বুলেট কাহিনী

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:০২ | অনলাইন সংস্করণ

  ডা. সুমন সাজ্জাদ

ইমার্জেন্সি রুমে বসে কয়েকজন রোগী দেখছিলাম। মারামারি করে মাথা ফাটিয়ে আসা রোগী।  ডা. কায়সার ভাই ইনজুরি দেখে নোট করছিলেন। আমি ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছিলাম।

এর মধ্যে ডা. শর্মিও এসে বসলেন আউটডোর শেষ করে।  তিনজন মিলে গল্প করতে করতেই চলছিল কাজ।  হঠাৎ এক লোক দৌঁড়ে আসলেন। হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন,  স্যার, বুলেট খাইছে। এহানে চিকিস্যা অইবনি? - কার বুলেট লাগছে? রোগী কই?

- বেটি মানু। আইতাছে অহনই।

- নিয়ে আসেন।

মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছিলাম একটা গুলিবিদ্ধ রোগী দেখবো বলে। এই এলাকায় যে হারে ফিজিক্যাল এসল্ট হয় তাতে গুলিবিদ্ধ হওয়াটাও অসম্ভব নয়। দুইজন মহিলাকে নিয়ে লোকটি ঢুকলো ইমার্জেন্সি রুমে। একজন ২৫/৩০ বছর অন্যজন চল্লিশোর্ধ্ব হব। দুজনেই বেশ সুস্থ সবল। কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন বুঝার উপায় নেই।

তবুও যদি শরীরের ভেতরে কোথাও থাকতে পারে কিংবা কয়েকদিনের পুরনো বুলেটও নিয়ে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যথা নাও থাকতে পারে। ডাঃ শর্মি আপার দিকে তাকালাম। উনি ইশারায় বুঝে নিলেন ফিমেল কেস, সো উনাকেই আগাতে হবে।

- রোগী কে?

- হ্যায়। প্রথম মহিলাটিকে দেখিয়ে বললো চল্লিশোর্ধ্ব মহিলা।

- বুলেট কোথায় লেগেছে?

- বাইত, মুরাগাছ (গ্রামের নাম)

- আরে না।

বলছি. কোন জায়গায় লাগছে? - বারিতঅই, গরের বিত্রে। . .

- (বিরক্ত হয়ে) আপনার শরীরের কোন স্থানে গুলি খেয়েছেন? কোন জখম আছে?

- গলাত। একটা গুলি খাইছে। অর্দেক খাইয়্যাঅই বুমি খইরা দিছে। মরতো চাইছিলঅ। পাশের চল্লিশোর্ধ্ব মহিলাটি বলল।

এবার আমি তাকালাম। শর্মি আপাও তাকালেন এদিকে। কপাল কুচকে গেল উনার্।

পরবর্তী প্রশ্নটি দুজনেরই এক।

- কী! !!

বুলেট গিলে খেয়েছে মরার জন্য???

- জিঅ। একটাঅই খাইছে। খাইয়া আবার বুমি খইরা হালাই দিছে। বিষয়টা কেমন ঘোলাটে মনে হচ্ছিল। তবুও আশ্চর্যজনক হলেও অবিশ্বাস্য নয় এই রংগরসের দুনিয়ায়।

- যদি বেরই করে ফেলে তাহলে তো ভালই। এখন কোন সমস্যা না থাকলে বাড়ি চলে যান।

- ওয়াস দিতেন্না মেডাম?

- বের হয়ে গেলে ওয়াস দেবেন কেন? বুলেটটা কোথায়? নিয়ে এসেছেন? (কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন ডাঃ শর্মি আপু)

- না। হালাই দিছি।

- বুলেট পাইলেন কোথায়? বন্দুক আছে কারো?

- না। বাজার থেইক্যা কিনছি।

- বাজারে কি বুলেট পাওয়া যায় নাকি? আমি জিজ্ঞাসা করলাম।

- না স্যার্। এই বুলেট কিনছিল ইন্দুর মারার লাইগ্যা।  অহন এই বেডি খাইয়ালছে নিজে মরার লাইগ্যা । এইবার তিনজনই একসাথে হেসে উঠলাম। (রোগী বুলেট খেয়ে মরতে চেয়েছেন ঠিকই। তবে সেই ‘বুলেট’ মানে বন্দুকের Bullet নয়।  ইঁদুর মারার বিষের নাম। তাছাড়া সিলেটের লোকজন বড়ি/ট্যাবলেটকে বলে ‘গুলি’। )

ডা. কায়সার ভাই চিৎকার করে বললেন, - এই আকবর ভাই (ওয়ার্ডবয়), তাড়াতাড়ি রোগীকে স্টমাক ওয়াশ দেন।