স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সামাজিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে
jugantor
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সামাজিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ জানুয়ারি ২০২২, ২১:২০:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

ডিজিটাল হসপিটাল (ডিজিটাল হেলথকেয়ার সলিউশানস) দেশের চিকিৎসা খাতের ডিজিটালায়নে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির হেড অফ মেডিকেল সার্ভিসেস ডা. খালেদ হাসান।

সম্প্রতি দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন, সামাজিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে...

প্রশ্ন: সামাজিক ব্যবসায়িক মডেল সম্পর্কে কিছু বলুন। সামগ্রিকভাবে আমাদের সমাজে সামাজিক ব্যবসা কেমন প্রভাব ফেলছে?

উত্তর: সামাজিক ব্যবসা মূলত ব্যবসা করার একটি অসাধারণ ধারণা। এ ধারণাটি আমাদের দেশের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রথম প্রচার করেন এবং জনপ্রিয় করে তোলেন। সামাজিক ব্যবসার সাতটি মূলনীতি রয়েছে। এ মূলনীতিগুলো বুঝলেই সামাজিক ব্যবসা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যাবে।

প্রথমত, সামাজিক ব্যবসার উদ্দেশ্য শুধু মুনাফা লাভ করা নয় বরং মানুষের কল্যাণে সমাজের যে কোন সমস্যাকে সমাধান করাই এ ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য। এ সমস্যাগুলো হতে পারে স্বাস্থ্যখাত, শিক্ষাখাত সমস্যা কিংবা দারিদ্র্য দূরীকরণ সংশ্লিষ্ট সমস্যা।

দ্বিতীয়ত, এ ব্যবসার অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব থাকতে হবে। অর্থাৎ এ ব্যবসা করার জন্য প্রয়োজনীয় খরচ যেন ব্যবসা থেকেই উঠে আসে।

তৃতীয়ত, সামাজিক ব্যবসায় বিনিয়োগকারীদের তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাবেন, কিন্তু এ ব্যবসায় বিনিয়োগের উপর কোন লভ্যাংশ প্রদান করা হয় না। অন্যদিকে, প্রথাগত ব্যবসায় বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের উপর লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন। এটিই হচ্ছে, সামাজিক ব্যবসা আর প্রথাগত ব্যবসার মূল পার্থক্য।

চতুর্থত, বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত দেবার পর সামাজিক ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত মুনাফা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ব্যয় করা হয়।

পঞ্চম, সামাজিক ব্যবসা পরিবেশবান্ধব এবং লিঙ্গ সংবেদনশীল, অর্থাৎ, এ ব্যবসায় পরিবেশের ক্ষতি না হওয়া এবং নারী ও পুরুষের সমতা নিশ্চিত করা হয়।

ষষ্ঠ, কর্মীদের বাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতনভাতাদি ও উন্নত কর্মপরিবেশ পাবেন ।

সপ্তম, সামাজিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যারা কাজ করবেন তারা আনন্দের সাথে কাজ করবে।

এগুলোই মূলত সামাজিক ব্যবসার মূলনীতি। বাংলাদেশে সামজিক ব্যবসা ইতোমধ্যে বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ইউরোপ, আমেরিকাতেও সামাজিক ব্যবসা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে।

প্রশ্ন: দেশের চিকিৎসা খাতে সামাজিক ব্যবসা কী পরিবর্তন নিয়ে আসছে এবং সামনে কী ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করেন?

উত্তর: স্বাস্থ্যখাত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। এ খাতের উন্নয়নে সামাজিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। একজন সাধারণ মানুষ যখন চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে যান, তখন তার চিকিৎসাবাবদ অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়।

একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করা যাক, ১০০ টাকা ব্যয় হবে এমন কোনো চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে হলে আমাদের দেশের মানুষের পকেট থেকে ৬৭ টাকা ব্যয় হয়, বাকী ৩৩ টাকা সরকারের কোষাগার থেকে দেয়া হয়।

এ পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, সাধারণ মানুষের কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে। সামাজিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণকে সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকে। এবং আগামী দিনগুলোতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর বিভিন্ন ধরনের বাধা দূর করে জনগণকে কম খরচে সেবা প্রদান করবে সামাজিক ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলো।

প্রশ্ন: এ ধরনের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিজিটাল হেলথকেয়ার সলিউশানস দেশের চিকিৎসা খাতের ডিজিটালায়নে কেমন ভূমিকা পালন করছে?

উত্তর: আমরা মূলত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছি। অর্থাৎ, মানুষ এখন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে খুব সহজেই আমাদের সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারবে।

একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি আলোচনা করা যাক, আমাদের দেশে মোবাইল ফোনের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। গ্রামের একজন মানুষ মোবাইলে আমাদের হটলাইন নম্বর ব্যবহার করে খুব সহজেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। তিনি যদি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণের জন্য উপেজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা ঢাকায় আসতে চান তাহলে কিন্তু তার ঐদিনের কাজ ফেলে সেখানে যেতে হবে। এক্ষেত্রে, তার সময় ও অর্থ ব্যয় হবে।

এসব কথা বিবেচনা করেই আমরা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছি। যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ডাক্তারদের মাধ্যমে তারা সুলভ মূল্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে আমরা অডিও, ভিডিও ও চ্যাটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণের বিষয়টিকেও উৎসাহিত করে থাকি।

সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে আমরা মেডিএক্সপ্রেস নামে একটি সেবা চালু করেছি, যার মাধ্যমে আমরা জনগণের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছি মাত্র ৯০ মিনিটের মধ্যেই। এছাড়াও, আমরা পাঁচ লাখ পোশাক শ্রমিকদেরকেও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করছি। আমাদের সাফল্যের জায়গাটা হচ্ছে, বাংলাদেশের উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণ প্রান্ত সব মানুষ, সবাই আমাদের সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারছে।

প্রশ্ন: টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে জনগণের সুস্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল হেলথকেয়ার সলিউশানস দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কী কী সেবা প্রদান করছে?

উত্তর: টেকসই উন্নয়নে জনগণের সুস্বাস্থ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার তিন নম্বর লক্ষ্যে সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার এর কথা বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরাও কাজ করছি। আর তাই, আমরা সুলভ মূল্যে ও সবসময় স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছি এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণের প্রয়োজনীয়তার নিরিখে তাদেরকে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছি। আমরা টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে ২৪/৭ ডাক্তারদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ ও স্পেশালাইজড কনসাল্টেশন সুবিধা দিচ্ছি, মানুষকে আমরা হোম স্যাম্পল কালেকশন সুবিধাও প্রদান করছি। ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য আমাদের কাউন্সেলিং সুবিধাও রয়েছে।

প্রশ্ন: গত ৬-১০ নভেম্বর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্লোবাল সোশ্যাল বিজনেস সামিট ২০২১। এই সামিটে ডিজিটাল হেলথকেয়ার সলিউশানসের মূল বক্তব্য কী ছিল?

উত্তর: সামাজিক ব্যবসা ধারণাটি পৃথিবীর অন্যান্য দেশে জনপ্রিয় করে তুলতে প্রতিবছর গ্লোবাল সোশ্যাল বিজনেস সামিট অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল হেলথ কেয়ার সামিটে আমরাও অংশগ্রহণ করেছি এবং বাংলাদেশে আমাদের পরিচালিত ডিজিটাল হেলথকেয়ার সলিউশানসের কাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছি।

বিশেষ করে, কম খরচের মাধ্যমে আমরা কীভাবে স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছি এবং আমাদের মুনাফার বিষয়টি পরিচালনা করছি; একইসঙ্গে আমাদের ব্যবসারও সম্প্রসারণ করতে পারছি। মূলত, অন্য দেশের প্রতিনিধিদের সামনে আমরা কীভাবে আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছি তা তুলে ধরাই আমাদের মূল বক্তব্য ছিল।

ডা. খালেদ হাসান
হেড অফ মেডিকেল সার্ভিসেস, ডিজিটাল হসপিটাল (ডিজিটাল হেলথকেয়ার সলিউশানস)

স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সামাজিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:২০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ডিজিটাল হসপিটাল (ডিজিটাল হেলথকেয়ার সলিউশানস) দেশের চিকিৎসা খাতের ডিজিটালায়নে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির হেড অফ মেডিকেল সার্ভিসেস ডা. খালেদ হাসান। 

সম্প্রতি দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন, সামাজিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে...

প্রশ্ন: সামাজিক ব্যবসায়িক মডেল সম্পর্কে কিছু বলুন। সামগ্রিকভাবে আমাদের সমাজে সামাজিক ব্যবসা কেমন প্রভাব ফেলছে?

উত্তর: সামাজিক ব্যবসা মূলত ব্যবসা করার একটি অসাধারণ ধারণা। এ ধারণাটি আমাদের দেশের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রথম প্রচার করেন এবং জনপ্রিয় করে তোলেন। সামাজিক ব্যবসার সাতটি মূলনীতি রয়েছে। এ মূলনীতিগুলো বুঝলেই সামাজিক ব্যবসা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যাবে। 

প্রথমত, সামাজিক ব্যবসার উদ্দেশ্য শুধু মুনাফা লাভ করা নয় বরং মানুষের কল্যাণে সমাজের যে কোন সমস্যাকে সমাধান করাই এ ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য। এ সমস্যাগুলো হতে পারে স্বাস্থ্যখাত, শিক্ষাখাত সমস্যা কিংবা দারিদ্র্য দূরীকরণ সংশ্লিষ্ট সমস্যা। 

দ্বিতীয়ত, এ ব্যবসার অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব থাকতে হবে। অর্থাৎ এ ব্যবসা করার জন্য প্রয়োজনীয় খরচ যেন ব্যবসা থেকেই উঠে আসে। 

তৃতীয়ত, সামাজিক ব্যবসায় বিনিয়োগকারীদের তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাবেন, কিন্তু এ ব্যবসায় বিনিয়োগের উপর কোন লভ্যাংশ প্রদান করা হয় না। অন্যদিকে, প্রথাগত ব্যবসায় বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের উপর লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন। এটিই হচ্ছে, সামাজিক ব্যবসা আর প্রথাগত ব্যবসার মূল পার্থক্য। 

চতুর্থত, বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত দেবার পর সামাজিক ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত মুনাফা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ব্যয় করা হয়। 

পঞ্চম, সামাজিক ব্যবসা পরিবেশবান্ধব এবং লিঙ্গ সংবেদনশীল, অর্থাৎ, এ ব্যবসায় পরিবেশের ক্ষতি না হওয়া এবং নারী ও পুরুষের সমতা নিশ্চিত করা হয়। 

ষষ্ঠ, কর্মীদের বাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতনভাতাদি ও উন্নত কর্মপরিবেশ পাবেন । 

সপ্তম, সামাজিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যারা কাজ করবেন তারা আনন্দের সাথে কাজ করবে। 

এগুলোই মূলত সামাজিক ব্যবসার মূলনীতি। বাংলাদেশে সামজিক ব্যবসা ইতোমধ্যে বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ইউরোপ, আমেরিকাতেও সামাজিক ব্যবসা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। 

প্রশ্ন: দেশের চিকিৎসা খাতে সামাজিক ব্যবসা কী পরিবর্তন নিয়ে আসছে এবং সামনে কী ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করেন? 

উত্তর: স্বাস্থ্যখাত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। এ খাতের উন্নয়নে সামাজিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। একজন সাধারণ মানুষ যখন চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে যান, তখন তার চিকিৎসাবাবদ অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়। 

একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করা যাক, ১০০ টাকা ব্যয় হবে এমন কোনো চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে হলে আমাদের দেশের মানুষের পকেট থেকে ৬৭ টাকা ব্যয় হয়, বাকী ৩৩ টাকা সরকারের কোষাগার থেকে দেয়া হয়। 

এ পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, সাধারণ মানুষের কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে। সামাজিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণকে সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকে। এবং আগামী দিনগুলোতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর বিভিন্ন ধরনের বাধা দূর করে জনগণকে কম খরচে সেবা প্রদান করবে সামাজিক ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলো। 

প্রশ্ন: এ ধরনের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিজিটাল হেলথকেয়ার সলিউশানস দেশের চিকিৎসা খাতের ডিজিটালায়নে কেমন ভূমিকা পালন করছে? 

উত্তর: আমরা মূলত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছি। অর্থাৎ, মানুষ এখন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে খুব সহজেই আমাদের সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারবে। 

একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি আলোচনা করা যাক, আমাদের দেশে মোবাইল ফোনের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। গ্রামের একজন মানুষ মোবাইলে আমাদের হটলাইন নম্বর ব্যবহার করে খুব সহজেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। তিনি যদি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণের জন্য উপেজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা ঢাকায় আসতে চান তাহলে কিন্তু তার ঐদিনের কাজ ফেলে সেখানে যেতে হবে। এক্ষেত্রে, তার সময় ও অর্থ ব্যয় হবে। 

এসব কথা বিবেচনা করেই আমরা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছি। যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ডাক্তারদের মাধ্যমে তারা সুলভ মূল্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে আমরা অডিও, ভিডিও ও চ্যাটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণের বিষয়টিকেও উৎসাহিত করে থাকি। 

সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে আমরা মেডিএক্সপ্রেস নামে একটি সেবা চালু করেছি, যার মাধ্যমে আমরা জনগণের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছি মাত্র ৯০ মিনিটের মধ্যেই। এছাড়াও, আমরা পাঁচ লাখ পোশাক শ্রমিকদেরকেও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করছি। আমাদের সাফল্যের জায়গাটা হচ্ছে, বাংলাদেশের উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণ প্রান্ত সব মানুষ, সবাই আমাদের সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারছে। 

প্রশ্ন: টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে জনগণের সুস্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল হেলথকেয়ার সলিউশানস দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কী কী সেবা প্রদান করছে?

উত্তর: টেকসই উন্নয়নে জনগণের সুস্বাস্থ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার তিন নম্বর লক্ষ্যে সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার এর কথা বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরাও কাজ করছি। আর তাই, আমরা সুলভ মূল্যে ও সবসময় স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছি এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণের প্রয়োজনীয়তার নিরিখে তাদেরকে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছি। আমরা টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে ২৪/৭ ডাক্তারদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ ও স্পেশালাইজড কনসাল্টেশন সুবিধা দিচ্ছি, মানুষকে আমরা হোম স্যাম্পল কালেকশন সুবিধাও প্রদান করছি। ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য আমাদের কাউন্সেলিং সুবিধাও রয়েছে। 

প্রশ্ন: গত ৬-১০ নভেম্বর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্লোবাল সোশ্যাল বিজনেস সামিট ২০২১। এই সামিটে ডিজিটাল হেলথকেয়ার সলিউশানসের মূল বক্তব্য কী ছিল?

উত্তর: সামাজিক ব্যবসা ধারণাটি পৃথিবীর অন্যান্য দেশে জনপ্রিয় করে তুলতে প্রতিবছর গ্লোবাল সোশ্যাল বিজনেস সামিট অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল হেলথ কেয়ার সামিটে আমরাও অংশগ্রহণ করেছি এবং বাংলাদেশে আমাদের পরিচালিত ডিজিটাল হেলথকেয়ার সলিউশানসের কাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছি। 

বিশেষ করে, কম খরচের মাধ্যমে আমরা কীভাবে স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছি এবং আমাদের মুনাফার বিষয়টি পরিচালনা করছি; একইসঙ্গে আমাদের ব্যবসারও সম্প্রসারণ করতে পারছি। মূলত, অন্য দেশের প্রতিনিধিদের সামনে আমরা কীভাবে আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছি তা তুলে ধরাই আমাদের মূল বক্তব্য ছিল।

ডা. খালেদ হাসান
হেড অফ মেডিকেল সার্ভিসেস, ডিজিটাল হসপিটাল (ডিজিটাল হেলথকেয়ার সলিউশানস)
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন