সাহরিতে ইয়াবা ট্যাবলেট!

  ডা. সাঈদ এনাম ০৯ জুন ২০১৮, ২৩:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

ইয়াবা
ইয়াবা। ফাইল ছবি

বশির ভাইকে (ছদ্মনাম) আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। জেলার উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা। কর্মস্থলে তার বেশ সুনাম রয়েছে। সবকিছুতে যেমন তৎপর তেমন সৎ ও দক্ষ। পরিবার থাকে ঢাকায়। পরিবার বলতে স্ত্রী আর দু'ছেলেমেয়ে। আসলে ছেলেমেয়ের পড়াশোনার জন্যই তাদের বাড়ি ভাড়া করে ঢাকায় রেখেছেন। তিনি জেলা সদরে থেকে সব খেয়াল করছেন। আমি সেভাবেই জানি। এক মিটিংয়ে তার সঙ্গে পরিচয়।

এক সকালে তিনি হঠাৎ ফোন করেন। কোনো কথা বলেননি। কেবল বলেছেন, 'খুব বিপদে আছি। দেখা করা জরুরি'।

সন্ধ্যায় চেম্বারে ঢুকেই বললেন, 'ভাই আমি একটু সময় নিয়ে কথা বলতে চাই। জানি না আপনি আমাকে কী ভাববেন। আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমি নিরুপায়। এখন আমার বাঁচা-মরা সমান। আজ আমি একজন ব্যর্থ মানুষ, ব্যর্থ বাবা, ব্যর্থ সব...'। তার চোখ ছলছল করতে লাগল।

কিছুটা চমকে উঠলাম, কী ব্যাপার, কী হলো! অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত নামিদামি সৎ নির্ভীক একজন মানুষের এ কেমন অশ্রুস্নাত অসহায় আত্মসমর্পণ। বললাম, 'ভাই কী ব্যাপার। কি হয়েছে..?'

'আমি শেষ। লজ্জায় আমি কাউকে মুখ দেখাতে পারছি না এখন। আমার সব পরিশ্রম, সব আশাভরসা সবই ধুলোয় মিশে গেছে। কেন আমার মরণ হলো না...', কান্নায় তার গলা ধরে এলো, তিনি হাত দুটো দিয়ে চোখমুখ গুঁজলেন।

কী বলব বুঝতে পারছি না। বললাম, 'কী হয়েছে বশির ভাই...?'

'ভাই, আমার দুই ছেলেমেয়ে ইয়াবা আসক্ত হয়ে পড়েছে..', আর কিছু বলতে পারলেন না। হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিলেন। পুরুষ মানুষরা সাধারণত কাঁদে না, কাঁদলে বুঝতে হবে ভয়ানক কোনো কিছুর আভাস।

'এ কীভাবে হলো? ইয়াবাতে ছেলেমেয়েরা হঠাৎ করে আসক্ত হয় না। কিছু কিছু লক্ষণ দেখলে আগে থেকেই টের পাওয়া যায়। আপনারা খেয়াল করেননি?'

'না, বুঝতে পারিনি। আমি তো ওদের সঙ্গে থাকি না, আমি তো এখানে থাকি...'।

আসলে তার জন্য না জানাটাই স্বাভাবিক। চাকরি করেন ঢাকার বাইরে। স্ত্রী ছেলেমেয়েদের রাখছেন ঢাকায়। তাদের পড়শোনা করাচ্ছেন অভিজাত এলাকার একটা নামিদিম ইংলিশ মিডিয়াম কলেজে। মা’ই তাদের দেখভাল করতেন। কিন্তু সহজ-সরল মা তাদের দিন দিন ইয়াবা আসক্ত হয়ে যাওয়ার বিষয়টা একেবারেই ধরতে পারেননি।

ভাইবোন একই কলেজে পড়াশোনা, সব সময় একসঙ্গেই থাকত। রাতে বন্ধুদের সঙ্গে গ্রুপ স্টাডি কথা বলে, কিংবা গানবাজনা কলেজের ফাংশনের কথা গিটার নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে যেত প্রথম প্রথম। মা ভাবতেন, ভাইবোন এক সঙ্গেই তো যাচ্ছে। কী আর হবে। তার এ বিশ্বাস বা বেখেয়াল’টাই কাল হয়েছে।

ভাইবোন দুজনে একসঙ্গেই ইয়াবাসেবী সহপাঠী ও ইয়াবা চোরাকারবারদের টার্গেটে পড়ে যায়। তাছাড়া সহপাঠী, বন্ধু যারা ইয়াবা খায় তারা পয়সার সংকুলান করতে না পেরে একপর্যায়ে নিত্যনতুন ধনীক বন্ধুদের কৌশলে ইয়াবা বা মাদক খাওয়াতে থাকে। এটার ওটার সঙ্গে মিশিয়ে খাইয়ে ফায় ফুর্তির কথা বলে তাকে আসক্ত করে তুলে।

প্রথম প্রথম নানান ছুতোয় ফ্রি খাওয়ায়। আসক্তি করে তুলে ইয়াবাসেবীদের সবাইকে নিয়ে একটা চেইন তৈরি করে। এ জন্য তারা টার্গেট করে বন্ধনহীন, অভিভাবকশুন্য বা ব্রেকআপ ফ্যামিলি এবং ক্ষমতাবান ধনিক পরিবারের সহজ-সরল সন্তানদের। ক্ষমতাবান টার্গেট করে এ জন্য যাতে ফেঁসে না যায়, পাশাপাশি মাদক কেনার পয়সাকড়ির অভাব যাতে না হয়।

যা হোক বশির সাহেব জানালেন, কিছু বন্ধুসহ দুদিন আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করেছে স্কুলেরই তত্ত্বাবধানে থাকা এক হোস্টেল থেকে চরম আপত্তিকর আর নেশাগ্রস্ত অবস্থায়। পরে অভিভাবক ডেকে কলেজ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, সবাইকেই।

তার কান্না থামাতে বললাম, বশির ভাই, 'ভেঙে পড়বেন না, ওরা কই, সঙ্গে এনেছেন..?'

'জি এনেছি। জোর করে ধরে বেঁধে এনেছি। আসতে চায় না। দু’তিন দিন থেকে আমার কাছে এনেছি। আটকে রেখেছি। কিন্তু দুজনেই এখন পাগলের মতো আচরণ করছে। আসবাবপত্র ভাঙচুর করছে। একবার ভেবেছিলাম দুটাকে মেরে নিজে আত্মহত্যা করি..., কিন্তু পারলাম না...'। তিনি আর কিছু বলতে পারলেন না। মাথা নিচু করে বসে রইলেন।

বললাম, 'ঠিক আছে। কাঁদবেন না। কান্নায় তো লাভ হবে না। ধৈর্য ধরুন। ওদের ভেতরে পাঠিয়ে দিন। আমি কথা বলে দেখি। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কয়েক দিন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। ইনশাআল্লাহ ঠিক হয়ে যাবে। বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা যে হয়নি এতেই শুকরিয়া। নেশাগ্রস্তরা নেশার টাকা না পেলে চুরি, ছিনতাই, নানান অনাচার, অসামাজিক কাজ করতে দ্বিধা করে না। এমন কি খুন-খারাবিতে জড়িয়ে যায়। ভাগ্য ভালো আপনার, এসব কিছু হয়নি। ওদের ভেতরে আনুন...'।

দুই.

দু’ভাইবোন আমার সামনা সামনি বসা। দুজনেই জিন্স আর টি-শার্ট। বেশ স্মার্ট। তবে খুব ক্লান্ত আর ক্ষুধার্ত।

'কী ব্যাপার আংকেল তোমরা কেমন আছো?'

'জি, আংকেল ফাইন, উই আর ওকে। মাম অ্যান্ড ডেড আর ফানিলি সিরিয়াস। দেয়ার ইজ নাথিং টু বি সো সিরিয়াস। উই ডোন্ট আন্ডারস্ট্যান্ড, হোয়াই দে ডুইং সো, দুজনে একসঙ্গে উত্তর দিল।'

'তাই..'?

'ইয়েস আংকেল। উই ডু নাথিং রং। জাস্ট টেইক সাম স্লিপিং পিল লাইক মিথামফেটামিন অ্যান্ড ইটস অকেশনালি। বাট মাম অ্যান্ড আর রিএকটিং ঠু-মাচ। দে আর সো স্কেয়ার্ড.., শিট। ডিসগাস্টিং...'।

পাশে বসা বশির ভাই ক্ষেপে গেলেন। 'দেখলেন ভাই... দেখলেন, দুটি কি বেয়াদব হয়েছে...'। আমরা নাকি ডিসগাস্টিং।

আমি বললাম, 'আপনি ধৈর্য ধরুন, একটু থামুন ওদের বলতে দিন। আমি শুনি। তাতেই কাজ হবে। আর ভালো হয় আপনি যদি একটু বাইরে বসেন'।

ছেলেমেয়েরা 'ইয়েস ইয়েস’ বলে বলল, ‘আংকেল প্লিজ টেল হিম টু গো আউট.., ডিসগাসটিং, ব্যাকডেটেড..'।

আমি ইশারা করলাম বশির ভাইকে বেরিয়ে যেতে।

'দ্যাখো আংকেল, আমি যা বোঝার বুঝে ফেলেছি। তোমরা যে রিয়েক্ট দেখিয়েছো তাতে মোটামুটি আমি ক্লিয়ার। সামিথিং রং, কারণ তোমাদের এ রিয়েক্ট নরমাল না।

তোমাদের বাবা আমার বন্ধু। তোমরা যদি ভালো হতে চাও তাহলে কয়েকটা বিষয় আমাকে খুলে বলো। হাইড করো না। আমি ১০০ ভাগ আশাবাদী তোমরা ভালো হয়ে যাবে। তোমরা যে পথে পা বাড়িয়েছ তার পরিণাম মৃত্যু।

তাছাড়া তোমাদের বয়স কম, বিষয়টা হয়তো না বুঝেই করে ফেলেছো। এখন আর লুকানোর কিছু নেই। সব কিছু খুলে বললে আমি সাহায্য করব তোমাদের এ পথ থেকে ফিরতে..'

ভাইবোন দুজনেই চুপ করে বসে রইল কিছুক্ষণ। একে একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করল দু-তিনবার। কিছুটা ইতস্তত, কিছু বলবে কি বলবে না।

তারপর শুরু করল দুজনেই। বলতে বলতে এক সময় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। তবুও সব বলল একে একে। কীভাবে জড়ালো, কীভাবে আড়াল করল সব কিছু। এসব যেমন চাঞ্চল্যকর তেমনি অমানবিক, হৃদয়বিদারক আবার কিছুটা রহস্যাবৃত।

তারা জানাল ভাইবোন একসঙ্গে থাকলেও নেশাদ্রব্য খাওয়ার সময় ভাইবোন আলাদা হয়ে যায়। কেবল বাসা থেকে বের হওয়া আর বাসায় ঢোকা একসঙ্গে। এটা স্রেফ ধোঁকা দেয়ার জন্য, যাতে কেউ সন্দেহ না করতে পারে। আর টাকা-পয়সাও যাতে মা বাবা দিতে কোনো কার্পণ্য না করে।

পত্রিকায় অনেক সময় দেখা যায় স্বামী-স্ত্রী মিলে ইয়াবার চোরাকারবার করে এবং খায়, এগুলোর কিছু সঠিক আবার কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা প্রতিবেশীকে ধোঁকা দিতে অভিনয়। বশির ভাইয়ের ছেলেমেয়ে ও তার বন্ধুরা নেশাদ্রব্য খাওয়ার জন্য প্রথম কোচিং সেন্টারের কথা বলে একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় অভিজাতপাড়ায়। দু-চারটা চেয়ার-টেবিল রাখে। পরে ওখানেই তারা গ্রুপ হয়ে নেশাদ্রব্য নিতে থাকে। মাঝেমধ্যে রাস্তার আশপাশে গড়ে ওঠা মিনি চায়নিজ রেস্তোরাঁয় ও বসে তারা এসব খেত। প্রায় সবাই উচ্চবিত্ত এবং ক্ষমতাধর ঘরের সন্তান। কিন্তু কারোর অভিভাবকই জানে না এসব।

'ক’মাস ধরে তোমরা এসব নাও,’ উত্তরে বলল, ‘অনেক দিন, বলা যায় কলেজে ঢোকার পরপরই, সেই যে শুরু, দিন দিন পরিমাণে বাড়ছে, সব সময় খাওয়া হতো।'

'রোজার মাসে.?', জিজ্ঞেস করলাম।

'তখনও খেতাম, তবে রোজা মাসে সাহরির সময় খাওয়া হতো।’

‘তা সাহরিতে কেন বাপু..?'

'রোজাতে আড্ডা, পার্টি কম হয়। যার যার বাড়িতেই খাই। সারা দিন ঘুমাই, এনার্জিও পাই, আর ক্ষুধার কষ্ট হয় না বলে ফাস্টিংয়েও প্রবলেম হয় না..।'

আমি হাসলাম, ইন্টারেস্টিং ব্যাপার। ভাইবোন একসঙ্গে নেশা করে আবার রোজাও রাখে। নেশার সঙ্গে ধর্মকর্ম যায় না। নেশা করা হারাম। সেটা মদ, গাঁজা ইয়াবা যাই হোক। ধর্মীয় অনুশাসন সম্পর্কে যে এবারেই আর মারাত্মক রকমের এডিকটেড, বুঝতে পারলাম।

ইদানীং বড় বড় শহরের অভিজাত পরিবারগুলোতে ভাইবোন, বন্ধু-বান্ধবী, মামা-ভাগনে সবাই মিলে মিশে একসঙ্গে নেশাদ্রব্য নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এটা স্বাভাবিক, নেশাদ্রব্য মানুষকে বিবেকহীন করে ফেলে। অনেকে আবার না বুঝে এনার্জেটিক মেডিসিন মনে করে নিচ্ছে। এদের মধ্যে কিছু আছে, যারা তাদের নিজেদের বিশাল প্যালেসে বসেই এসব করে পড়া, গ্রুপ স্টাডি বা গানবাজনার আড়ালে।

এদের কারও মা বাবা হয় ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস আদালত নিয়ে ব্যস্ত না হয় বিদেশে বা বাইরে থাকে। কখনো কখনো মা-বাবাকে জানালেও কিছু বলেন না, ভয় আর লজ্জায়। তাছাড়া নেশার ঘোরে অনেক সময় তারা ভায়োলেন্ট আচরণও করে। যা সমাজে কারও কাছে বলার মতো না। প্রায়শ পত্রিকায় দেখা যায় নেশার জন্য ছেলেমেয়ে মা-বাবাকে মেরে ফেলছে, স্বামী স্ত্রীকে মেরে ফেলছে আরও কত মর্মান্তিক কাহিনী।

ভাইবোন অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে সামনে বসে আছে, মাঝেমধ্যে চোখ বেয়ে পানি ঝরছে। জিজ্ঞেস করলাম, 'তোমরা কি ভালো হতে চাও?'

দুজনই চনমনে হয়ে বলল, 'জ্বী, তবে আংকেল খুব কষ্ট হচ্ছে দুদিন থেকে। প্লিজ আমাদের কষ্টগুলো আগে দূর করে দিন। আমরা আর কখনো এসব খাব না। প্লিজ এবারের জন্যে কেবল কষ্টটা দূর করে দেন...।'

তাদের এই কষ্টটা স্বাভাবিক। এটাকে বলে উইথড্রল ইফেক্ট। তারা ক’দিন ইয়াবা পাচ্ছো না, তাই এমন রিঅ্যাকশন হচ্ছে তাদের শরীরে। এ জন্য নেশাখোর অনেক সময় এই উইথড্রল এফিক্টের যন্ত্রণা থেকে পরিত্রান পেতে নেশাদ্রব্য নিতে বাধ্য হয় আর যদি না পায়, তবে তা পেতে তারা অনেক ধ্বংসাত্মক কাজ করে। এমনকি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই দেহব্যবসা সব।

"যদি তোমরা আমার সঙ্গে প্রমিজ কর আর কখনো ওই পথে যাবে না, তবে আমি শারীরিক, মানসিক কষ্ট দূর করার চেস্টা করব। সে রকম ড্রাগ আছে, তবে আগে প্রমিজ করতে হবে, আর এসবে যাবে না তোমরা।"

দু'জনেই বলল, "আংকেল প্রমিজ করছি আমরা আর ওসবে যাব না। আপনি আমাদের ওষুধ না, বরং আজকে শেষবারের জন্য কয়েক পিস ইয়াবা খেতে দেন, আমাদের কষ্ট টা দূর হোক। তারপর আপনি যা চাইবেন আমরা তাই করব, যেভাবে বলবেন সেভাবে চলব, মরে যাচ্ছি আংকেল আমরা। প্লিজ বাঁচান এবারের জন্য। আজকের পর থেকে আর আমরা নেশা করব না!"

ছেলেমেয়েগুলোর কান্নাকাটি তে খুব মায়া হলো। ইদানীং বেশ ভালো ফ্যামেলির ছেলেমেয়েরা প্রোপার ফ্যামেলি গাইড না পাওয়ায় সমাজের বড় বড় ইয়াবা চোরাকারবারি ও মাদক শিল্পপতিদের টার্গেটে পড়েছে।

বললাম, "কষ্ট কাটাতে তোমাদের এখন আর ওসবের দরকার হবে না। কষ্ট আর নেশার অভ্যাস কাটার ভালো সাইকিয়াট্রিক মেডিসিন আছে, ওতেই ইনশাআল্লাহ তোমরা ভালো হয়ে যাবে, তবে কথা শুনতে হবে। নিয়মিত ওষুধ খাবে, আর ওপথে যাবে না।"

দুজনেই আশ্বস্ত করল আমাকে। বশির ভাই কে ধন্যবাদ দিলাম যে, দেরিতে হলেও তিনি তাদের চিকিৎসার জন্যে নিয়ে এসেছেন। ভবিষ্যৎ নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে তাদের বাঁচিয়েছেন।

প্রায় একই ওষুধ দুজন কে প্রেসক্রাইব করে দিয়ে কয়েক দিন যাতে ক্লিনিকে ভর্তি থাকে সে ব্যবস্থা করা হলো।

তিন.

খারাপ সহপাঠীদের সঙ্গে পড়ে প্রথমে বড় ভাইটি ইয়াবাসক্ত হয়ে পড়ে। পরে ছোটবোনকেও জড়ায়। ছোটবোনকে জড়ানোর কথা সহপাঠীরাই বলে। তাতে মা-বাবা নাকি সন্দেহ করবে না। হয়েছেও তাই। ওরা একসঙ্গে অনেকজন ইয়াবা নেয়। আরও কয়েকজন আছে, তারাও 'ভাইবোন'।

ইয়াবা-মাদকটির মূল উপাদান মেথামফিটামিন। একসময় যা সর্দি ও নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া ও ওজন হ্রাস করতে ব্যবহৃত হতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ক্লান্তি দূর করতে, সজাগ থাকতে ও মেজাজ ফুরফুরে রাখতে সেনারা ব্যবহার করত মেথামফিটামিন। পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষ বিশেষত শিক্ষার্থী, গাড়িচালক ও খেলোয়াড়রা এর যত্রতত্র ব্যবহার শুরু করে।

পরে এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া উদঘাটিত হওয়ায় এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। তবে বিশ্বের কয়েকটি দেশে এর উৎপাদন চলতেই থাকে।

মেথামফিটামিনের সঙ্গে চা কফি সিগারেট মিশিয়ে ব্যবহৃত হতে থাকে মাদকদ্রব্য হিসেবে। বিশ্বে থাইল্যান্ডে এই মাদকটির উৎপাদন হয় সবচেয়ে বেশি। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশগুলোতে।

ইয়াবার অনেক ছদ্মনাম রয়েছে, যেমন ইন্ডিয়ায় একে বুলবুলি, চায়নাতে মাগো, এবং বাংলাদেশে পাগলা বড়ি, বিচি, জিনিশ, বাবা ট্যাবলেট নামে ডাকে ইয়াবাসেবী ও ব্যবসায়ীরা।

ঘটনাপ্রবাহ : ডা. সাঈদ এনামের লেখা

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter