লিম্ফোসাইট কোষের ক্যান্সার
jugantor
লিম্ফোসাইট কোষের ক্যান্সার

  ডা. মো. ফারুক হোসেন  

০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:১৮:১৬  |  অনলাইন সংস্করণ

লিম্ফোসাইট কোষের ক্যান্সার বলতে নন হজকিন লিম্ফোমাকে বুঝানো হয়। নন হজকিন লিম্ফোমা হল লিম্ফেটিক সিস্টেমের এক ধরনের ক্যান্সার যার কারণে মুখে আলসার দেখা দিতে পারে। নন হজকিন লিম্ফোমাকে নন হজকিন লিম্ফোমাও বলা হয়। নন হজকিন লিম্ফোমা শুরু হয় লিম্ফোসাইট নামক সেল বা কোষ থেকে।

লিম্ফোসাইট কোষ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার কারণে নন হজকিন লিম্ফোমা হতে পারে। কিন্তু এটি আরম্ভ হয় যখন কারও শরীর অনেক বেশি অস্বাভাবিক লিম্ফোসাইট কোষ উৎপাদন শুরু করে। লিম্ফোসাইট এক ধরনের শ্বেত রক্ত কনিকা।

অস্বাভাবিক লিম্ফোসাইট উৎপাদনের কারণে অতিরিক্ত লিম্ফোসাইট লিম্ফনোড বা লসিকা গ্রন্থিতে জমা হয় যার কারণে লিম্ফনোড বা লসিকা গ্রন্থি ফুলে যায়। নন হজকিন লিম্ফোমা লিম্ফনোডে হয়ে থাকে। কিন্তু এ ক্যান্সার লিম্ফেটিক সিস্টেমের অন্যান্য অংশেও বিস্তৃতি লাভ করতে পারে। এরই মধ্যে লসিকা নালি, টনসিল, এডেনয়েডস্, প্লীহা, থাইমাস এবং অস্থিমজ্জা অন্যতম।

এইচ.আই.ভি পজেটিভ ব্যক্তিদের নন হজকিন লিম্ফোমা হতে পারে। এইচ.আই.ভি ভাইরাস ছাড়াও এপস্টেন বার ভাইরাস সংক্রমণে নন হজকিন লিম্ফোমা হতে পারে। আবার ইমমিউনোসাপ্রেসিভ থেরাপির কারণেও নন হজকিন লিম্ফোমা হতে পারে। এ অবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল থাকে। লিম্ফোসাইট প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে। B লিম্ফোসাইট এবং T লিম্ফোসাইট। উভয় ধরনের লিম্ফোসাইট থেকে লিম্ফোমা সেল হতে পারে। কিন্তু B লিম্ফোমা অনেক বেশি হয়ে থাকে।

উপসর্গ : নন হজকিন লিম্ফোমার ক্ষেত্রে ব্যথাযুক্ত অবস্থায় সারভাইকাল লিম্ফনোডগুলো বড় হয়ে যায়। প্রাথমিক অবস্থায় রোগীরা এ বর্ণনা বা অভিযোগ করে থাকেন। (১) মুখের অভ্যন্তরে আলসার বা ঘাঁ দেখা দেয় এবং মুখ ফুলে যেতে পারে। (২) চোয়াল খোলার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। (৩)মুখের সংক্রমণ বিশেষ করে ভাইরাস এবং ফাঙ্গাসের কারণে হতে পারে। (৪) সাইটোটক্সিক বা কোষ বিনাশকারী ওষুধের কারণে মিউকোসাইটিস বা মুখের আলসার। (৫) এনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা। (৬)

কর্টিকোস্টেরয়েড থেরাপির কারণে মুখের সমস্যা। (৭) মুখের অভ্যন্তরে সামান্য আঘাতে রক্তপাতের সম্ভাবনা। (৮) একউিট লিউকেমিয়াঃ চিকিৎসা প্রাপ্তদের শতকরা ৭ ভাগের ক্ষেত্রে এমনটি হতে পারে।

সিস্টেমিক এবং অন্যান্য উপসর্গ : ক) জ্বর খ) রাতে ঘাম দেয়া গ) ওজন কমে যাওয়া ঘ) ক্রমাগত দুর্বলতা ঙ) বুকে ব্যথা অথবা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া চ) পেটে ব্যথা বা ফুলা ভাব ছ) খাওয়ায় অরুচি জ) চুলকানি।

এইচ.আই.ভি পজেটিভ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নন হজকিন লিম্ফোমা ছাড়াও এনজিওসারকোমা, মিলানোমা এবং কম ক্ষেত্রে স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা বা ক্যান্সার হতে পারে।
চিকিৎসা : নন হজকিন লিম্ফোমার কারণে চিকিৎসায় কেমোথেরাপি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে কেমোথেরাপির পাশাপাশি কম্বিনেশন থেরাপি হিসাবে রেডিও থেরাপিও ব্যবহার করা হয় যা নির্ধারণ করবেন একজন অনকোলজিস্ট বা ক্যান্সার রোগ বিশেষজ্ঞ। খুব কম ক্ষেত্রে যদি প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার খুব ছোট হয় এবং বায়োপসি করার সময় অপসারণ করা যায় তাহলে আর কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। এ ছাড়া স্টেম সেল থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

অতএব, নন হজকিন লিম্ফোমা রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে এবং মুখের অভ্যন্তরে আলসার বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে দ্রুত সমাধান করতে হবে যাতে রোগীর খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের সময় কোনো সমস্যা না হয়। এইচ.আই.ভি পজেটিভ ব্যক্তিদের প্রতি কোনো অবহেলা না করে তাদের সহযোগিতা প্রদান করতে হবে যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। একটু ভালোবাসাই পারে পুরো জীবনটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে।

লেখক : মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ
[email protected]

লিম্ফোসাইট কোষের ক্যান্সার

 ডা. মো. ফারুক হোসেন 
০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:১৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

লিম্ফোসাইট কোষের ক্যান্সার বলতে নন হজকিন লিম্ফোমাকে বুঝানো হয়। নন হজকিন লিম্ফোমা হল লিম্ফেটিক সিস্টেমের এক ধরনের ক্যান্সার যার কারণে মুখে আলসার দেখা দিতে পারে। নন হজকিন লিম্ফোমাকে নন হজকিন লিম্ফোমাও বলা হয়। নন হজকিন লিম্ফোমা শুরু হয় লিম্ফোসাইট নামক সেল বা কোষ থেকে।

লিম্ফোসাইট কোষ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার কারণে নন হজকিন লিম্ফোমা হতে পারে। কিন্তু এটি আরম্ভ হয় যখন কারও শরীর অনেক বেশি অস্বাভাবিক লিম্ফোসাইট কোষ উৎপাদন শুরু করে। লিম্ফোসাইট  এক ধরনের শ্বেত রক্ত কনিকা।

অস্বাভাবিক লিম্ফোসাইট উৎপাদনের কারণে অতিরিক্ত লিম্ফোসাইট লিম্ফনোড বা লসিকা গ্রন্থিতে জমা হয় যার কারণে লিম্ফনোড বা লসিকা গ্রন্থি ফুলে যায়। নন হজকিন লিম্ফোমা লিম্ফনোডে হয়ে থাকে। কিন্তু এ ক্যান্সার লিম্ফেটিক সিস্টেমের অন্যান্য অংশেও বিস্তৃতি লাভ করতে পারে। এরই মধ্যে লসিকা নালি, টনসিল, এডেনয়েডস্, প্লীহা, থাইমাস এবং অস্থিমজ্জা অন্যতম।

এইচ.আই.ভি পজেটিভ ব্যক্তিদের নন হজকিন লিম্ফোমা হতে পারে। এইচ.আই.ভি ভাইরাস ছাড়াও এপস্টেন বার ভাইরাস সংক্রমণে নন হজকিন লিম্ফোমা হতে পারে। আবার ইমমিউনোসাপ্রেসিভ থেরাপির কারণেও নন হজকিন লিম্ফোমা হতে পারে। এ অবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল থাকে। লিম্ফোসাইট প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে। B লিম্ফোসাইট এবং T লিম্ফোসাইট। উভয় ধরনের লিম্ফোসাইট থেকে লিম্ফোমা সেল হতে পারে। কিন্তু B লিম্ফোমা অনেক বেশি হয়ে থাকে। 

উপসর্গ : নন হজকিন লিম্ফোমার ক্ষেত্রে ব্যথাযুক্ত অবস্থায় সারভাইকাল লিম্ফনোডগুলো বড় হয়ে যায়। প্রাথমিক অবস্থায় রোগীরা এ বর্ণনা বা অভিযোগ করে থাকেন। (১) মুখের অভ্যন্তরে আলসার বা ঘাঁ দেখা দেয় এবং মুখ ফুলে যেতে পারে। (২) চোয়াল খোলার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। (৩)মুখের সংক্রমণ বিশেষ করে ভাইরাস এবং ফাঙ্গাসের কারণে হতে পারে। (৪) সাইটোটক্সিক বা কোষ বিনাশকারী ওষুধের কারণে মিউকোসাইটিস বা মুখের আলসার। (৫) এনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা। (৬)

কর্টিকোস্টেরয়েড থেরাপির কারণে মুখের সমস্যা। (৭) মুখের অভ্যন্তরে সামান্য আঘাতে রক্তপাতের সম্ভাবনা। (৮) একউিট লিউকেমিয়াঃ চিকিৎসা প্রাপ্তদের শতকরা ৭ ভাগের ক্ষেত্রে এমনটি হতে পারে। 

সিস্টেমিক এবং অন্যান্য উপসর্গ : ক) জ্বর খ) রাতে ঘাম দেয়া গ) ওজন কমে যাওয়া ঘ) ক্রমাগত দুর্বলতা ঙ) বুকে ব্যথা অথবা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া চ) পেটে ব্যথা বা ফুলা ভাব ছ) খাওয়ায় অরুচি জ) চুলকানি। 

এইচ.আই.ভি পজেটিভ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নন হজকিন লিম্ফোমা ছাড়াও এনজিওসারকোমা, মিলানোমা এবং কম ক্ষেত্রে স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা বা ক্যান্সার হতে পারে। 
চিকিৎসা : নন হজকিন লিম্ফোমার কারণে চিকিৎসায় কেমোথেরাপি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে কেমোথেরাপির পাশাপাশি কম্বিনেশন থেরাপি হিসাবে রেডিও থেরাপিও ব্যবহার করা হয় যা নির্ধারণ করবেন একজন অনকোলজিস্ট বা ক্যান্সার রোগ বিশেষজ্ঞ। খুব কম ক্ষেত্রে যদি প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার খুব ছোট হয় এবং বায়োপসি করার সময় অপসারণ করা যায় তাহলে আর কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। এ ছাড়া স্টেম সেল থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। 

অতএব, নন হজকিন লিম্ফোমা রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে এবং মুখের অভ্যন্তরে আলসার বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে দ্রুত সমাধান করতে হবে যাতে রোগীর খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের সময় কোনো সমস্যা না হয়। এইচ.আই.ভি পজেটিভ ব্যক্তিদের প্রতি কোনো অবহেলা না করে তাদের সহযোগিতা প্রদান করতে হবে যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। একটু ভালোবাসাই পারে পুরো জীবনটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে। 

লেখক : মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ
[email protected]

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন