ক্যান্সারের মেটাসটেসিস ও শ্রেণিবিন্যাস
jugantor
ক্যান্সারের মেটাসটেসিস ও শ্রেণিবিন্যাস

  ডা. মো. ফারুক হোসেন  

০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:২১:৩৪  |  অনলাইন সংস্করণ

ক্যান্সার শরীরের যে স্থানেই হোক না কেন তা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্তার লাভ করে এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। ক্যান্সার কোষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়াকে মেটাসটেসিস বলা হয়। বিনাইন টিউমারের ক্ষেত্রে মেটাসটেসিস হয় না, অর্থাৎ টিউমার যে স্থানে সৃষ্টি হয় সেখানেই বড় হতে থাকে। রক্ত পরীক্ষা বা বায়োপসির মাধ্যমে ক্যান্সার নির্ণয়ের পর একজন রোগীর ক্যান্সারের সার্বিক অবস্থা এবং এটি ছড়িয়ে পড়বে কিনা তা দেখার জন্য সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করা হয়।

ক্যান্সারকে বিভিন্নভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। আবার ক্যান্সার কোনো পর্যায়ে বা স্টেজে রয়েছে তাও নির্ণয় করা হয়। ক্যান্সারের শ্রেণিবিন্যাসগুলোর অন্যতম হলো TNM শ্রেণিবিন্যাস। TNM বলতে বুঝায় টিউমার, লিম্ফনোড এবং মেটাসটেসিস।

TNM শ্রেণিবিন্যাসে টিউমারের অবস্থান, আকৃতি, ক্যান্সার নিকটবর্তী কোনো লিম্ফনোডে বিস্তৃতি লাভ করেছে কিনা, তা দেখা হয়। আর মেটাসটেসিস বলতে ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়াকে বুঝায়।

মেটাসটেসিস কি পরিমাণ হয়েছে এবং কোথায় কোথায় হয়েছে তার ওপর চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে। ক্যান্সারের শ্রেণিবিন্যাস এবং ক্যান্সার কোনো পর্যায়ে রয়েছে তা নিরূপণ করে নির্ধারণ করা হয় চিকিৎসায় কোনো রোগীর ক্ষেত্রে কি পরিমাণ বা মাত্রায় কেমোথেরাপি বা রেডিও থেরাপি প্রদান করা হবে।

শুধু তাই নয় রেডিও থেরাপি বা কেমোথেরাপি আগে প্রদান করে পরে অপারেশন করা হয়। আবার কখনো কখনো আগে ক্যান্সারের অপারেশন করে পরে কেমোথেরাপি বা রেডিও থেরাপি প্রদান করা হয়। ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি বা রেডিও থেরাপি প্রদানের পর রোগীর মাথার চুল, শরীরের লোম এবং চোখের ভ্রু পড়ে যেতে পারে। কারণ কেমোথেরাপি বা রেডিও থেরাপি প্রদানের সময় ক্যান্সার কোষ মারা যাওয়ার পাশাপাশি কিছু সুস্থ কোষও মারা যায়।

তাই ক্যান্সারের চিকিৎসা রোগ নির্ণয়ের পর যত দ্রুত সম্ভব শুরু করা উচিত। অন্যথায় বিলম্ব হলে ক্যান্সার কোষের মেটাসটেসিস বা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক সময় মেটাসটেসিস না হয়ে মাইক্রো মেটাসটেসিস হয়ে থাকে। সেসব ক্ষেত্রেও প্রয়োজন মতো রেডিও থেরাপি বা কেমোথেরাপি প্রদান করতে হয়। মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি হিসাবে সাইটোটক্সিক ওষুধ প্রদানের পর রোগী দিনে বহুবার বমি করতে পারে। আবার বমি বমি ভাবও হতে পারে। আর মুখের কোনো আলসারকে সন্দেহজনক মনে হলে দ্রুত আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন মুখের ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে শতভাগ রোগ নিরাময় সম্ভব।

লেখক : মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ
[email protected]

ক্যান্সারের মেটাসটেসিস ও শ্রেণিবিন্যাস

 ডা. মো. ফারুক হোসেন 
০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:২১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ক্যান্সার শরীরের যে স্থানেই হোক না কেন তা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্তার লাভ করে এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। ক্যান্সার কোষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়াকে মেটাসটেসিস বলা হয়। বিনাইন টিউমারের ক্ষেত্রে মেটাসটেসিস হয় না, অর্থাৎ টিউমার যে স্থানে সৃষ্টি হয় সেখানেই বড় হতে থাকে। রক্ত পরীক্ষা বা বায়োপসির মাধ্যমে ক্যান্সার নির্ণয়ের পর একজন রোগীর ক্যান্সারের সার্বিক অবস্থা এবং এটি ছড়িয়ে পড়বে কিনা তা দেখার জন্য সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করা হয়। 

ক্যান্সারকে বিভিন্নভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। আবার ক্যান্সার কোনো পর্যায়ে বা স্টেজে রয়েছে তাও নির্ণয় করা হয়। ক্যান্সারের শ্রেণিবিন্যাসগুলোর অন্যতম হলো TNM শ্রেণিবিন্যাস। TNM বলতে বুঝায় টিউমার, লিম্ফনোড এবং মেটাসটেসিস। 

TNM শ্রেণিবিন্যাসে টিউমারের অবস্থান, আকৃতি, ক্যান্সার নিকটবর্তী কোনো লিম্ফনোডে বিস্তৃতি লাভ করেছে কিনা, তা দেখা হয়। আর মেটাসটেসিস বলতে ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়াকে বুঝায়। 

মেটাসটেসিস কি পরিমাণ হয়েছে এবং কোথায় কোথায় হয়েছে তার ওপর চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে। ক্যান্সারের শ্রেণিবিন্যাস এবং ক্যান্সার কোনো পর্যায়ে রয়েছে তা নিরূপণ করে নির্ধারণ করা হয় চিকিৎসায় কোনো রোগীর ক্ষেত্রে কি পরিমাণ বা মাত্রায় কেমোথেরাপি বা রেডিও থেরাপি প্রদান করা হবে। 

শুধু তাই নয় রেডিও থেরাপি বা কেমোথেরাপি আগে প্রদান করে পরে অপারেশন করা হয়। আবার কখনো কখনো আগে ক্যান্সারের অপারেশন করে পরে কেমোথেরাপি বা রেডিও থেরাপি প্রদান করা হয়। ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি বা রেডিও থেরাপি প্রদানের পর রোগীর মাথার চুল, শরীরের লোম এবং চোখের ভ্রু পড়ে যেতে পারে। কারণ কেমোথেরাপি বা রেডিও থেরাপি প্রদানের সময় ক্যান্সার কোষ মারা যাওয়ার পাশাপাশি কিছু সুস্থ কোষও মারা যায়। 

তাই ক্যান্সারের চিকিৎসা রোগ নির্ণয়ের পর যত দ্রুত সম্ভব শুরু করা উচিত। অন্যথায় বিলম্ব হলে ক্যান্সার কোষের মেটাসটেসিস বা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক সময় মেটাসটেসিস না হয়ে মাইক্রো মেটাসটেসিস হয়ে থাকে। সেসব ক্ষেত্রেও প্রয়োজন মতো রেডিও থেরাপি বা কেমোথেরাপি প্রদান করতে হয়। মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি হিসাবে সাইটোটক্সিক ওষুধ প্রদানের পর রোগী দিনে বহুবার বমি করতে পারে। আবার বমি বমি ভাবও হতে পারে। আর মুখের কোনো আলসারকে সন্দেহজনক মনে হলে দ্রুত আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন মুখের ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে শতভাগ রোগ নিরাময় সম্ভব। 

লেখক : মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ
[email protected]

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন