Logo
Logo
×

শেষ পাতা

এফবিসিসিআই’র মতবিনিময় সভা

রোজায় স্থিতিশীল থাকবে নিত্যপণ্যের দাম

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রোজায় স্থিতিশীল থাকবে নিত্যপণ্যের দাম

এ বছর ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, খেজুর পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে রোজায় এসব পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ নেই। সাপ্লাই চেইনে বিভিন্ন ধাপে চাঁদাবাজি রোধ করতে পারলে এসব পণ্যের দাম গত বছরের চেয়েও কম থাকবে। এজন্য পুলিশ-প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই প্রশাসক আবদুর রহিম খান।

মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, ৮-১০ প্রতিষ্ঠানের হাতে সারা দেশের ভোক্তাদের ভাগ্য নির্ভর করে। কারণ ভোগ্যপণ্যের সাপ্লাই চেইন এরাই নিয়ন্ত্রণ করে। নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা বাড়লে ছোট দোকান ও পাইকারি বাজারে অভিযানের মিছিল চলে। কিন্তু কোটি কোটি টাকা লোপাট করা করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারেকাছেও কেউ যায় না। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এদের মনিটরিং করা উচিত সবার আগে। আসন্ন রোজায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার লক্ষণ নেই বলে জানান তিনি।

চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, সাপ্লাই চেইনে ব্যাঘাত না ঘটলে বাজারে চিনির দাম বাড়বে না। তবে আমদানি তথ্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা ঠিক হবে না। অনেক এলসি হয়েছে; কিন্তু পণ্য সাগরে জাহাজে ভাসছে বলে শুনেছি।

শ্যামবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে এই সরকার ব্যর্থ। যারা আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এসব করপোরেট সকালে একদাম, বিকালে আরেক দাম দেয়। আর মানুষের গালমন্দ শোনে ছোট ব্যবসায়ীরা।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ-প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের কর্মীরা প্রতিদিন শ্যামবাজার থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা তোলে। ব্যবসায়ীরা এ চাঁদার টাকা ভোক্তাদের কাছ থেকে উসুল করায় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়।

নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবু তাহের বলেন, ছোট ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক শোষণের শিকার। এমন এমন সব মানুষকে চাঁদা দিতে হয়, তা কাউকে বলা যায় না। বললে হয়তো গুম হতে হবে, নয়তো মেরে ফেলবে।

টিম্বার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের তানভীর মাহমুদ দিপু বলেন, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গলে একটি লেবু ২ টাকায় বিক্রি হয়। এ লেবু ঢাকার খুচরা বাজারে ৩০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। এই দাম বৃদ্ধির কারণ চাঁদাবাজি। লেবু ট্রাকে তোলা থেকে শুরু করে পাইকারি বাজারে নামানো, খুচরা বাজারে যে স্থানে বিক্রি করছে সেখানেও চাঁদা দিতে হয়। এত ধাপে চাঁদা দেওয়ার কারণে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়।

মেঘনা গ্রুপের প্রতিনিধি তসলিম শাহরিয়ার বলেন, রমজানের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ভোজ্যতেল ও চিনির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে নির্বাচনকেন্দ্রিক ছুটির কারণে বন্দরে পণ্য খালাস, পরিবহণ ও কাস্টমস কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া সাপ্লাই-চেইনে অন্য কোনো সংকট নেই।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলেন, এবার রোজা শুরুর অল্প কিছুদিন আগেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ সময় নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এই ‘ট্রানজিশন পিরিয়ডে’ হয়তো জোরালোভাবে বাজার তদারকি করাও সম্ভব হবে না। কিছু অসাধু লোক এই সুযোগ নিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করতে পারে। তাই আগেভাগেই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

এফবিসিসিআই প্রশাসক আবুদর রহিম খান বলেন, এবার ভোগ্যপণ্যের আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি গত ২-৩ বছরের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। সরবরাহে যাতে ঘাটতি না হয় সেজন্য তিনি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরোধ জানান। তিনি আরও বলেন, বাজারে বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশের আইজি ও ঢাকার কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হবে। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার ও এফবিসিসিআই’র মনিটরিং টিম নিয়মিত কাজ করবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম