ছাতিরচরে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৮, ২১:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আলভী আরাফাত

ফার্স্ট প্রফ শেষ, জীবনের প্রথম প্রফ শেষ হওয়ায় মনে আনন্দের খেলা। সামনে আবার ৩য় বর্ষ শুরু, সেই কথা মনে হওয়ার সাথে সাথে মনে হল এখনই উপযুক্ত সময়। তপু বলল, চল কোথায় ঘুরে আসি। স্থান ঠিক করে দিল তামান্না, উইন, প্রিয়ন্তি। আমরা সবাই তাতে সায় দিলাম।

স্থানটি ছিল কিশোরগঞ্জ এর ঐতিহ্যবাহী হাওর অঞ্চল নিকলীর ছাতিরচর এলাকা।

আমরা সময় ঠিক করলাম বেলা ১১টায় রওনা হবো। কিন্তু আমাদের সহপাঠীদের অনেকের প্রস্তুতিতে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেল।  যাইহোক, নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট পর  আমরা আমাদের প্রাণপ্রিয় মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে রওনা হলাম।

যাত্রা শুরুর আধা ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে গেলাম কিশোরগঞ্জ শহরের একরামপুর এলাকায়। রেলস্টেশন সংলগ্ন এলকায় নিকলীর সিএনজি স্টেশন।

সেখান থেকে আমরা ৫০০টাকায় রিজার্ভ করলাম একটি পিক আপ। সবুজ-শ্যামল মাঠ-ঘাট পেরিয়ে  ঘন্টাখানেকের মধ্যে পৌছে গেলাম নিকলী বেড়ি বাঁধ এলাকায়।

যাত্রাপথে পিকআপে চলল আমাদের তুমুল আড্ডা।   প্রফের ভাইভা অভিজ্ঞতাই ছিল আড্ডার মূল বিষয়বস্তু। ভাইভা কেমন হইছে, কেউ কেউ তার কোন ভুল উত্তরের জন্য পরে এসে নিজে নিজের মাথার চুল ছিঁড়ছে সে কথা বলে কি যে হাসি!

আবার কে অনার্স পাচ্ছে সে আলাপ, কেউ আমাদের ট্যুরের প্ল্যান নিয়ে ব্যস্ত ছিল, এর মধ্যে কেউ কেউ ছিল ফোনে ব্যস্ত।

আমাদের দিনব্যাপী ভ্রমণে অনাবিল আনন্দ যুগিয়েছে কিশোরগঞ্জ-নিকলীর মহাসড়ক। বিশেষ করে নিকলী সদর সংলগ্ন এলাকায় মহাসড়কের পাশে বয়ে চলা নদীর ঝিকিমিকি পানি আমাদের হৃদয়কে হরণ করে নিল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে বিমোহিত হলাম।

আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। সূর্য অস্তাচলে যাওয়ার আগেই ভ্রমণ শেষ করতে হবে। ছুটে আসতে হবে প্রাণের ক্যাম্পাসে।  এসব বিষয় মাথায় ছিল।

নিকলী থেকে অটোরিকশা যোগে গেলাম নিকলী গুদারাঘাট। গ্রামীণ মেঠোপথ। চারিদিকে সুন্দরের সরোবন। নদীর টলোমলো পানি প্রাকৃতিক এ রূপ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।

এবার  নৌকা দিয়ে ঘুরার পালা। ৭০০ টাকা ভাড়ায় একটি ট্রলারে আমরা সবাই উঠে পড়লাম। চারিদিকে পানি আর পানি। অন্যরকম শিহরণ!

যাত্রার শুরুতেই একটি সেতু। সেখানে সবাই মিলে ছবি তুললাম।

নৌকা ভ্রমণের আগে প্রাচীণ বিদ্যাপীঠ নিকলী জে সি সরকারী পাইলট স্কুল পরিদর্শন ছিল আমাদের বাড়তি পাওনা।

নিকলী ভাটি এলাকার মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো জ্বালানোর মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে মোহরকোনা নিবাসী স্বর্গীয় বাবু গুরুদয়াল সাহা ও তার ভাই স্বর্গীয় বাবু মহিম চন্দ্র সাহা নিজ বাড়ী সংলগ্ন নিজ জায়গায় ১৯৩৮ সালে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁদের পিতার নামানুসারে বিদ্যালয়টির নামকরণ করেন। নিকলী গোরাচাঁদ হাইস্কুল, সংক্ষেপে নিকলী জি.সি হাই স্কুল।

উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে। এত সুন্দর সাজানো গোছানো উপজেলা পরিষদ বাংলাদেশে আর কতগুলো আছে জানতে ইচ্ছে হল।

চলে গেলাম নিকলী বেড়ি বাঁধের শেষ এর দিকে, সাথে শুকনো খাবার আর পানি। পুরোটা বেড়ি বাঁধ জুড়ে ছিল নদীর হিমেল হাওয়ায় আমাদের মন-প্রাণ জুড়িয়ে গেল। মনে হল, এমন মুক্ত বাতাসের খোঁজ কত দিন পাইনি!


বেড়িবাঁধ থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে চলে গেলাম মূল গন্তব্য ছাতিরছর এলাকায়। যেখানে পানিতে দীর্ঘ জায়গা জুড়ে ছিল সারি সারি গাছ।

সে দৃশ্যটা সবাইকে সিলেট রাতারগুলের কথাটা মনে করিয়ে দিল।  

নিকলীর ওই ‘রাতারগুলে’ আমরা সেখানে পানিতে সাঁতার কেটেছি অনেকক্ষণ। আসার পথে একটা চরে নিমে গোসল সেরে বেড়িবাঁধ এলাকায় এসে শুরু হয় আমাদের ভোজন পর্ব।

ভাটি এলাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার আমার পেট পুড়ে খেলাম। ছোট মাছ, বোয়াল মাছ, রুই মাছ ও ডাল ও ভাজির প্যাকেজ মূল্য ছিল মাত্র ৮০ টাকা।

এবার ফেরার পালা।  

আবারও ৫০০ টাকায় পিকআপ রিজার্ভ করে কিশোরগঞ্জ শহরে আসলাম। সেখান থেকে করিমগঞ্জ উপজেলার ছায়া ঘেরা মায়াময় এলাকা জাফরাবাদে অবস্থিত আমাদের প্রাণের ক্যাম্পাসে ফিরলাম।

লেখক: আলভী আরাফাত

শিক্ষার্থী, প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ, জাফরাবাদ,করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ