অ্যালঝাইমার ডিমেনশিয়া
jugantor
অ্যালঝাইমার ডিমেনশিয়া

  মাহাবুবুর রহমান সেলিম  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:১৬:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

অ্যালজাইমার ডিমেনশিয়া মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় এক বিশেষ ধরনের নিউরোলজিক্যাল রোগ, যাকে আমরা স্মৃতিভ্রংশ রোগ বলতে পারি। এ রোগের ফলে রোগী মনে রাখতে পারে না; একটু আগের কর্মকাণ্ড বা ঘটনাবলী মুহূর্তেই ভুলে যায়। এসব রোগ মানুষের মস্তিষ্কের ভিন্ন ভিন্ন অংশকে প্রভাবিত করে, যা রোগীদের ভিন্ন ভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যেমন- সাম্প্রতিক ঘটনা, নাম, চেহারা ভুলে যাওয়া, কখনো অল্প সময়ের মধ্যে একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি, একটি জিনিস যে জায়গায় রাখার কথা ছিল সেখানে না রেখে অন্য জাগায় অর্থাৎ ভুল জায়গায় রাখা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া যায়। কিছু কিছু রোগ যা আমাদের মস্তিষ্কে সঠিকভাবে কর্মপরিচালনা থেকে বিরত রাখে। ডিমেনশিয়া আছে এমন অধিকাংশ মানুষেরই অ্যালঝাইমার রোগ বা ভ্যাসকিউলার ডিমেনশিয়া থাকে। এ ছাড়া অন্যান্য ধরনও রয়েছে।

এটা ভুলে যাওয়া রোগ।

এটার কারণ হিসাবে দেখা যায়, মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগ শরীরে ভিটামিনের বা খনিজ উপাদানের অভাব বিশেষ করে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, রক্ত জমাট, রক্ত চলাচল কম হওয়ায় আর তার সঙ্গে যদি থাকে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং কম পরিমাণ হরমোন থাইরয়েডের সমস্যা, ডিমেনশিয়া একটা বিশেষ ধরনের ক্লিনিক্যাল উপসর্গ, যা মানুষের স্মৃতিশক্তি চিন্তা-ভাবনা ও সামাজিক বস্তুনিষ্ঠ ক্ষমতাকে পুরোপুরি প্রভাবিত করে। এটি একটি নির্দিষ্ট কোনো রোগ নয়, তবে নানাবিধ রোগের প্রভাব হয়ে থাকে নিত্যদিনের জীবন প্রবাহে; যা অতিশয় প্রভাবিত হয়।

বিশেষ করে কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ স্থাপনের ব্যাঘাত ঘটায়, মস্তিষ্কের ওঠানামা এবং অবনতি। স্মৃতিশক্তি ব্যাঘাতের আগাম উপস্থিতি, অস্থিরতার ইতিহাস, ঘনঘন ছন্দপতন, মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপে ক্রমবর্ধমান অবনতি। ডিমেনশিয়া হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্ক আমরা যা ভাবি, চিন্তা অনুভব করি ও বলি এবং প্রায় সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের স্মৃতিগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে থাকে। মনোযোগ ধরে রাখা বা সহজ সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যায়, সেইসঙ্গে দিন-তারিখ এবং সময় সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া। এমনকি হারিয়ে যাওয়া, বিশেষ করে নতুন নতুন স্থানে, যার ফলে চিন্তা-চেতনা অনুভূতিতে পরিবর্তন। যেমন অতি সহজে হতাশ-বিমর্ষ এবং মর্মাহত হয়ে যায়। এমনকি কোনো কিছুর ওপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।

ডিমেনশিয়া যদি খারাপের দিকে যেতে থাকলে রোগীর জন্য স্পষ্ট করে কথা বলা তার নিজস্ব প্রয়োজন এবং অনুভূতি সম্পর্কে কাউকে বলা কষ্টকর হয়ে যায়। নিজে থেকে খাওয়া-দাওয়া এবং পান করা কোনো কিছু ধোয়া এমনকি নিজের পোশাক পরিধান শৌচাগার যাওয়া অন্যের সাহায্য ছাড়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। সাধারণত ৬৫ বছরের বেশি মানুষের ডিমেনশিয়ায় ঝুঁকি বেশি থাকে। দুশ্চিন্তা উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস অনেকটা বড় কারণ।

ডিমেনশিয়ার শ্রেণিভেদ

অ্যালঝাইমার এটা সবচাইতে সচরাচর ডিমেনশিয়া। ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই এটি দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত ব্যক্তি নাম মনে রাখতে পারে না, আস্তে আস্তে তার আরও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন চিন্তা-চেতনায় আচরণে অসামঞ্জস্য বিড়বিড় করে কথা বলতে গিয়ে শব্দ খুঁজে না পাওয়া। এর প্রধান কারণ হচ্ছে স্নায়ু কোষের মৃত্যু ও স্নায়ু কোষ নষ্ট হওয়া। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্কের এমন কিছু কোষ ও নেটওয়ার্ক শুকিয়ে যায় ডিমেনশিয়া আমৃত্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, স্মৃতি ও চিন্তা-ভাবনায় যার নেপথ্যেই থাকে alzheimer's। অনেক সময় মাথায় আঘাতের কারণে হতে পারে স্মৃতি ভ্রংশ।

ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া

এতে রোগীর যুক্তি ও বিচার ক্ষমতা হ্রাস পায়। কোনো কাজ সম্পাদন করতে প্রয়োজনীয় ধাপ অনুসরণ করতে না পারা। সাধারণত মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা আঘাতের কারণে হয়ে থাকে।

লিউয়ি বডি ডিমেনশিয়া

স্মৃতিশক্তি লোপ, চিন্তা-ভাবনা সমস্যা, ভিজুয়াল হ্যালুসিনেশন, ঘুমের সমস্যা, ধীরগতির হয়ে পড়া, মাংসপেশির সচলতা কমে যাওয়া এটি প্রধানত এ রোগের লক্ষণ। ব্রেইন করটৈক্য এ যখন প্রোটিন আলফা সাইনুক্লেইনক্লি-এর অস্বাভাবিক হয়, তখন এ অবস্থা হয়।

ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া

মস্তিষ্কের পাশের ও সামনের দিকের লোবের নিউরন সংখ্যা হ্রাস পেলে রোগের পার্সোনালিটি পরিবর্তন, আচরণ পরিবর্তন এমনকি ভাষা ব্যবহারে জটিলতা দেখা দেয়।

হান্টিংটন ডিমেনশিয়া

ক্রোমোজোমের চার নং জোড়ার ত্রুটির কারণে আস্তে আস্তে মস্তিষ্কের ডিসঅর্ডার শুরু হয় এ রোগে, যারা আক্রান্ত হয় তাদের মধ্যে দেখা যায় অনিয়ন্ত্রিত গতিবিধি। চিন্তায় অসামঞ্জস্য, ডিপ্রেশন এবং মুড চেঞ্জ হতে থাকে।

ডিমেনশিয়া একটি ল্যাটিন শব্দ demantare থেকে এসেছে, এর বাংলা অর্থ হচ্ছে পাগল করে দেওয়া। ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির স্মৃতি, বুদ্ধি ও ব্যক্তিত্ব ক্রমান্বয়ে লোপ পেতে থাকে। সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ রোগীর অস্তিত্ব বেশি দেখা যায়। হঠাৎ করে অনেক কিছু মনে রাখতে না পারায় আচরণে ঘটে অস্বাভাবিকতা। ডিমেনশিয়া এক ধরনের ক্লিনিক্যাল উপসর্গ, যা মানুষের চিন্তা-ভাবনা, স্মৃতিশক্তি, সামাজিক ক্ষমতা ইত্যাদিকে দারুণ প্রভাবিত করে।

শেখার ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে, স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার সঙ্গে ব্যক্তিত্ব এবং মেজাজের পরিবর্তন ঘটে। চিন্তাশক্তি কমে যাওয়া দ্বন্দ্বে ভোগা, কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ স্থাপনের সমস্যা, অ্যানজাইটি ইস্যু, হ্যালুসিনেশন, মুড পরিবর্তন। এ ছাড়া রয়েছে সাম্প্রতিক ঘটনা নাম ও চেহারা ভুলে যাওয়া। প্রায় কম সময়ের মধ্যে একই প্রশ্নেরই পুনরাবৃত্তি করা। কোন জিনিসপত্র কোথায় রেখেছে ভুলে যাওয়া, এমনকি সঠিক স্থানে না রাখা। কোনো সরল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সমস্যা, দিনক্ষণ ভুলে যাওয়া। অনিয়ন্ত্রিত গতিবিধি, অবোধগম্য বিচার-বিবেচনা-যুক্তি ও বিচার ক্ষমতার লোভ ইত্যাদি

সঠিক শব্দ ব্যবহার না করে অন্যদের কথা বুঝতে অক্ষম। অল্প কিছুতেই অনুভূতিতে পরিবর্তন। ফলে কোনো কারণে বিমর্ষ এবং মর্মাহত এবং তড়িৎ কোনো কিছুর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা। এলবিডি এ রোগের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কোষের মধ্যে দলীয় বডি নামক এক বস্তু জমতে থাকে; এর ফলে মস্তিষ্কের মধ্যে Lew body নামক এক বস্তু জমতে থাকে (ভাসকুলার ডিমেনশিয়া)-এর ফলে মস্তিষ্কের মধ্যে রক্ত চলাচল কমে যায়। অনেক সময় জিনগত একটা প্রভাব থাকে। যাদের মধ্যে অ্যপালাই পোপ্রোটিন ই ফোর প্রবণতা থাকলে তাদের মধ্যে অ্যালঝাইমারের ঝুঁকি লক্ষ করা যায়।

আমাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ও মস্তিষ্কের রোগ বাড়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকে। তদ্ব্যতীত একটি সম্ভাব্য প্রতিরোধযোগ্য ডিমেনশিয়া অ্যালঝাইমার রোগের পর AD ভাস্কুলার ডিমেনশিয়ার দ্বিতীয় প্রধান কারণ। হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস অস্টিও আর্থারাইটিস বা হৃদরোগ। সাধারণত পুরুষদের এ রোগ বেশি হয়। মস্তিষ্কে ক্ষত সংখ্যা, প্রসারণ এবং অবস্থানের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে কর্টিক্যাল এবং তারপর চিকেন অঞ্চলকে প্রভাবিত করবে। ডিমেনশিয়া যদি খারাপ পর্যায়ে চলে যায়, তখন ব্যক্তি নিজের প্রয়োজন বা কোনো অনুভূতি সম্পর্কে কাউকে বোঝাতে সক্ষম হন না, এমনকি নিজের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড করতে অক্ষম থাকেন।

ডিমেনশিয়া বলতে আরও বুঝি আমাদের ব্রেইন প্রতিনিয়ত যা চিন্তা, অনুভব, বলি ও করি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এবং আমাদের স্মৃতি ভাবনাগুলো সংরক্ষণ করে। এমনকি যা আমাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড তাতে দারুণ প্রভাবিত করে। আচরণের বড় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে শিশুদের মতো অভিমান করে। মিনি মেন্টাল পরীক্ষায় যদি দেখা যায় কোনো ব্যক্তির স্কোর ২৫ বা ২৬-এর নিচে, তাহলে ধরে নেওয়া যায় ভদ্রলোক ডিমেনশিয়া আক্রান্ত। চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানীরা ডিমেনশিয়া সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানা ও পর্যালোচনার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

সাধারণত যদি কারও ডিমেনশিয়া হয়, তাহলে সেটি তার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত থাকে এবং এই রোগ দূরীভূত হওয়ার জন্য বিশেষ কোনো ওষুধ নেই এবং সময়ের সঙ্গে রোগীদের অবস্থার অবনতি ঘটে। তবে সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে হয়তো বা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এমনকি পরিবারের সদস্যরা রোগীর বিশেষ যত্নের মধ্য দিয়ে ভূমিকা রাখতে পারেন। লম্বা সময় বসে থাকা থেকে বিরত থাকুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। সবাইকে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত রাখুন কোনো সামাজিক কর্মকাণ্ডে। মদ্যপান, ধূমপান থেকে বিরত থাকুন। রোগীর সার্বিক কার্যকারিতা অথবা পরিপার্শ্ব সম্পর্কে চেতনার ক্ষয় হতে থাকে। রোগী পরনির্ভরশীল হয়ে থাকেন। ডিমেনশিয়ায় ভুগছে মানুষগুলো প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বুঝতে পারে, যখন কিছু একটা গোলমেলে ঠেকে। মানুষ মাত্রই কম-বেশি অনেক কিছুই ভুলে যায়।

যদি এ ভুলে যাওয়া মাত্রাতিরিক্ত হয়, যা দৈনন্দিন জীবনকে দুরূহ করে তোলে বা আক্রান্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের গুণগত মানকে ব্যাহত করে, তাহলে সেটা অবশ্যই রোগ ব্যতিরেকে আর কিছুই নয়। ভুলে যাওয়ার সমস্যা যদি হঠাৎ করে কিছু সময়ের জন্য আবির্ভূত হয়, তাহলে একে আ্যকিউট কনফিউশনাল স্টেট বলা হয়। সাধারণত মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, শরীরে লবণের ভারসাম্যহীনতা, মাথায় আঘাত বা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যাওয়া বা বেড়ে গেলে এ ধরনের কনফিউশনাল স্টেট হতে পারে। মস্তিষ্ক করটেক্ এ যখন প্রোটিন আলফাসাইনুক্লেইন-এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে, তখন ডিমেনশিয়া হয়। সঠিক চিকিৎসা নেওয়ার ফলে সমস্যাটি সেরেও যেতে পারে। কিন্তু ভুলে যাওয়ার সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হয়, সহজে সেরে উঠে না, বরং প্রতিদিন বাড়তে থাকে তাহলে তাকে ডিমেনশিয়া বলে।

ডিমেনশিয়া ঝুঁকি এড়ানোর জন্য আমাদের প্রতিনিয়ত খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। যেমন লাল চাল, লাল আটা, ওটস, পাস্তা, পপকন পূর্ণ শস্য যুক্ত খাবার। সামুদ্রিক মাছ স্যমন, টুনা, ম্যাকরেল ইত্যাদি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন খাওয়া। শিমের বিচি এবং শিম এতে থাকে প্রোটিন ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ দ্রব্য। শাকসবজি মধ্যে রয়েছে সবুজ শাক, বিশেষ করে ব্রকলি, শালগম, পালংশাক, বাঁধাকপি ইত্যাদি। এতে রয়েছে ফলেট, লুটেইন, ভিটামিন ই, পলিফেনলস এবং ক্যারোটিন। প্রতিদিন একবার সালাত খাওয়া। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে বাদাম অতি প্রয়োজনীয়। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন কিছু পরিমাণ বাদাম খাওয়া। সালাদের সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। যদি রান্নার কাজে খাওয়া যায়, তাহলে অতি উত্তম।

রেডমিট, মিষ্টি জাতীয় খাবার যত কম খাওয়া। ডিমেনশিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০১৫ সালে পাঁচ লাখের মতো, যা আগামী ২০৩০ সালে আট লাখ ছাড়িয়ে যাবে। হয়তো ২০৫০ সালে এসে দাঁড়াবে ২২ লাখের মতো। ডাটা অনুযায়ী, ২০১৪ সালে গোটা বিশ্বে এ রোগে আক্রান্ত হয় ৪৭.৫ মিলিয়ন মানুষ। এজন্যই মানুষকে অনেক সচেতন হতে হবে। পরিচর্যাকারী কাছে আত্মীয়ের কাউন্সিলিং খুবই জরুরি। সবার সঙ্গে মিশতে হবে বন্ধু এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে বেশি সময় অবস্থান করা। প্রাথমিক জরিপে দেখা যায়, ৬৫ বছরের প্রতি ১৫ জনের মধ্যে একজন হতে পারে। ডিমেনশিয়া সম্পর্কে মানুষকে অনেক সচেতন করে তোলার জন্য সবচেয়ে বেশি অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে গণমাধ্যমকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অধিকতর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এবং শিক্ষা বিভাগ পাঠ্যসূচিতে এ রোগের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করবে অতীব জরুরি ভিত্তিতে। প্রয়োজনে সংসদে আলোচনা এ বিষয়ে কথা বলা এবং প্রয়োজনীয় আইন পাশ করা। মনে রাখতে হবে, সঠিক পরিচর্যা তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এবং নিবিড় সাহায্য ছাড়া ডিমেনশিয়া আক্রান্ত মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপনে সম্ভব নয়।

অ্যালঝাইমার ডিমেনশিয়া

 মাহাবুবুর রহমান সেলিম 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:১৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অ্যালজাইমার ডিমেনশিয়া মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় এক বিশেষ ধরনের নিউরোলজিক্যাল রোগ, যাকে আমরা স্মৃতিভ্রংশ রোগ বলতে পারি। এ রোগের ফলে রোগী মনে রাখতে পারে না; একটু আগের কর্মকাণ্ড বা ঘটনাবলী মুহূর্তেই ভুলে যায়। এসব রোগ মানুষের মস্তিষ্কের ভিন্ন ভিন্ন অংশকে প্রভাবিত করে, যা রোগীদের ভিন্ন ভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যেমন- সাম্প্রতিক ঘটনা, নাম, চেহারা ভুলে যাওয়া, কখনো অল্প সময়ের মধ্যে একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি, একটি জিনিস যে জায়গায় রাখার কথা ছিল সেখানে না রেখে অন্য জাগায় অর্থাৎ ভুল জায়গায় রাখা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া যায়। কিছু কিছু রোগ যা আমাদের মস্তিষ্কে সঠিকভাবে কর্মপরিচালনা থেকে বিরত রাখে। ডিমেনশিয়া আছে এমন অধিকাংশ মানুষেরই অ্যালঝাইমার রোগ বা ভ্যাসকিউলার ডিমেনশিয়া থাকে। এ ছাড়া অন্যান্য ধরনও রয়েছে।

এটা ভুলে যাওয়া রোগ।

এটার কারণ হিসাবে দেখা যায়, মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগ শরীরে ভিটামিনের বা খনিজ উপাদানের অভাব বিশেষ করে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, রক্ত জমাট, রক্ত চলাচল কম হওয়ায় আর তার সঙ্গে যদি থাকে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং কম পরিমাণ হরমোন থাইরয়েডের সমস্যা, ডিমেনশিয়া একটা বিশেষ ধরনের ক্লিনিক্যাল উপসর্গ, যা মানুষের স্মৃতিশক্তি চিন্তা-ভাবনা ও সামাজিক বস্তুনিষ্ঠ ক্ষমতাকে পুরোপুরি প্রভাবিত করে। এটি একটি নির্দিষ্ট কোনো রোগ নয়, তবে নানাবিধ রোগের প্রভাব হয়ে থাকে নিত্যদিনের জীবন প্রবাহে; যা অতিশয় প্রভাবিত হয়।

বিশেষ করে কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ স্থাপনের ব্যাঘাত ঘটায়, মস্তিষ্কের ওঠানামা এবং অবনতি। স্মৃতিশক্তি ব্যাঘাতের আগাম উপস্থিতি, অস্থিরতার ইতিহাস, ঘনঘন ছন্দপতন, মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপে ক্রমবর্ধমান অবনতি। ডিমেনশিয়া হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্ক আমরা যা ভাবি, চিন্তা অনুভব করি ও বলি এবং প্রায় সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের স্মৃতিগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে থাকে। মনোযোগ ধরে রাখা বা সহজ সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যায়, সেইসঙ্গে দিন-তারিখ এবং সময় সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া। এমনকি হারিয়ে যাওয়া, বিশেষ করে নতুন নতুন স্থানে, যার ফলে চিন্তা-চেতনা অনুভূতিতে পরিবর্তন। যেমন অতি সহজে হতাশ-বিমর্ষ এবং মর্মাহত হয়ে যায়। এমনকি কোনো কিছুর ওপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।

ডিমেনশিয়া যদি খারাপের দিকে যেতে থাকলে রোগীর জন্য স্পষ্ট করে কথা বলা তার নিজস্ব প্রয়োজন এবং অনুভূতি সম্পর্কে কাউকে বলা কষ্টকর হয়ে যায়। নিজে থেকে খাওয়া-দাওয়া এবং পান করা কোনো কিছু ধোয়া এমনকি নিজের পোশাক পরিধান শৌচাগার যাওয়া অন্যের সাহায্য ছাড়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। সাধারণত ৬৫ বছরের বেশি মানুষের ডিমেনশিয়ায় ঝুঁকি বেশি থাকে। দুশ্চিন্তা উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস অনেকটা বড় কারণ।

ডিমেনশিয়ার শ্রেণিভেদ

অ্যালঝাইমার এটা সবচাইতে সচরাচর ডিমেনশিয়া। ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই এটি দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত ব্যক্তি নাম মনে রাখতে পারে না, আস্তে আস্তে তার আরও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন চিন্তা-চেতনায় আচরণে অসামঞ্জস্য বিড়বিড় করে কথা বলতে গিয়ে শব্দ খুঁজে না পাওয়া। এর প্রধান কারণ হচ্ছে স্নায়ু কোষের মৃত্যু ও স্নায়ু কোষ নষ্ট হওয়া। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্কের এমন কিছু কোষ ও নেটওয়ার্ক শুকিয়ে যায় ডিমেনশিয়া আমৃত্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, স্মৃতি ও চিন্তা-ভাবনায় যার নেপথ্যেই থাকে alzheimer's। অনেক সময় মাথায় আঘাতের কারণে হতে পারে স্মৃতি ভ্রংশ।

ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া

এতে রোগীর যুক্তি ও বিচার ক্ষমতা হ্রাস পায়। কোনো কাজ সম্পাদন করতে প্রয়োজনীয় ধাপ অনুসরণ করতে না পারা। সাধারণত মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা আঘাতের কারণে হয়ে থাকে।

লিউয়ি বডি ডিমেনশিয়া

স্মৃতিশক্তি লোপ, চিন্তা-ভাবনা সমস্যা, ভিজুয়াল হ্যালুসিনেশন, ঘুমের সমস্যা, ধীরগতির হয়ে পড়া, মাংসপেশির সচলতা কমে যাওয়া এটি প্রধানত এ রোগের লক্ষণ। ব্রেইন করটৈক্য এ যখন প্রোটিন আলফা সাইনুক্লেইনক্লি-এর অস্বাভাবিক হয়, তখন এ অবস্থা হয়।

ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া

মস্তিষ্কের পাশের ও সামনের দিকের লোবের নিউরন সংখ্যা হ্রাস পেলে রোগের পার্সোনালিটি পরিবর্তন, আচরণ পরিবর্তন এমনকি ভাষা ব্যবহারে জটিলতা দেখা দেয়।

হান্টিংটন ডিমেনশিয়া

ক্রোমোজোমের চার নং জোড়ার ত্রুটির কারণে আস্তে আস্তে মস্তিষ্কের ডিসঅর্ডার শুরু হয় এ রোগে, যারা আক্রান্ত হয় তাদের মধ্যে দেখা যায় অনিয়ন্ত্রিত গতিবিধি। চিন্তায় অসামঞ্জস্য, ডিপ্রেশন এবং মুড চেঞ্জ হতে থাকে।

ডিমেনশিয়া একটি ল্যাটিন শব্দ demantare থেকে এসেছে, এর বাংলা অর্থ হচ্ছে পাগল করে দেওয়া। ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির স্মৃতি, বুদ্ধি ও ব্যক্তিত্ব ক্রমান্বয়ে লোপ পেতে থাকে। সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ রোগীর অস্তিত্ব বেশি দেখা যায়। হঠাৎ করে অনেক কিছু মনে রাখতে না পারায় আচরণে ঘটে অস্বাভাবিকতা। ডিমেনশিয়া এক ধরনের ক্লিনিক্যাল উপসর্গ, যা মানুষের চিন্তা-ভাবনা, স্মৃতিশক্তি, সামাজিক ক্ষমতা ইত্যাদিকে দারুণ প্রভাবিত করে।

শেখার ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে, স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার সঙ্গে ব্যক্তিত্ব এবং মেজাজের পরিবর্তন ঘটে। চিন্তাশক্তি কমে যাওয়া দ্বন্দ্বে ভোগা, কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ স্থাপনের সমস্যা, অ্যানজাইটি ইস্যু, হ্যালুসিনেশন, মুড পরিবর্তন। এ ছাড়া রয়েছে সাম্প্রতিক ঘটনা নাম ও চেহারা ভুলে যাওয়া। প্রায় কম সময়ের মধ্যে একই প্রশ্নেরই পুনরাবৃত্তি করা। কোন জিনিসপত্র কোথায় রেখেছে ভুলে যাওয়া, এমনকি সঠিক স্থানে না রাখা। কোনো সরল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সমস্যা, দিনক্ষণ ভুলে যাওয়া। অনিয়ন্ত্রিত গতিবিধি, অবোধগম্য বিচার-বিবেচনা-যুক্তি ও বিচার ক্ষমতার লোভ ইত্যাদি

সঠিক শব্দ ব্যবহার না করে অন্যদের কথা বুঝতে অক্ষম। অল্প কিছুতেই অনুভূতিতে পরিবর্তন। ফলে কোনো কারণে বিমর্ষ এবং মর্মাহত এবং তড়িৎ কোনো কিছুর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা। এলবিডি এ রোগের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কোষের মধ্যে দলীয় বডি নামক এক বস্তু জমতে থাকে; এর ফলে মস্তিষ্কের মধ্যে Lew body নামক এক বস্তু জমতে থাকে (ভাসকুলার ডিমেনশিয়া)-এর ফলে মস্তিষ্কের মধ্যে রক্ত চলাচল কমে যায়। অনেক সময় জিনগত একটা প্রভাব থাকে। যাদের মধ্যে অ্যপালাই পোপ্রোটিন ই ফোর প্রবণতা থাকলে তাদের মধ্যে অ্যালঝাইমারের ঝুঁকি লক্ষ করা যায়।

আমাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ও মস্তিষ্কের রোগ বাড়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকে। তদ্ব্যতীত একটি সম্ভাব্য প্রতিরোধযোগ্য ডিমেনশিয়া অ্যালঝাইমার রোগের পর AD ভাস্কুলার ডিমেনশিয়ার দ্বিতীয় প্রধান কারণ। হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস অস্টিও আর্থারাইটিস বা হৃদরোগ। সাধারণত পুরুষদের এ রোগ বেশি হয়। মস্তিষ্কে ক্ষত সংখ্যা, প্রসারণ এবং অবস্থানের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে কর্টিক্যাল এবং তারপর চিকেন অঞ্চলকে প্রভাবিত করবে। ডিমেনশিয়া যদি খারাপ পর্যায়ে চলে যায়, তখন ব্যক্তি নিজের প্রয়োজন বা কোনো অনুভূতি সম্পর্কে কাউকে বোঝাতে সক্ষম হন না, এমনকি নিজের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড করতে অক্ষম থাকেন।

ডিমেনশিয়া বলতে আরও বুঝি আমাদের ব্রেইন প্রতিনিয়ত যা চিন্তা, অনুভব, বলি ও করি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এবং আমাদের স্মৃতি ভাবনাগুলো সংরক্ষণ করে। এমনকি যা আমাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড তাতে দারুণ প্রভাবিত করে। আচরণের বড় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে শিশুদের মতো অভিমান করে। মিনি মেন্টাল পরীক্ষায় যদি দেখা যায় কোনো ব্যক্তির স্কোর ২৫ বা ২৬-এর নিচে, তাহলে ধরে নেওয়া যায় ভদ্রলোক ডিমেনশিয়া আক্রান্ত। চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানীরা ডিমেনশিয়া সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানা ও পর্যালোচনার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

সাধারণত যদি কারও ডিমেনশিয়া হয়, তাহলে সেটি তার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত থাকে এবং এই রোগ দূরীভূত হওয়ার জন্য বিশেষ কোনো ওষুধ নেই এবং সময়ের সঙ্গে রোগীদের অবস্থার অবনতি ঘটে। তবে সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে হয়তো বা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এমনকি পরিবারের সদস্যরা রোগীর বিশেষ যত্নের মধ্য দিয়ে ভূমিকা রাখতে পারেন। লম্বা সময় বসে থাকা থেকে বিরত থাকুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। সবাইকে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত রাখুন কোনো সামাজিক কর্মকাণ্ডে। মদ্যপান, ধূমপান থেকে বিরত থাকুন। রোগীর সার্বিক কার্যকারিতা অথবা পরিপার্শ্ব সম্পর্কে চেতনার ক্ষয় হতে থাকে। রোগী পরনির্ভরশীল হয়ে থাকেন। ডিমেনশিয়ায় ভুগছে মানুষগুলো প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বুঝতে পারে, যখন কিছু একটা গোলমেলে ঠেকে। মানুষ মাত্রই কম-বেশি অনেক কিছুই ভুলে যায়।

যদি এ ভুলে যাওয়া মাত্রাতিরিক্ত হয়, যা দৈনন্দিন জীবনকে দুরূহ করে তোলে বা আক্রান্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের গুণগত মানকে ব্যাহত করে, তাহলে সেটা অবশ্যই রোগ ব্যতিরেকে আর কিছুই নয়। ভুলে যাওয়ার সমস্যা যদি হঠাৎ করে কিছু সময়ের জন্য আবির্ভূত হয়, তাহলে একে আ্যকিউট কনফিউশনাল স্টেট বলা হয়। সাধারণত মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, শরীরে লবণের ভারসাম্যহীনতা, মাথায় আঘাত বা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যাওয়া বা বেড়ে গেলে এ ধরনের কনফিউশনাল স্টেট হতে পারে। মস্তিষ্ক করটেক্ এ যখন প্রোটিন আলফাসাইনুক্লেইন-এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে, তখন ডিমেনশিয়া হয়। সঠিক চিকিৎসা নেওয়ার ফলে সমস্যাটি সেরেও যেতে পারে। কিন্তু ভুলে যাওয়ার সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হয়, সহজে সেরে উঠে না, বরং প্রতিদিন বাড়তে থাকে তাহলে তাকে ডিমেনশিয়া বলে।

ডিমেনশিয়া ঝুঁকি এড়ানোর জন্য আমাদের প্রতিনিয়ত খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। যেমন লাল চাল, লাল আটা, ওটস, পাস্তা, পপকন পূর্ণ শস্য যুক্ত খাবার। সামুদ্রিক মাছ স্যমন, টুনা, ম্যাকরেল ইত্যাদি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন খাওয়া। শিমের বিচি এবং শিম এতে থাকে প্রোটিন ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ দ্রব্য। শাকসবজি মধ্যে রয়েছে সবুজ শাক, বিশেষ করে ব্রকলি, শালগম, পালংশাক, বাঁধাকপি ইত্যাদি। এতে রয়েছে ফলেট, লুটেইন, ভিটামিন ই, পলিফেনলস এবং ক্যারোটিন। প্রতিদিন একবার সালাত খাওয়া। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে বাদাম অতি প্রয়োজনীয়। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন কিছু পরিমাণ বাদাম খাওয়া। সালাদের সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। যদি রান্নার কাজে খাওয়া যায়, তাহলে অতি উত্তম।

রেডমিট, মিষ্টি জাতীয় খাবার যত কম খাওয়া। ডিমেনশিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০১৫ সালে পাঁচ লাখের মতো, যা আগামী ২০৩০ সালে আট লাখ ছাড়িয়ে যাবে। হয়তো ২০৫০ সালে এসে দাঁড়াবে ২২ লাখের মতো। ডাটা অনুযায়ী, ২০১৪ সালে গোটা বিশ্বে এ রোগে আক্রান্ত হয় ৪৭.৫ মিলিয়ন মানুষ। এজন্যই মানুষকে অনেক সচেতন হতে হবে। পরিচর্যাকারী কাছে আত্মীয়ের কাউন্সিলিং খুবই জরুরি। সবার সঙ্গে মিশতে হবে বন্ধু এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে বেশি সময় অবস্থান করা। প্রাথমিক জরিপে দেখা যায়, ৬৫ বছরের প্রতি ১৫ জনের মধ্যে একজন হতে পারে। ডিমেনশিয়া সম্পর্কে মানুষকে অনেক সচেতন করে তোলার জন্য সবচেয়ে বেশি অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে গণমাধ্যমকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অধিকতর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এবং শিক্ষা বিভাগ পাঠ্যসূচিতে এ রোগের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করবে অতীব জরুরি ভিত্তিতে। প্রয়োজনে সংসদে আলোচনা এ বিষয়ে কথা বলা এবং প্রয়োজনীয় আইন পাশ করা। মনে রাখতে হবে, সঠিক পরিচর্যা তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এবং নিবিড় সাহায্য ছাড়া ডিমেনশিয়া আক্রান্ত মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপনে সম্ভব নয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন