কৃষকদের উৎপাদনের অপচয় কমাবে ‘প্রজেক্ট অ্যাগ্রো ব্যাংকিং’

  যুগান্তর ডেস্ক ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ২১:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

কৃষকদের উৎপাদনের অপচয় কমাবে ‘প্রজেক্ট অ্যাগ্রো ব্যাংকিং’
কৃষকদের উৎপাদনের অপচয় কমাবে ‘প্রজেক্ট অ্যাগ্রো ব্যাংকিং’

কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের অপচয় কমিয়ে তাদেরকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে সুপার শপ স্বপ্ন এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) যৌথভাবে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করলো “প্রজেক্ট অ্যাগ্রো ব্যাংকিং”। এর মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি দিয়েই ইউক্যাশে সঞ্চয় করতে পারবে। এতে করে নিজেদের উৎপাদিত বাড়তি ফসলগুলো এখন আর অপচয় হবে না।

সম্প্রতি যশোরের পীরের হাট এবং শাহবাজপুর গ্রামে হয়ে গেলো প্রজেক্টটির পাইলট প্রকল্প। এই প্রজেক্টের আওতায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি “অ্যাগ্রো ব্যাংকিং প্রজেক্ট” এর কালেকশন পয়েন্টে নিয়ে আসে। সেখানে সুপার শপ স্বপ্ন তাদের নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে পণ্যগুলো ক্রয় করে নেয়। স্বপ্নের কাছে বিক্রিত পণ্যের মূল্য সরাসরি জমা হয়ে যায় কৃষকদের ইউক্যাশ অ্যাকাউন্টে, আর তাদের উৎপাদিত পণ্যগুলোই হয়ে যায় তাদের সঞ্চয়।

কৃষকদের কাছ থেকে সংগৃহীত এই সতেজ পণ্যগুলো স্বপ্নের কর্মীরা তাদের আউটলেটে সরবরাহ করেন। যা দ্রুত সময়ের মধ্যেই পৌঁছে যায় সারাদেশের ভোক্তাদের দোরগোড়ায়। “প্রজেক্ট অ্যাগ্রো ব্যাংকিং” প্রসঙ্গে স্বপ্নের একজন মুখপাত্র বলেন – “আমরা তাজা সবজি, ফল, মাছ, হাঁস-মুরগী সবই সংগ্রহ করছি প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে, এতে যেমন আমাদের ভোক্তারা তাজা, ফ্রেশ এবং উন্নতমানের পণ্য পাচ্ছেন, তেমনি কৃষকরাও পাচ্ছে পণ্যের ন্যায্য মূল্য”।

ইউক্যাশ এর একজন প্রতিনিধি বলেন “আমাদের লক্ষ্য দেশের প্রান্তিক কৃষকদেরকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসা, এতে কৃষকরা যেমন তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবে, তেমনি তাদের ব্যাংকিং হিস্ট্রিও তৈরি হবে এবং দেশের মূলধারার অর্থনীতিতে তাদের অন্তর্ভুক্তি হবে।

“প্রজেক্ট অ্যাগ্রো ব্যাংকিং” তাদের জীবনে কিরকম প্রভাব ফেলতে পারে এমন প্রশ্নে কৃষকদের একজন জানান “আগে ফসল বেশি হইলে ন্যায্য মূল্য পাইতাম না, এখন এইখানে সঠিক দর পাইতেছি। আবার ফসলের টেকা ইউক্যাশেও জমা হইতেছে। তাতে কিছু সঞ্চয়ও হইবো”।

অন্য একজন জানান, বছরে কয়েক মাস ভালো ফসল হয়, বাকি সময় ফসল না থাকলে সংসারে অভাব অনটনে পড়তে হয়, এখন “প্রজেক্ট অ্যাগ্রো ব্যাংকিং”-এর ফলে টাকা সঞ্চিত থাকলে অভাবের দিনে এখান থেকে টাকা তোলা যাবে, আবার চাষের পরিমাণ বড় করতে চাইলেও ভবিষ্যতে সুযোগ পাওয়া যাবে।

স্বপ্ন এবং ইউসিবি’র যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত “প্রজেক্ট অ্যাগ্রো ব্যাংকিং”-এ কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ক্ষেতের শাক-সবজি, পুকুরের মাছ, মাচার লাউ, খোঁপের হাঁস-মুরগি-ডিম থেকে শুরু করে গাছের আম-কাঁঠাল, ফুল-ফল যেকোনো কিছুই জমা দিলে স্বপ্ন সেগুলোর ন্যায্য মূল্য কৃষকের নিজের ইউক্যাশ অ্যাকাউন্টে জমা করে দিবে । এই টাকা কৃষকরা যেকোনো সময় তুলে ফেলতে পারবেন।

সংগৃহীত এই পণ্যগুলো স্বপ্ন সুপার শপ তাদের সবগুলো আউটলেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিবে পুরো দেশে। এত করে এক এলাকার পণ্য ভোগ করতে পারবে দেশের যেকোনো এলাকার মানুষ।

এই প্রজেক্ট বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। আগে যেখানে অনেক ফসল ক্ষেতেই নষ্ট হতো, সেখানে এখন কৃষকরা ঝুড়ি ভর্তি করে অ্যাগ্রো ব্যাংকিং প্রজেক্টে সবজি নিয়ে আসতে পারবে এবং ন্যায্য মূল্য পাবে। ফলে কৃষক এবং ভোক্তাদের মাঝখান থেকে কমবে মধ্যস্থ কারবারির দৌরাত্ম্য।

“প্রজেক্ট অ্যাগ্রো ব্যাংকিং” কৃষকের মুখে যেমন হাসি ফোটাতে পারে, তেমনি সচল করতে পারে দেশের অর্থনীতির চাকাও। এর ফলে দরিদ্র কৃষকও এখন দেশের অর্থনীতিতে সক্রিয় অবদান রাখতে পারবে। এক সময়ের কৃষকের বাংলাদেশ নামে পরিচিত এ দেশ আবারও “প্রজেক্ট অ্যাগ্রো ব্যাংকিং”-এর মাধ্যমে কৃষকের হাত ধরেই সামনে আগোনোর স্বপ্ন দেখতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×