোগে রোগীর ক্ষুধামন্দা থাকে, ঠিকমতো খেতে পারেন না, জ্বর-জ্বর ভাব থাকে, শারীরিক দুর্বলতা থাকে, রক্তে লবণের তারতম্য এবং ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্স থাকতে পারে।

সে ক্ষেত্রে অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির ফাংশন হরমোন পরীক্ষা করে আমরা রোগ নির্ধারণ করে ফেলি। এরপর অ্যাড্রেনাল হরমোন রিপ্লেসমেন্ট দেই। খুবই সৌভাগ্যের বিষয় এটাও ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়। যার এ অসুখ হবে, তিনি জীবনে কোনদিনও হরমোনের ওষুধ বন্ধ করবেন না। কারণ, অ্যাড্রেনাল হরমোন হচ্ছে লাইফসেভিং হরমোন।

অনেকগুলো হরমোন আসলে লাইফসেভিং হরমোন। ইনসুলিন ছাড়া আমরা ভালো থাকি না। অ্যাড্রেনাল হরমোন ছাড়াও আমরা ভালো থাকি না। একপর্যায়ে আমাদের এমন ভোগান্তি হয়, এতে আমাদের মৃত্যুও হতে পারে।

অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি এবং নিম্ন-রক্তচাপের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। কারো যদি বমি, পাতলা পায়খানা, জ্বর না থাকে এবং পানি ঠিকমত খেয়ে থাকেন, তারপরও যদি রক্তচাপ কম থাকে, তার উচ্চতা ভালো এবং মোটামুটি স্বাভাবিক কাজকর্ম করছেন তাকেও অবশ্যই একজন হরমোন স্পেশালিস্ট এর কাছে গিয়ে দেখিয়ে পরামর্শ নিতে হবে।

রক্তচাপের ক্ষেত্রে ওপরের চাপটা ১০০ থেকে ১৪০ পর্যন্ত নরমাল এবং নিচের চাপটা ৬০ থেকে ৯০ এর মধ্যে নরমাল। ওপরের চাপ ১৪০ এবং নিচের চাপ ৯০ থাকলে আমার সেটাকে বর্ডারলাইন হাইপারটেনশন বলি। এর নিচে আসলে নিম্ন-রক্তচাপ, ওপরে গেলে উচ্চ-রক্তচাপ।

কিন্তু এই স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে ইউরোপিয়ান বা আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড। ইউরোপিয়ান বা আমেরিকান নাগরিকরা লম্বায় আমাদের চেয়ে বড় হয় এবং ফিগারের সাইজ ও বড় হয়। সুতরাং তাদের হার্টের সাইজও বড় থাকে। আর আমাদের দেশের রোগীদের দেখতে হবে তার উচ্চতা কত, তার হার্টের সাইজ কত।

উচ্চতা কম, বয়স কম, এই বয়সে ব্লাডপ্রেসার যদি ১৪০/৮৫ থাকে, এটা ওনার বয়স অনুযায়ী রক্তচাপ বেশির দিকে চলে যায়। আমাদেরকে সাবধানে থাকতে হবে এবং মডেল ফার্মেসিগুলো থেকে রক্তচাপ চেক করিয়ে নিতে হবে।

ত্রিভূজ আকৃতির যে অঙ্গের কারণে রক্তচাপ বাড়ে কমে

 লাইফস্টাইল ডেস্ক 
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৪২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অ্যাড্রেনাল গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থি কিডনির ওপরে অবস্থিত একটি ছোট গ্রন্থি। মানবদেহে একজোড়া অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি রয়েছে। অ্যাড্রেনাল গ্রন্থিটি একটি ত্রিভুজ আকৃতির অঙ্গ।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন হরমোন, ডায়াবেটিস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুলতানা মারুফা শেফিন।  

অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিম্ন-রক্তচাপ হতে পারে। যদি অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে হরমোন তৈরি হওয়া বেড়ে গেলে হাইপার টেনশন বা উচ্চ-রক্তচাপ হয়। আর কমে গেলে হবে নিম্ন-রক্তচাপ হয়।

নিম্ন-রক্তচাপের আরো অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন- ডি-হাইড্রেশন, যদি পানি ঠিকমত খাওয়া না হয়, প্রচুর ঘেমে যাওয়া, বমি হওয়া, যখন বমি হচ্ছিল, তখন ঠিকমতো স্যালাইন না খাওয়া। এতে কিডনির ওপর চাপ পড়ে যায়।

হরমোনের রোগের মধ্যে একটি রোগ হচ্ছে অ্যাড্রেনাল হরমোন কমে যাওয়া। সাধারণত এ রোগে রোগীর ক্ষুধামন্দা থাকে, ঠিকমতো খেতে পারেন না, জ্বর-জ্বর ভাব থাকে, শারীরিক দুর্বলতা থাকে, রক্তে লবণের তারতম্য এবং ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্স থাকতে পারে।

সে ক্ষেত্রে অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির ফাংশন হরমোন পরীক্ষা করে আমরা রোগ নির্ধারণ করে ফেলি। এরপর অ্যাড্রেনাল হরমোন রিপ্লেসমেন্ট দেই। খুবই সৌভাগ্যের বিষয় এটাও ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়। যার এ অসুখ হবে, তিনি জীবনে কোনদিনও হরমোনের ওষুধ বন্ধ করবেন না। কারণ, অ্যাড্রেনাল হরমোন হচ্ছে লাইফসেভিং হরমোন।

অনেকগুলো হরমোন আসলে লাইফসেভিং হরমোন। ইনসুলিন ছাড়া আমরা ভালো থাকি না। অ্যাড্রেনাল হরমোন ছাড়াও আমরা ভালো থাকি না। একপর্যায়ে আমাদের এমন ভোগান্তি হয়, এতে আমাদের মৃত্যুও হতে পারে।

অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি এবং নিম্ন-রক্তচাপের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। কারো যদি বমি, পাতলা পায়খানা, জ্বর না থাকে এবং পানি ঠিকমত খেয়ে থাকেন, তারপরও যদি রক্তচাপ কম থাকে, তার উচ্চতা ভালো এবং মোটামুটি স্বাভাবিক কাজকর্ম করছেন তাকেও অবশ্যই একজন হরমোন স্পেশালিস্ট এর কাছে গিয়ে দেখিয়ে পরামর্শ নিতে হবে।

রক্তচাপের ক্ষেত্রে ওপরের চাপটা ১০০ থেকে ১৪০ পর্যন্ত নরমাল এবং নিচের চাপটা ৬০ থেকে ৯০ এর মধ্যে নরমাল। ওপরের চাপ ১৪০ এবং নিচের চাপ ৯০ থাকলে আমার সেটাকে বর্ডারলাইন হাইপারটেনশন বলি। এর নিচে আসলে নিম্ন-রক্তচাপ, ওপরে গেলে উচ্চ-রক্তচাপ।

কিন্তু এই স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে ইউরোপিয়ান বা আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড। ইউরোপিয়ান বা আমেরিকান নাগরিকরা লম্বায় আমাদের চেয়ে বড় হয় এবং ফিগারের সাইজ ও বড় হয়। সুতরাং তাদের হার্টের সাইজও বড় থাকে। আর আমাদের দেশের রোগীদের দেখতে হবে তার উচ্চতা কত, তার হার্টের সাইজ কত।

উচ্চতা কম, বয়স কম, এই বয়সে ব্লাডপ্রেসার যদি ১৪০/৮৫ থাকে, এটা ওনার বয়স অনুযায়ী রক্তচাপ বেশির দিকে চলে যায়। আমাদেরকে সাবধানে থাকতে হবে এবং মডেল ফার্মেসিগুলো থেকে রক্তচাপ চেক করিয়ে নিতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন