অর্থ ও প্রযুক্তি খাতে যুগান্তকারী উদ্ভাবনের স্বীকৃতি পেলো ডিমানি

  যুগান্তর রিপোর্ট ০১ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

অর্থ ও প্রযুক্তি খাতে যুগান্তকারী উদ্ভাবনের স্বীকৃতি পেলো ডিমানি
অর্থ ও প্রযুক্তি খাতে যুগান্তকারী উদ্ভাবনের স্বীকৃতি পেলো ডিমানি

অ্যাপাক বিজনেস হেডলাইনস ম্যাগাজিন ডিমানি বাংলাদেশ লিমিটেডকে এ বছরের সম্ভাব্য ‘শীর্ষ দশ ওয়ালেট’-এ তালিকাভুক্ত করেছে বলে আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে ডি মানি বাংলাদেশ। শীর্ষ দশের এ তালিকায় দক্ষিণ এশিয়া থেকে স্থান পাওয়া একমাত্র ওয়ালেট ডিমানি।

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রযুক্তি ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট খাতের প্রবণতা এবং এ খাতের সিআইও, সিএক্সও সহ নীতি-নির্ধারকদের মতামত ও প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করে অ্যাপাক বিজনেস হেডলাইনস। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ফিনটেক খাতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এ ম্যাগাজিনের ইস্যুতে।

কীভাবে ওয়ালেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিশেষত্ব, বিপণন কৌশল ও উদ্ভাবনী পণ্যের মাধ্যমে প্রযুক্তি খাতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠছে এ বিষয়ে আলোকপাত করেছে অ্যাপাক। তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডিমানি ফিনটেক খাতে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অ্যাপাক বিজনেস হেডলাইনসে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপান্তরে ডিমানির ভবিষ্যতের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। সিলিকন ভ্যালি ফেরত সোনিয়া বশির কবির ও আরিফ বশির ডিমানি সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠানটিতে চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন স্বনামধন্য উদ্যোক্তা অঞ্জন চৌধুরী।

প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া বশির কবির। ২০১৬ সালে বিল গেটসের কাছ থেকে সম্মানজনক ‘ফাউন্ডারস অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার পান সোনিয়া বশির কবির। মাইক্রোসফটের এক লাখ কর্মীদের মধ্যে থেকে ১০ জনকে প্রতিবছর এ পুরস্কার দেয়া হয়।

এ পুরস্কার জেতার পাশাপাশি, সোনিয়া বশির কবির ২০১৭ সালে জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্টের বৈশ্বিকভাবে ‘টেকসই উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা ১০’ জনের একজন বলেও স্বীকৃতি লাভ করেন।

সোনিয়া বশির কবির বলেন, একটি দেশকে অনুন্নত দেশের থেকে মধ্যম আয়ের দেশে আরোহণের ক্ষেত্রে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি (পেমেন্ট সুবিধা অন্যতম বিবেচনায়) খুবই গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমরা আমাদের যাত্রা শুরু করি। পরে বুঝতে পারি অন্তর্ভুক্তিকে বৈশ্বিকভাবে দেখার ব্যাপারটা একটি ক্ষীণ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। বিষয়টা হয় অন্তর্ভুক্তির ভেতরে অথবা বাইরে।

তিনি বলেন, মূল সমস্যা হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানদের নিয়ে ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা এবং তাদের কার্যকরী পরিচালনা ও সফলতায় পণ্য ও সেবা প্রদান করা। আমরা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি থেকে আর্থিকভাবে ভালো থাকায় ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে তৈরিতে আমাদের ব্যবসায়িক কৌশল বিস্তৃত করছি।

এ ইকোসিস্টেমে আমরা যে উদ্ভাবন দেখি তাই নিয়েই আমরা ডিমানিতে কাজ করেছি। আগামী সেপ্টেম্বরে ডি মানির উদ্বোধনের সময় আমরা আরও উদ্ভাবন ও টেক ডিসরাপশন নিয়ে আসবো বলে উল্লেখ করেন সোনিয়া বশির কবির।

অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে আমরা এ তালিকায় থাকতে পেরে সম্মানিত। সামনের দিনগুলোতে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ডিমানি অনেক সম্ভাবনা ও প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করছে। আমরা আমাদের নিজেদের সফটওয়্যার তৈরি করেছি এবং এক্ষেত্রে আমাদের শতভাগ মেধাসত্ত্ব রয়েছে। আমাদের নিজস্ব গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি), কাস্টমার সাকসেস টিম এবং বিশ্বাসযোগ্য ব্যবসায়িক অংশীদারদের নেটওয়ার্ক রয়েছে, বলেন সোনিয়া বশির কবির।

প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ বশির বলেন, বাংলাদেশের বাজার অনেক বড়, কিন্তু সুবিধাবঞ্চিত। এ মুহূর্তে ডিজিটাল লাইফস্টাইল ও আর্থিক সেবার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এ চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে এ চাহিদা পূরণই ডিমানির লক্ষ্য। ডিমানি ইকোসিস্টেম ও অংশীদার তৈরিতে কাজ করবে এবং নগদ অর্থ থেকে ডিজিটাল রূপান্তরে বাধা দূরীকরণেও প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সোনিয়া বশির কবির ও আরিফ বশিরের নেতৃত্বে বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে ডিমানি। প্রতিষ্ঠানটি দেশের ডিজিটাল আর্থিকখাতে নজির স্থাপনে অংশীদারিত্ব তৈরিতে কাজ করছে।

ধীরে ধীরে নগদ অর্থবিহীন ডিজিটাল অর্থনীতির রূপান্তরে প্রতিকূলতা দূরীকরণে ডিমানির প্রতিষ্ঠা। এক্ষেত্রে, প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিলো প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরি করা যেন অংশীদার, অংশীজন ও গ্রাহকরা একটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, বলেন আরিফ বশির।

অ্যাপাক বিজনেস হেডলাইনস তাদের লেখায় শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিমানির সামর্থ্যের ব্যাপারে আলোকপাত করেছে। তারা লিখেছে, ‘গ্রাহক ও অংশীদার কথা ভেবে তৈরি ডিমানি একটি এপিআই-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। একইসাথে প্ল্যাটফর্মটি নিরাপদ, শক্তিশালী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য।

আইটিতে ব্যাংকিং ও পেমেন্ট এবং নিরাপত্তায় ডিমানি, পিসিআই-ডিএসএস এবং পিএ-ডিএসএস নীতিমালা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়াও, এর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও কমপ্লায়েন্স দল গ্রাহকদের আস্থা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে প্ল্যাটফর্মের প্রতিটি ধাপেই অডিট করে।

ডিমানি শীর্ষস্থানীয় সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক ওডব্লিউএএসপি পরীক্ষিত এবং এ প্ল্যাটফর্মে রিয়েল টাইম ডাটা রেপ্লিকেশন ও ব্যাকআপ সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও, এটা নিশ্চিত করবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন।

সোনিয়া বশির কবির বলেন, ডিমানির প্ল্যাটফর্মে মূল বিষয়গুলো হলো সুরক্ষা, ইন্টারনাল কমপ্লায়েন্স এবং কাজের পরিধি ও সামর্থ্য। আমাদের একদল নিবেদিত সফটওয়্যার প্রকৌশলী রয়েছে যারা নিরলসভাবে প্রতি মিনিটে ট্রানস্যাকশন স্ট্রেস টেস্ট, অবৈধ লেনদেনের সম্ভাব্য সমস্যা ও বিভিন্ন ধাপে সুরক্ষা নিশ্চিত করে নিরাপদ ডিমানি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×